আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলকে চাপে ফেলতেই এই বার্তা, মত রাজনৈতিক মহলের।মালদার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আসানসোলের জনসভা থেকে সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করলেন। বললেন, 'মালদায় যেটা হল, TMC খুব বড় ভুল করে ফেলেছে। এই ঘটনা তৃণমূলের এই মহা জঙ্গলরাজের কফিনে শেষ পেরেক। এই স্থানেই এই তৃণমূলের লোকেরা দেশের সিআরপিএফ-কে গালিগালাজ করছে।' ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বারবার মালদার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলকে চাপে ফেলতেই এই বার্তা, মত রাজনৈতিক মহলের।
আসানসোলের সভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'কয়লা মাফিয়া, বালি মাফিয়ার রাজ চলছে। বাংলার মানুষ এতে অত্যিষ্ঠ। আসানসোল আর দুর্গাপুরের এই গোটা এলাকা এক সময় বাংলার উন্নয়নের একটি কেন্দ্র ছিল। আজ সেখান থেকে ক্রমেই শিল্পের পলায়ন হচ্ছে।'
শিল্পের অভাব (Industrial Decline) ও বেআইনি খনন (Illegal Mining) প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, এই অঞ্চলের অর্থনীতি তৃণমূল সরকারের আমলে ধাক্কা খেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একসময় দেশের ১০০ ভাগ আয়ের মধ্যে ১২ ভাগই আসত বাংলা থেকে। আর আজ দেশের আয়ের বাংলার অংশ মাত্র ৫ ভাগ। আপনারা তৃণমূলের উপর ভরসা করেছিলেন। কিন্তু TMC বাংলার সঙ্গে নির্মমতা করেছে।'
সরাসরি রাজ্যের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স (State Economy Performance) নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পরিকাঠামো ও দূষণ নিয়ে উদ্বেগ
আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের (Asansol Durgapur Industrial Belt) সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মোদী। তাঁর কথায়, 'এখানে পানীয় জল, রাস্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষ চিন্তিত। এখানে দূষণও বেশি। কারখানায় নিয়ম মানা হচ্ছে না। অনেক জায়গায় জমি ধস হচ্ছে অবৈধ খননের কারণে।'
নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক ইস্যু
সভা থেকে নারী নিরাপত্তা (Women Safety) নিয়েও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। আরজি কর ও সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'এ রাজ্যে মহিলাদের সুরক্ষা নেই। শাসকদল বারবার নির্যাতনকারীদেরই পাশে দাঁড়িয়েছে।'
এছাড়া জনসংখ্যার পরিবর্তন (Demographic Change) ও অনুপ্রবেশ (Illegal Infiltration) প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। মোদীর অভিযোগ, কিছু এলাকায় পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মানুষ মন্দিরেও যেতে পারছে না।