আরজি করের নির্যাতিতার মা-কে কী বার্তা জুনিয়র ডাক্তারদের?পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে BJP-র টিকিটে লড়ছেন আরজি করের ঘটনায় নির্যাতিতার মা। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে। নির্যাতিতার মা বলছেন, তাঁর মেয়েকে নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে। আবার সেই নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ৪-৫ মাস আগেই BJP-র তরফে ভোটে লড়াইয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তাঁর মা।
আরজি করের নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে পথে নামা জুনিয়র ডাক্তাররা পানিহাটি BJP প্রার্থীতে সম্বোধন করেন 'কাকিমা' বলে। সেই কাকিমা ভোটে দাঁড়ানোয় কী বলছেন অনিকেত, দেবাশিস, কিঞ্জলরা? কথা বলল bangla.aajtak.in.
দেবাশিস হালদার: আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ এই জুনিয়র চিকিৎসক। তিনি বলেন, 'কাকিমা কোন দলের হয়ে দাঁড়াবেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। কোন জায়গা থেকে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেটা বোঝার ক্ষমতাও হয়তো আমাদের নেই। তবে BJP শাসিত রাজ্যগুলিতে কী হচ্ছে তা যদিও ছেড়েও দিই, CBI-এর এই ঘটনায় যা ভূমিকা, তা ঠিক কি ভুল তা সময় বলবে। কাকু-কাকিমার যে মামলা, তা-ও তো CBI-এর বিরুদ্ধেই। একজন সন্তানহারা মা-কে এমন একটা জায়গায় দাঁড় করানো হল, যে ক্ষমতার অলিন্দে না গেলে তিনি বিচার পাবেন না। BJP-র হয়ে ভোটে দাঁড়ালে তবেই সে বিচার পাবেন, এটা বিপজ্জনক।' একইসঙ্গে দেবাশিস বলেন, 'এত বড় আন্দোলনে কোনওদিন কোনও দলীয় পতাকা ছিল না। কারণ লাখ লাখ মানুষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ঊর্ধ্বে উঠে বিচারের দাবিতে পথে নেমেছিল। সেটা যেন লঘু না হয়ে যায়।'
বর্তমানে নির্যাতিতার বাবা-মা যে আইনি লড়াই লড়ছেন, তাতে আইনজীবীর পারিশ্রমিক গোটাটাই বহন করে জুনিয়র ডক্টর্স ফোরাম ফান্ড। জানিয়েছেন দেবাশিস। তিনি আরও বলেন, 'এটা নতুন নয়। কাকু-কাকিমা ৩-৪ মাসেই বলেছিলেন তাঁদের কাছে BJP-র তরফে ভোটে দাঁড়ানোর অফার এসেছে। আমরা বলেছিলাম, এটা একটা ট্র্যাপ। তাঁরাও তখন রাজি হননি। পরবর্তীতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে হয়তো এবং তাঁরা অন্য ভাবে ভাবছেন।'
অনিকেত মাহাতো: জুনিয়র ডক্টর্স ফোরামের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে অনশন করেছিলেন অনিকেত। তাঁর বক্তব্য, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় কাকু-কাকিমাকে যেভাবে কটুক্তি করা হচ্ছে, তা অভয়া আন্দোলনের সমবেদনা, নৈতিকতার শিক্ষার সঙ্গে খাপ খায় না। এটা ওঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তবে এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার আসবে বলে আমি মনে করি না। নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসতে হবে নির্যাতিতার মা-কে, তবে সে ন্যায়বিচার পাবে? তাহলে তো এমন কোনও ঘটনা ঘটলে সকলকে ভোট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাহলে পুলিশ প্রশাসন, বিচারব্যবস্থার ভূমিকা কী?'
কিঞ্জল নন্দ: আরজি কর আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন কিঞ্জলও। তবে নির্যাতিতার মায়ের ভোটে লড়াই করা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
আশফাকুল্লা নাইয়া: আন্দোলনে ছিলেন জুনিয়র ডাক্তার আশফাকুল্লা নাইয়াও। তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক মত-পথ নির্বিশেষে ন্যায়বিচারের দাবিতে অসংখ্য মানুষ পথে নেমেছিলেন। রাজনৈতিক দলে যোগদানকে কেন্দ্র করে মানুষের সেই আন্দোলনে ভাঙন ধরানো যাবে না। যদি ভোটে লড়াই করলে উনি ন্যায়বিচার ছিনিয়ে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে সবচেয়ে বেশি তাঁরাই খুশি হবেন। তবে তাঁর মেয়েকে নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার উদাহরণ তো কাকিমা নিজেই।'