Muslim Voter: খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে 'M ফ্যাক্টর', হিসেব লুকিয়ে এই কলকাতার এই আসনগুলিতেও

কলকাতাতেও একাধিক আসনে মুসলিম ভোটার বড়সড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। কোন কোন আসনে এমনটা ঘটতে পারে? কী বলছে আসনগুলির পরিসংখ্যান। রইল বিস্তারিত ব্যাখ্যা...

Advertisement
খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে 'M ফ্যাক্টর', হিসেব লুকিয়ে এই কলকাতার এই আসনগুলিতেওমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
হাইলাইটস
  • মুসলিম ভোটার বড়সড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে
  • কোন কোন আসনে এমনটা ঘটতে পারে?
  • কী বলছে কলকাতার আসনগুলির পরিসংখ্যান

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সব দলেরই পাখির চোখ মুসলিম ভোট। হবে না-ই বা কেন! যে রাজ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটার, সেই রাজ্যে 'ইহায় আর আশ্চর্য কী!'। কলকাতাতেও মুসলিম ভোটার নিছক কম নয়। শহরের এমন কয়েকটি আসন রয়েছে, যেখানে সংখ্য়ালঘু ভোটব্যাঙ্কই বড় ফ্যাক্টর। কোন কেন্দ্রগুলির কথা বলা হচ্ছে? 

একুশের ফলাফলের পর ছাব্বিশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেকটাই পরিবর্তিত। আর এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনই এক একটি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণটাই বদলে দিতে পারে। এবার কলকাতার রাজনৈতিক কারবারিদের মধ্যে একটি শব্দই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, 'এম ফ্যাক্টর'। অর্থাৎ মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক। 

শহরের নির্বাচনী চিত্রে দেখা গিয়েছে, মুসলিম ভোটাররা স্থান-কালের ভেদে ভিন্ন মনোভাবের। কলকাতা বন্দর, বালিগঞ্জ ও এন্টালির মতো আসনে মুসলিমদের প্রভাব সরাসরি নির্ণায়ক। অন্যদিকে, ভবানীপুর, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো এবং কাশিপুর-বেলগাছিয়ায় তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

অপরদিকে, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, কসবা, মানিকতলা, রাসবিহারী, বেহালা পূর্ব ও বেহালা পঞ্চিমের মতো আসনগুলিতে মুসলিমদের প্রবাব তুলনামূলক ভাবে সীমিত বলে মনে করা হয়। 

কোন কোন আসনে 'এম ফ্যাক্টর'? 
কলকাতার এক একটি বিধানসভা কেন্দ্র মুসলিম জনসংখ্যার পরিসংখ্যান ভিন্ন। এর উপর ভিত্তি করে তাদের নির্বাচনী প্রভাবও ভিন্ন হয়। মেটিয়াবুরুজ কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ যা সেখানে 'এম ফ্যাক্টর'-কে সম্পূর্ণ রূপে প্রবাবশালী করে তোলে। 

কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫১ শতাংশ এবংবালিগঞ্জে প্রায় ৫০ শতাংশ মুসলিম ভোটার থাকায় এই আসনগুলি সরাসরি নির্ণায়ক। এছাড়াও এন্টালি ও চৌরঙ্গীর মতো নির্বাচনী এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ। বেলেঘাটায় প্রায় ২৫ শতাংশ এবং জোড়াসাঁকো ও কাশিপুর-বেলগাছিয়ায় প্রায় ২০ শতাংশ। 

এই নির্বাচনী এলাকাগুলিতে মুসলিম ভোটাররা একটি সুইং ফ্যাক্টর বা নির্ধারক ভূমিকা পালন করেন। অর্থাৎ এই পরিসংখ্যান নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিতে পারে। টালিগঞ্জ, যাদবপুর, কসবা, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম এবং মানিকতলার মতো নির্বাচনী এলাকাগুলিতে মুসলিম জনসংখ্যা ১০ শতাংশেরও কম। ফলে সেখানে মুসলিম প্রভাব বেশ সীমিত। 

Advertisement

একুশের নির্বাচনে কলকাতার ১৭টি আসনের সবক'টিতেই তৃণমূল এগিয়ে ছিল। নির্বাচনী তথ্য থেকে এ-ও দেখা যায়, যেসব এলাকায় মুসলিম ভোটার বেশিষ সেখানে তৃণমূল অন্য যে কোনও দলের চেযে উল্লেখযোগ্য ভাবে এগিয়ে ছিল। 

মেটিয়াবুরুজ, কলকাতা বন্দর এবং বালিগঞ্জের মতো আসনগুলিতে তৃণমূল প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। BJP বেশ কয়েকটি শহরে ২৫-৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র রেখেছে। 

ভবানীপুরে মুসলিম ভোটারদের প্রভাব?
ভবানীপুর আসনটি এবার কলকাতার অন্যতম চর্চিত আসন। সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা মমতা এবং শুভেন্দুর মধ্যে। এছাড়াও ভোটে লড়ছেন CPIM-এর শ্রীজীব বিশ্বাস, কংগ্রেসের প্রদীপ প্রসাদ এবং হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির পুনম বেগম। 

একুশে মমতা ৭১.৯০ শতাংশ ভোট পেয়ে BJP প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালকে পরাজিত করেন ৮৫ হাজার ২৬৩ ভোটে। এখানে ৭৬ শতাংশ ভোটার হিন্দু, যাদের মধ্যে ৪২ শতাংশ বাঙালি এবং ৩৪ শতাংশ অবাঙালি। প্রায় ২৪ শতাংশ ভোটার মুসলিম। 

কলকাতা বন্দর
কলকাতা বন্দর বিধানসভা আসনে প্রায় ৫১ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম ধারাবাহিক ভাবে একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন। একুশে পেয়েছিলেন ৬৯.২৩ শতাংশ ভোট। BJP পেয়েছিল ২৪.২৬ শতাংশ। ২০১৬ সালে ফিরহাদের 'মিনি পাকিস্তান' মন্তব্য ফের ছাব্বিশের নির্বাচনেও চর্চায় এসেছে। 

বালিগঞ্জ
এই আসনে প্রায় ৫০ শতাংশই মুসলিম ভোটার। ২০১১ থেকে এই আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। ছাব্বিশের নির্বাচন এই আসনে বহুমুখী। তৃণমূলের প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। CPIM-এর বাজি আফরিন শিল্পী। BJP টিকিট দিয়েছে শতরূপাকে এবং কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন রোহন মিত্র। 

হিন্দিভাষী মুসলিমদের গুরুত্ব
শহরের অনেক এলাকায় উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম পরিবার বসবাস করেয যাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারগুলি স্থানীয় বাঙালি মুসলিম ভোটারদের থেকে কিছুটা ভিন্ন। এই ভোটাররা মেটিয়াবুরুজ, কলকাতা বন্দর, ভবানীপুরের মতো নির্বাচনী এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। 


 

POST A COMMENT
Advertisement