কলকাতা পুলিশের নাকা চেকিংভোটের আগে কলকাতায় বাজেয়াপ্ত প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। এমনটাই জানাল কলকাতা পুলিশ। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বুধবার প্রগতি ময়দান ও হেয়ার স্ট্রিট থানা এলাকায় একাধিক জায়গায় নাকা চেকিং চলছিল। SST ও FST টিম স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে এই নাকা চেকিং চালাচ্ছিল। তারা সেই সময় একাধিক গাড়ির তল্লাশি চালায়। আর এই অভিযানে বিভিন্ন জায়গা থেকে অঘোষিত নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। মোট বাজেয়াপ্ত অঘোষিত নগদের পরিমাণ ৬,৪৫,৫০০ টাকা। আর এই সব টাকা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর।
মাথায় রাখতে হবে, বাংলায় প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। আর এবার পশ্চিমবঙ্গে কড়া নিরাপত্তায় ভোট করাতে চাইছে কমিশন। সেই মতো অতিরিক্ত তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী। যতদূর খবর, আড়াই লক্ষের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের সময় এ রাজ্যে রয়েছে। তারা করছে রুট মার্চ। এমনকী এরিয়া ডমিনেশনও চলছে।
এমতাস্থায় জায়গায় জায়গায় চলছে কড়া নাকা চেকিং। কলকাতা সহ রাজ্যের সব জেলায় সন্দেহজনক গাড়ি দেখলেই আটকানো হচ্ছে। এমনকী পয়লা বৈশাখের দিনও খাস কলকাতাতে চলল এমন নাকা চেকিং। আর সেখানে উদ্ধার প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা।
এই সব টাকা উৎস কী, কী কাজে ব্যবহার হতো, সেই প্রশ্ন এখনও রয়েছে। আর তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে এভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নিয়ে চিন্তিত নিরাপত্তা বাহিনী। এই টাকার উৎসের খোঁজ করতে শুরু করেছে তাঁরা।
নিরাপত্তা নিয়ে জোর দিয়েছে
এবারের নির্বাচন কড়া হাতে পরিচালনা করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। তাই ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা বাংলা। দিকে দিকে চলছে তল্লাশি। দাগি আসামীদের নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পর্শকাতর বুথ এবং অতি স্পর্শকাতর বুথও চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে। সেই সব বুথ নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকছে কমিশন।
তবে এই চেকিং নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁর গাড়িও নাকি চেকিং করার জন্য এগিয়ে এসেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। এখানেই থেমে না তাঁর আরও অভিযোগ, শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের গাড়ি বেছে বেছেই তল্লাশি চলছে। বিজেপির গাড়ি করা হচ্ছে না। যদিও এই সব বিষয় নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি কমিশন।