
নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রগুলিকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ধারণে একাধিক মানদণ্ড ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন। আগের নির্বাচনে কোথাও গণ্ডগোল, ভোটারদের হুমকি বা শাসানির অভিযোগ থাকলে সেই বুথগুলিকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি, কোনও বিধানসভা এলাকায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, মদ বা মাদক বাজেয়াপ্ত হলে সেটিকে ‘অর্থনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর’ হিসেবে ধরা হয়।
এই নিয়ম মেনেই এবার কলকাতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র, টালিগঞ্জ, কসবা এবং বেলেঘাটাকে ‘অর্থনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর’ তালিকায় রাখা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
এর মধ্যে কসবা কেন্দ্রটি নিয়ে বরাবরই প্রশাসনের উদ্বেগ বেশি। অতীতে এই এলাকা থেকে প্রচুর পরিমাণ নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সেই কারণেই গত লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে দু’জন ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’ নিয়োগ করা হয়েছিল। এবারও কসবাকে ঘিরে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
একইভাবে টালিগঞ্জ ও বেলেঘাটা বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশ পর্যবেক্ষকরা এই এলাকাগুলির অপরাধের রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছেন।
জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কর্তারা খুব শিগগিরই আয়কর দফতর, নারকোটিক্স ও ইডি-সহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে বাজেয়াপ্ত টাকা, মদ ও মাদকের পরিমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এক প্রশাসনিক আধিকারিকের কথায়, গত এক বছরে কোনও এলাকায় কত পরিমাণ নগদ অর্থ বা মাদক উদ্ধার হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই নিরিখেই টালিগঞ্জ, কসবা ও বেলেঘাটাকে আপাতত ‘অর্থনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর’ তকমা দেওয়া হয়েছে।