বঙ্গ রাজনীতিতে আলু নিয়ে টানাটানি, কী বলছেন চাষিরা?

ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলায় চলছে আলু নিয়ে দড়ি টানাটানি। দুর্নীতি থেকে শুরু করে উন্নয়ন- সমস্ত ইস্যুর মধ্যে এবারের নির্বাচনে আলুর দামও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দক্ষিণবঙ্গে, বিশেষ করে কাটোয়া, ঘাটাল, চন্দ্রকোনার মতো জায়গায় রাজনৈতিক সভা করতে গিয়ে বারেবারেই আলু চাষিদের সপক্ষে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

Advertisement
বঙ্গ রাজনীতিতে আলু নিয়ে টানাটানি, কী বলছেন চাষিরা?বঙ্গে আলু নিয়ে দড়ি টানাটানি
হাইলাইটস
  • ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলায় চলছে আলু নিয়ে দড়ি টানাটানি।
  • এবারের নির্বাচনে আলুর দামও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
  • আলু চাষিদের সপক্ষে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলায় চলছে আলু নিয়ে দড়ি টানাটানি। দুর্নীতি থেকে শুরু করে উন্নয়ন- সমস্ত ইস্যুর মধ্যে এবারের নির্বাচনে আলুর দামও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দক্ষিণবঙ্গে, বিশেষ করে কাটোয়া, ঘাটাল, চন্দ্রকোনার মতো জায়গায় রাজনৈতিক সভা করতে গিয়ে বারেবারেই আলু চাষিদের সপক্ষে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

সকলেই চাইছেন আলু চাষিদের উন্নতি!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় একাধিক জনসভায় জানিয়েছেন, আলু চাষিদের থেকে সহায়ক মূল্য দিয়ে আলু কিনে নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও, আলু চাষিরা যাতে দাম পান, সেদিকে লক্ষ্য রেখে ভিন রাজ্যে ট্রেনে করে আলু রফতানিতেও অনুমতি দিয়েছে রাজ্য। বর্ধমান সহ একাধিক এলাকা থেকে আলু ইতিমধ্যেই ভিনরাজ্যে পাঠাচ্ছেনও কৃষকেরা।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বীরভূমে সিউড়ির সভা থেকে অভিযোগ করেছেন, বাংলার মাঠে আলু পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কৃষকেরা দাম না পেয়ে আত্মহত্যা করছেন। আলু চাষিদের আত্মহত্যার জন্য রাজ্যের নীতিই দায়ী বলে অভিযোগ করেন মোদী। তিনি বলেন, "বীরভূমের মানুষজন আলুপোস্ত খেতে ভালবাসেন, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্মমতা আলুর চাষকে শেষ করে দিচ্ছে। আর এই কারণে আলুর চাষিরা তাদের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছেন। এটা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে আলু চাষিদের কাছ থেকে আলু কেনার কথা দিয়েছিলেন এবং তারপরে তাদের আলু না কিনে সেই গুলোকে নষ্ট হতে দিয়েছে তৃণমূল সরকার।"

অবশ্য এর পাল্টা উত্তরও দিয়েছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। খণ্ডঘোষের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বাংলায় এসে বলছ, আলু পচে যাচ্ছে! যখন বন্যা হয়, জমি নষ্ট হয়ে যায়, তখন তুমি কী করো? কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমোও। আমাদের কৃষি দফতর এলাকায় যায়। আমরা ক্ষতিপূরণ দিই।"

আলু চাষিরা কী বলছেন?

শক্তিপদ মণ্ডল নামে ঘাটালের এক আলু চাষি বলেন, "সব চাষিরাই চাইছে দাম বাড়ুক। কারণ এতে তার চাষের খরচ উঠবে। তবে শুধুমাত্র খরচ উঠলেই তো হবে না, লাভের টাকাও তুলতে হবে।"

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক কৃষক বলেন, "ভোটের আগে এরকম প্রতিশ্রুতি তো সবসময়ই দেওয়া হয়। কিন্তু ভোট ফুরিয়ে গেলে তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায় না।"

সারা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় বলেন, "এই মুহূর্তে নির্বাচনের জন্য সকলেই আলু নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু চাইলেই আলুর দাম বৃদ্ধি বা কৃষকদের সুবিধা করে দেওয়া সহজ নয়। এবছরে আলুর ফলন বেশি হয়েছে। যদি আলুর দাম বাড়াতে হয়, সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার নিজে চাষিদের থেকে কিনে নিতে পারে। ভিনরাজ্যে পাঠাতে পারে ও নানা প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার চাইলে MSP-তে আলু কিনে বিদেশে রফতানি করতে পারে। রাজ্য সরকার চাইলে হিমঘর ভাড়ায় ভর্তুকি দিতে পারে। তাতেও চাষিরা লাভবান হবেন।"

 

POST A COMMENT
Advertisement