মিলেনিয়াম পার্ক হঠাৎ মিলেনিয়াম পার্ক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হওয়ার খবর নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে শহরে। জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের রাজ্য দফতরের বিপরীতে এই জনপ্রিয় পার্কের এন্ট্রি পয়েন্ট হওয়ায় তা নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ জানাচ্ছে, বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে সত্য নয়। মিলেনিয়াম পার্কের ভিতর প্রবেশ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। তবে বন্ধ রাখা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট গেট। পাশাপাশি CEO দফতরের সামনে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও নির্দেশিকা রয়েছে।
মিলেনিয়াম পার্ক বন্ধ হচ্ছে?
শীতের পিকনিক হোক, গরমের বিকেলে ফুরফুরে হাওয়ায় আড্ডা হোক কিংবা যুগলের প্রেম, সেরা ঠিকানা মিলেনিয়াম পার্ক। সেখানে আচমকাই কেন তালা পড়ে যাচ্ছে? সকলেই এর উত্তর জানতে উদগ্রীব ছিলেন। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ১ নম্বর গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এই গেটের বিপরীতেই রয়েছে কমিশনের নয়া অফিস।
উল্লেখ্য, সদ্যই ঠিকানা বদল হয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের। নির্বাচন উপলক্ষে এখন সরগরম ওই এলাকা। SIR পর্ব থেকে নির্বাচনের ঘোষণা, কখনও বিক্ষুদ্ধ BLO-দের বিক্ষোভ, আবার কখনও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে রাজ্যের CEO দফতর। নিত্যদিনই সেখানে চলছে রাজনৈতিক দলগুলি বিক্ষোভ কর্মসূচি কিংবা দফতরে ডেপুটেশন দিতে বা অভিযোগ জানাতে যাচ্ছেন নেতা-নেত্রী, প্রার্থীরা। গত ৩১ মার্চ, স্ট্র্যান্ড রোডের সামনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে তুমুল গন্ডগোল হয়। কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। ফলত মিলেনিয়াম পার্ক চত্বরটি এখন হাই প্রোফাইল হয়ে উঠেছে। তবে ২ এবং ৩ নম্বর গেট খোলা থাকছে। নর্থ পোর্ট থানার তরফে জানানো হচ্ছে, এই দুই গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। সম্পূর্ণরূপে পার্ক বন্ধের খবর সঠিক নয়।
জেটি বন্ধ
নিরাপত্তার স্বার্থে পার্ক সংলগ্ন শিপিং জেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ শিপিংয়ের জেটি থেকে লঞ্চ ধরে সহজে গঙ্গা পারাপার করেন। কেউ ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে হাওড়া থেকে জলদি ট্রেন ধরতেও এখান থেকেই লঞ্চ ধরেন। তাঁদের ফেয়ারলি প্লেস দিয়ে ঘাট থেকে লঞ্চ নেওয়ার পরামর্শ।
যান নিয়ন্ত্রণ
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, CEO অফিসের বাইরে জমায়েত ঠেকাতে স্ট্র্যান্ড রোড দিয়ে চলাচলকারী সব গাড়ি বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনে এই রাস্তা বন্ধ থাকলে যানজটের আশঙ্কা থাকছে। জানানো হয়েছে, যে সব গাড়ি বাবুঘাটের দিক থেকে এসে স্ট্র্যন্ড রোড ধরে হাওড়া যেন, সেগুলিকে কিংস ওয়ে দিয়ে ঘুরিয়ে ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিট, বিবাদি বাগ (সাউথ), কয়লাঘাট দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। ছোট গাড়িগুলিকে কিরণশঙ্কর রায় রোড, কাউন্সিল হাউস স্ট্রিট, বিবাদি বাগ হয়ে স্ট্র্যান্ড রোড ধরে হাওড়ার দিকে পাঠানো হচ্ছে।
CEO অফিসে অশান্তির জেরে স্ট্র্যান্ড রোড সহ একাধিক জায়গায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পুরোনো ১৪৪ ধারা) প্রয়োগ করা হয়েছে। বন্ধ করে রাখা হয়েছে স্ট্র্যান্ড রোডের একাংশ।