সিইও-র দফতরের সামনে ধুন্ধুমারনির্বাচন কমিশনের অফিসে দেখা করতে আসার সময় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে জুতো দেখানো হয়। মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের অফিসে সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে আসেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া।
বিরোধী দলনেতা সিইও অফিসে ঢোকার সময় তাঁকে প্রথাগতভাবে এসকর্ট করে ভিতরে ঢোকায় পুলিশ। সিইও অফিসের বাইরে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কর্মসূচি পাল করছেন বিএলও অধিকার মঞ্চের সদস্যরা। তাঁদের তরফেই কয়েকজন এদিন শুভেন্দু অধিকারী সিইও অফিসে ঢোকার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো দেখান। কেউ কেউ আবার জুতো ছোড়েনও। অনেকে আবার 'চোর', 'চোর' স্লোগানও দেন। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
মঙ্গলবার বেলা থেকেই সিইও অফিসের সামনে জড়ো হয়েছিল ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’। নানা দাবি নিয়ে তাঁরা কমিশনের বিরুদ্ধে সিইও অফিসের সামনে ধর্না দিচ্ছিলেন। বিকেলে সিইও অফিস চত্বরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু পৌঁছতেই জুতো দেখানোর অভিযোগ ওঠে। তবে তৃণমূলপন্থী বিএলওদের অভিযোগ, সেই সময় বিজেপির পতাকা হাতে কয়েক জন ভিড় থেকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করেন। এমনকি, মহিলা বিএলওদের উদ্দেশে কটূক্তি, সম্ভ্রমহানি করা হয় বলেও অভিযোগ। এ ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, বিএলও-রা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলেন। শুভেন্দুর উপস্থিতিতে কয়েকজন বিজেপির ঝান্ডা হাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর আক্রমণ করেন।
পরে সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু বলেন, 'এগুলি ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক। বিরোধী দলনেতা যে সঠিক জায়গায় আছে, তৃণমূলের যে আর্তনাদ, তৃণমূলের যে নোংরামি। এই অফিসটা তো বেশিদিন থাকবে না, দুই-একদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সরে যাবে।'
শুভেন্দু আরও বলেন, 'আমরা জানতে চেয়েছি সিইওর কাছে এই অফিসের সামনে নির্মল অবস্থা কবে ফিরবে?' সিইও জানিয়েছেন, 'আর দুই-একদিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন অফিস এখান থেকে সরে যাবে শিপিং কর্পোরেশনের অফিসে। পরে তিনি জানান, এই সংস্কৃতি বাংলার সংস্কৃতি নয়। এটা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতি নয়। এটা তৃণমূলের সংস্কৃতি। খারাপ ভাষা ব্যবহার করা এটা ওদের কালচার। এরা কী করে বিএলও, শিক্ষক হতে পারে? প্রধানমন্ত্রী, মুখ নির্বাচন কমিশনারকে গালি দেয় তৃণমূল। হাইকোর্টের ভিতরে ঢুকে শুনানি বন্ধ করে দেওয়া, এসব এদের কালচার।'
এদিন শুভেন্দু এও বলেন, যাদের নাম ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকায় থাকবে না তার জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা তখনই চূড়ান্ত হবে যখন আরপি অ্যাক্ট অনুযায়ী সন্দেহভাজনরা সঠিক নথি দিয়ে স্যাটিসফাই করতে পারবেন। এখানে পেপার, তথ্য কথা বলবে। আজকে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দুটি রায়েই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাই তৃণমূল কংগ্রেস আশা করব ২৮ তারিখের পর বা সাপ্লিমেন্ট ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বা তালিকা না বেরোলেও সন্তোষ প্রকাশ করে ভোটে যাবেন আপনারা।