মীনাক্ষী মুখাপোধ্যায় জীবনের প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে মমতা বনাম শুভেন্দুর দ্বৈরথের মধ্যে পড়েছিলেন। একুশের ভোটে তিনি ছিলেন নন্দীগ্রামে বামেদের প্রার্থী। ভোটবাক্সে দাগ কাটতে পারেনি, জামানত জব্দ হয়েছিল তাঁর। তবে নজর কেড়েছিলেন। এবার সেই মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে উত্তরপাড়া থেকে টিকিট দিয়েছে CPIM। শূন্যের গেরো কাটাতে মীনাক্ষীই বড় ভরসা লাল পার্টির। ৫ বছরে বামেদের 'ক্যাপ্টেন'-এর সম্পত্তিও বেড়েছে। বেড়েছে মামলার সংখ্যাও। কী বলছে উত্তরপাড়ার CPIM প্রার্থীর হলফনামা?
শ্রীরামপুর মহকুমাশাসকের দফতরে ইতিমধ্যেই মনোনয়ন পেশ করেছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। যেখানে দেখা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম এবং উত্তরপাড়ার লড়াইয়ের মাঝে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ৪ গুণ বেড়েছে।
হলফনামায় কী কী রয়েছে?
> মিনাক্ষীর নিজের নামে কোনও জমিজমা নেই।
> সোনাদানাও নেই মীনাক্ষীর।
> একটি স্কুটার রয়েছে নিজের নামে। ১২ বছর আগে কেনা সেটি। এখন সেটির দাম ২০ হাজার ৮৮০ টাকা।
> দলের থেকে মাসিক ভাতা পান তিনি। সেটাই আয়ের একমাত্র উৎস। তবে সেই ভাতার পরিমাণ কত, তা উল্লেখ নেই হলফনামায়। ৫ বছর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ৫ হাজার টাকা করে পান হোলটাইমার হিসেবে।
> ২০২৬ সালের হলফনামা বলছে, মিনাক্ষীর মোট ৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪৫৬ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
> এর মধ্যে হাতে নগদ রয়েছে ২ হাজার টাকা।
> ৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১৫ হাজার, ৮ হাজার ৮৪৬ এবং ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৯৫ টাকা। পিপিএফ অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৬০ হাজার ৯৪০ টাকা।
> হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ রয়েছে। যাঁর বর্তমান মূল্য ৯৬ হাজার ৮৯৫ টাকা।
> LIC-তে ২ লক্ষ টাকার একটি বিমান রয়েছে তাঁর। সেটির জন্য ৬ মাস অন্তর প্রিমিয়াম দেন ৪ হাজার ৮৪৭ টাকা।
মামলার সংখ্যা
নন্দীগ্রামের ভোটে লড়াইয়ের আগে মিনাক্ষীর বিরুদ্ধে ২টি FIR ছিল। গত ৫ বছরে সেই FIR-এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৯। সম্পত্তি নষ্ট, বেআইনি জমায়েত, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, মারপিট করার মতো অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বেআইনি ভাবে জড়ো হয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে মীনাক্ষীর নামে। কোনওটিতেই এখনও চার্জ গঠন হয়নি।
মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ২০০৭ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। ২০১০ সালে পাশ করেছেন BED-ও।