নরেন্দ্র মোদীবাংলায় ভোটে জিততে গেলে শুধু হাই প্রোফাইল প্রচার দিয়ে কাজ হবে না। কাজ হবে না দেওয়াল লিখন, পোস্টার বা ব্যানারে। বরং তৃণমূল কংগ্রেসকে আটকাতে দরকার বুথ সংগঠন। আর এটা ভালই বোঝে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাই বুথ লেভেলের সংগঠনকে চাঙ্গা করতে, তাঁদের দিশা দিতে সরাসরি কথোপকথনে যেতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই মতো মঙ্গলবার, বিকেল ৪টে নাগাদ নমো অ্যাপের মাধ্যমে বিজেপি বুথ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললেন মোদী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটে জেতার জন্য বুথ সংগঠন খুবই জরুরি। এঁরাই মূলত প্রচারের কাজটা সামলায়। বাড়ি বাড়ি যায়। ভোট চায়। মানুষের সুখ-দুঃখের খবর রাখে। এছাড়া ভোটের সময় পোলিং বুথের ভিতরে এজেন্ট হিসেবেও থাকে এঁরাই।
তাই বুথ কর্মীরা যে কোনও রাজনৈতিক দলের জন্যই খুব জরুরি। একদম তৃণমূল স্তরে কর্মীরা যদি কাজ না করতে পারে, তাঁরা যদি ভয় পায়, তাঁরা যদি উদ্বুদ্ধ না থাকে, তাহলে ভোটে জেতা একপ্রকার অসম্ভব। আর বিজেপির মতো সংগঠন কেন্দ্রিক দল এই বিষয়টা খুবই ভালই জানে। তাই তারা 'মেরা বুথ সাবসে মজবুত' নামের একটি কর্মসূচি সামনে এনেছে। সেই মতোই আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুথ স্তরের কর্মীদের বার্তা দেবেন বলে জানা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের বৈঠকে বুথ লেভেল কর্মীদের কাজ করার রূপরেখা দেখাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। কীভাবে প্রচার সামলাতে হবে এবং বুথের দায়িত্ব নিতে হবে, এই সব বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশ দিতে পারেন। সেই মতোই বুথ লেভেল কর্মীদের কাজ করতে হবে। এটাই হল এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
বিজেপি সূত্রে খবর, ভোটের আগে কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টাও করছেন মোদী। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই তিনি যখন বুথ লেভেল কর্মীদের বার্তা দেন, তখন আলাদা রকমের তরঙ্গ পরিবাহিত হয় কার্যকর্তাদের মধ্যে। তাঁরা নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েন ভোটের ময়দানে। আর সেটাই বিজেপিকে ভোটের আগে মাইলেজ দিতে পারে। তাই এমন কর্মসূচি।
মাথায় রাখতে হবে, ২০২৬ সালে ভোটে জেতার জন্য একবারে উঠে পড়ে বিজেপি। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মাঝে মধ্যেই বাংলায় আসছেন। সকাল থেকে সন্ধের মধ্যে করছেন একের পর এক সভা। তার মাঝেই আবার কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের তোরজোর শুরু করেছেন তিনি। এভাবেই ভোটের বৈতরণী পার করতে চাইছেন। এখন দেখার তিনি তাঁর ইচ্ছে কতটা পূরণ করেন বাংলার মানুষ।