ভোটের আগে বাংলায় কড়া নির্বাচন কমিশনবিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে লাগু হয়েছে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি। আর তার পর থেকে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মদ, মাদক দ্রব্য এবং সোনাও বাজেয়াপ্ত করল নির্বাচন কমিশন। EC-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৮১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের দেওয়া সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে বেআইনি রাজনৈতিক প্রচারের বিরুদ্ধেও ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। সেই অভিযানে ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯৮৬টি পোস্টার, ব্যানার ও দেওয়াল লিখন সরানো হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে এই অভিযান সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
ইলেকশন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য জুড়ে নজরদারির জন্য ১ হাজার ৮৭৯টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ২ হাজার ২১৩টি স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এই দলগুলি গাড়ি তল্লাশি থেকে শুরু করে অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। কমিশন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া নজর রাখছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬৭টি অবৈধ অস্ত্র, ১৬টি কার্তুজ এবং ৩৩টি বোমা উদ্ধার হয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৫২ হাজারের বেশি অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ইতিমধ্যেই জমা পড়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ২৯৪টি আসনে ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে ভোটের রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে ৪ মে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে যাতে কোনও হিংসা না হয়, আইনশৃঙ্খলা যাতে সুরক্ষিত থাকে, তা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রসঙ্গে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, 'আইন মেনে ভারতের নির্বাচন পরিচালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গেও অবাধ, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।' সেই মতো সব ধরনের ব্যবস্থাও কমিশন গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমেই রাজ্যর শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং পুলিশ, প্রশাসনকে নির্বাচন কমিশনার বার্তা দিলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।