হুমায়ুন কবীর২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীরের ভিডিও নিয়ে উত্তাল রাজনৈতিক মহল। এই ভিডিও সত্যি না AI তা নিয়ে শুরু হয়েছে তরজা। শুরুতে বিজেপি নেতার সঙ্গে কথপকথনের এই ভিডিও AI দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও, শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই ভিডিও-র সত্যতা কার্যত স্বীকার করে নিলেন হুমায়ুন। এর আগে নরেন্দ্র মোদীও নাম না করে এই ভিডিওকে AI দিয়ে বানানো বলেই জানিয়েছিলেন।
কী বললেন হুমায়ুন?
সরাসরি না বললেও হুমায়ুন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, তাঁর কাছে আরও ফুটেজ রয়েছে। হুমায়ুন বলেন, 'ভিডিওতে সামনাসামনি অর্থাৎ আপনার বা আমার ছবি, নরেন্দ্র মোদীর ছবি বা অমিত শাহের ছবি কার সঙ্গে কথা বলছি তা কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। শুধু আমি কথা বলছি সেটা দেখা যাচ্ছে। অপর দিকে হিন্দিতে কথা বলছে, আমিও তার উত্তর হিন্দিতেই দিচ্ছি। সেটা আমার কাছে ডকুমেন্টস আছে প্রায় ৫৮ মিনিটের। আর ভিডিও দেখানো হয়েছে ১৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের। আমি পুরো ভিডিও সামনে আনবো।'
মোদীর মুখেও AI ভিডিও
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জঙ্গীপুরের সভায় দাবি করেন, 'ভোেট যত এগোচ্ছে, তৃণমূল পরাজয় দেখতে পাচ্ছে। তাই ওরা AI-কে কাজে লাগিয়ে ভুয়ো ভিডিও বানিয়ে মিথ্যা প্রচার শুরু করেছে। অসম আর পুদুচেরীতেও একইরকম কাজ হয়েছে। আমি আপনাদের সতর্ক করছি, এগুলোতে বিভ্রান্ত হবেন না। দলে দলে ভোট দিতে বেরোন। BJP-কে জয়ী করুনা'
'শুধু হিন্দুরাই নেতা থাকবে'
এরপর হুমায়ুন আরও বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ি থেকে লোক পাঠিয়ে একজন মহারাজের বেশে এবং একজন সাংবাদিক সেজে, সে দিল্লির সাংবাদিক, অভিষেকের লোক। সেই সাংবাদিককেও তুলে আনবো। এবং এই মহারাজকেও তুলে আনবো আপনাদের সামনে। এটা প্ল্যান, হুমায়ুন কবীরকে মুসলমানদের নেতা হতে দেবে না। ভারতবর্ষের সংবিধানে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরাই নেতা থাকবে।'
আদালতে মামলা করতে চলেছেন হুমায়ুন
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হুমায়ুন জানান, 'তৃণমূল টাকা দিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করাচ্ছে।' ভোটের আগে জোট হওয়া এআইএমএম-কে নিশানা করেছেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, 'মিমও টাকা খাচ্ছে।' নিজের ভুল স্বীকার করে হুমায়ুন আরও জানান, 'আমারও ভুল হয়েছে, আগে দেখে বুঝে নেওয়া উচিত ছিল।' পাশাপাশি আজই হাইকোর্টে এই ভিডিও নিয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়ে দিলেন হুমায়ুন।
পাল্টা দিল তৃণমূলও
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পাল্টা দিল শাসক দল তৃণমূল। এক্সে পোস্ট করে জানানো হল, 'একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিওতে হুমায়ুন কবিরকে ক্যামেরার সামনে এমন দাবি করতে দেখা গেছে যে, @BJP4India তাকে ১,০০০ কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাংলার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি শুভেন্দু অধিকারী, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, মোহন যাদব এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখছিলেন। এই বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকে হুমায়ুন মরিয়া হয়ে দাবি করে আসছেন যে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর মাধ্যমে তৈরি। আর আজ, @narendramodi স্বয়ং এই দাবি করে হুমায়ুনের প্রতি নিজের সমর্থন জানিয়েছেন যে, বর্তমানে AI-সৃষ্ট ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইমাত্র হুমায়ুন কবিরকে রাজনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করলেন। বিজেপি এবং হুমায়ুন কবিরের মধ্যকার এই 'অপবিত্র আঁতাত' এখন আর নিছক কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়। মোদীর নিজের বক্তব্যের মাধ্যমেই তা আজ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো।'