মিম ও জনতা উন্নয়ন পার্টির জোটবিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট গড়ল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)। এই নিয়ে আজ কলকাতার একটি বেসরকারি হোটেল ওয়েইসির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এই সাংবাদিক বৈঠকে ওয়েইসি স্পষ্ট করে দেন, হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধেই পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এআইএমআইএম।
ওয়াইসি বলেন, 'এআইএমআইএম জোট করছে হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে। দু একটি সিট আছে আলোচনায়। বাকি সব ঘোষণা হবে শীঘ্রই। রাজ্যে সংখ্যালঘু নেতা নেই যেখানে, সেখানে মানুষের অসুবিধা রয়েছে। আগামী দিনেও এই জোট থাকবে।' অন্যদিকে ওয়াইসিকে ‘দাদা’ সম্বোধন করেন হুমায়ুন। বলেন, 'ওয়াইসি আমার বড় ভাই। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আমরা যৌথভাবে অংশ নেব। আজ সব প্রার্থীর নাম ঘোষণা হবে। ২০টি মিছিলে সামিল হবেন ওয়াইসি। ১ এপ্রিল বহরমপুর থেকে শুরু হবে মিছিল। মুর্শিদাবাদ, আসানসোল, কলকাতাতেও হবে মিছিল। বিহার, হায়দরাবাদবাদ থেকে ‘মিম’ নেতারাও আসবেন এই মিছিলে যোগ দিতে।'
এর লক্ষ্য মুসলিম নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসা
এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে শক্তিশালী নেতৃত্ব যেন গড়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রচেষ্টা। আমরা কতগুলি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, তা স্থির করে ফেলেছি। এই জোট শুধু এই নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই এটি গঠন করা হয়েছে।'
সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন কবির বলেন, 'আমরা একসঙ্গে জনসভা করব। আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব। এই জোট জনগণের মাঝে আমাদের জন্য একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হবে। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো এই রাজ্যে মুসলিম নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসা।' ওয়াইসিও জোর দিয়ে বলেন যে এই জোট শুধু নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা আরও প্রসারিত হবে। দুই নেতা একসঙ্গে রাজ্যজুড়ে ২০টি র্যালির ঘোষণা করেছেন।
মমতাকে নিশানা
ওয়েইসি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তাঁর রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওয়েইসি জানতে চেয়েছেন, গুজরাত দাঙ্গার সময় তিনি কোথায় ছিলেন এবং তাঁর ইদের নমাজ পড়লে মুসলমানদের খাবারের জোগান মিলবে কি না। সাংবাদিক সম্মেলনে ওয়াইসি ঘোষণা করেন যে, তার দল এআইএমআইএম এবং জেইউপি একসঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি আরও জানান যে, দুই দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগির একটি সূত্রও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই জোটের পেছনের উদ্দেশ্যও ব্যাখ্যা করেছেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হবে বাংলার সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে আসা। এই জোট ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।'
ক্ষুব্ধ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি
ওয়াইসি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের 'মুসলিমপন্থী' ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন, 'ইদে নমাজ পড়ার বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান কি মুসলমানদের খাওয়াবে?' এই প্রসঙ্গে ওয়াইসি গুজরাত দাঙ্গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, 'গুজরাত দাঙ্গার সময় মমতা কী করছিলেন? তিনি কি ধোকলা খাচ্ছিলেন?'