মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সৎ ভাবে ব্যবসা করেন, তা সত্ত্বেও কেন আপত্তি তোলা হচ্ছে! কেন তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে! মঙ্গলবার হাবড়ায় ভোটের প্রচারে গিয়ে মঞ্চ থেকে চক্রান্তের অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের আঁকা ছবির জন্যও ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিন হাবড়ার বাণীপুরে বিআর আম্বেদকর মাঠে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একাধিক কেন্দ্রের প্রার্থীদের জন্য প্রচার করেন মমতা। সেখানে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দাবি করেন, 'বালুকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। বালুর মতো ভাল কাজ আমার সরকারে কেউ করেনি।'
তবে শুধু জ্যোতিপ্রিয়তেই থেমে থাকেননি তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবসা এবং তাঁর নিজের আঁকা ছবি নিয়ে কেন আপত্তি তোলা হয়, তা নিয়েও সরব হন তিনি। মমতা বলেন, 'আমি কেন আঁকতাম, সেটা নিয়েও প্রশ্ন করেছে। অভিষেক কেন ব্যবসা করবে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন। আর খাবে কী? ওর পরিবার নেই? চুরি করবে না ডাকাতি করবে? সৎভাবে ব্যবসা করবে, আপনার আপত্তি কেন? বিজনেসম্যানরা বিজনেস করবে না?'
উল্লেখ্য, 'লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস' সংস্থার নাম শিক্ষা দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। এই সংস্থার মাধ্যমেই টাকা লেনদেন হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করার অভিযোগে এই সংস্থা ED-র স্ক্যানারে। তল্লাশিও হয়েছে এই সংস্থার অফিসে। BJP সহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই সংস্থাটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালিকানাধীন।
তিনি ভোটারদের সতর্ক করে দেন। জানান, কুৎসা, অপ্রচার শুনে ভোট দেবেন না। তাঁর কথায়, 'যখন SIR-এর লাইনে আপনাদের সকলকে যেতে হয়েছিল, তখন কোথায় ছিল BJP, কংগ্রেস, CPIM? যারা একদিন CPIM করত, তারাই আজ BJP করে। গদাই, মাধাই, জগাই SIR -এর সময়ে কোথায় ছিল? কোনও ক্যাম্প করে সাহায্য করেছে? আমাদের BLO-1, ছাত্র-যুব, মহিলা, মতুয়া সেল সাহায্য করেছে রাস্তায় নেমে। এরা ভোটের সময়ে ভোট চাইতে আসে আর মানুষের অধিকার রক্ষার সময়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এরাই বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে, আমি শুনেছি। জেনে রাখুন, আমার সরকারে বালু যত ভাল কাজ করেছে, কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসে করে গ্রেফতার করেছিল, কোনও প্রমাণ পায়নি।'
রেশন দুর্নীতিতে জেলবন্দি ছিলেন তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মমতা তাঁকে ফের টিকিট দিয়েছেন হাবড়া থেকে। তাঁকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে মমতার সংযোজন, 'পচা CPIM পার্টি দেড় কোটি মানুষের নাম রেশনে ঢুকিয়েছিল। ওই মিথ্যে রেশন কার্ড, যা প্রায় ১ কোটি ছিল, ধরেছিল বালু। তাই ওকে চক্রান্ত করে ফাঁসিয়েছিল। ডিজিটাল রেশন করেছিল বালু, কাজটা এত হজ ছিল না। ছেলেটাকে ফাঁসানো হয়েছিল।'