Tapan Ghosh: ছোট আঙারিয়ার সেই ঘটনা প্রচারে নেগেটিভ প্রভাব ফেলছে? তপন বললেন, 'তৃণমূলের এত ভয় কেনে?'

বিধানসভা নির্বাচনে গড়বেতা কেন্দ্র থেকে CPIM প্রার্থী করেছে তপন ঘোষকে। এই সেই তপন ঘোষ, যিনি ছোট আঙারিয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে জেল খেটেছেন। পরবর্তীতে বেকসুর খালাস হলেও বিরোধীরা বলছে, CPIM আর প্রার্থী খুঁজে পেল না? কী বলছেন খোদ তপন ঘোষ?

Advertisement
ছোট আঙারিয়ার সেই ঘটনা প্রচারে নেগেটিভ প্রভাব ফেলছে? তপন বললেন, 'তৃণমূলের এত ভয় কেনে?'তপন ঘোষ
হাইলাইটস
  • গড়বেতা কেন্দ্র থেকে CPIM প্রার্থী তপন ঘোষ
  • ছোট আঙারিয়ার ঘটনায় জেল খেটেছেন
  • নেগেটিভ প্রভাব ফেলছে প্রচারে?

গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে CPIM-এর টিকিটে লড়ছেন তপন ঘোষ। যাঁর নাম শুনলে মাথায় ঘোরে ছোট আঙারিয়ার ভয়াবহ ঘটনা। ২৫ বছর পর আবারও রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সেই গণহত্যা। যেখানে মূল অভিযুক্ত হিসেবে জেল খাটতে হয়েছিল এই তপন ঘোষকেই। বিরোধীদের প্রশ্ন, CPIM কি আর প্রার্থী খুঁজে পেল না? তবে কি ছোট আঙারিয়ার সেই ঘটনায় জেল খাটা CPIM প্রার্থী ব্যাকফুটে? bangla.aajtak.in-কে  জানালেন তপন ঘোষ। 

ছোট আঙারিয়ার ঘটনা নেগেটিভ প্রভাব তৈরি করছে প্রচারে? তপন ঘোষ তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, 'গড়বেতার মানুষ আরও বেশি আমার প্রতি সহানুভূতিশীল। মেদিনীপুর জেলায় আমি গতবার সাড়ে ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছিলাম। এবার আরও পাব। মিথ্যা কেসে যদি কাউকে জেল খাটানো হয়, তাহলে তাঁর প্রতি তো মানুষের সমর্থন বাড়েই।'

ছোট আঙারিয়া এবং নন্দীগ্রাম, দু'ক্ষেত্রেই আদালতে বেকসুর খালাস হয়েছেন তাই কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া এলাকায় নেই, এমনটাই মনে করেন গড়বেতার CPIM প্রার্থী। তাঁর কথায়, 'স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যখন মিথ্যা কেসে জেলে ভরা হত, মানুষ কি তাঁদের প্রতি বিরূপ হয়েছিল না সমর্থন জানিয়েছিল?' 

বিরোধীদের সমালোচনা নিয়ে তপন বলেন, 'আমি এখানকার ভূমিপুত্র, ৪০ বছর ধরে মানুষের পাশে আছি। এখানে হাসপাতাল, কলেজ, স্টেডিয়ামের উন্নতি, বিদ্যুতের লাইন দেওয়া, তপশিলি গ্রামে জলের লাইন, ১৪ স্কুলকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত করে দেওয়া আমার নেতৃত্বেই বামপন্থীরা করেছে। ওরা লুটে খাচ্ছে গড়বেতায়। ১৫ বছরে গড়বেতায় একটা কিছু করেনি। শালবনি থেকে এনে ভোটের প্রার্থী করেছে। ওরা অপ্রপ্রচার করছে। কিন্তু মানুষ ওদের কথা শুনবেনি।' তপনের সংযোজন, 'আমি মাটির সঙ্গে রয়েছি, ওরা কিছু করতে পারবেনি। শুধু চোর-ডাকাতগুলো আর ঠ্যাঙারে বাহিনী সরিয়ে নিক, পুলিশ নিরপেক্ষ হোক। নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুক। আমায় এত ভয় যখন চমকাইতলা, উত্তম বিলে, বোষ্টম মোড়ে বাধা দিচ্ছে কেন চোর-ডাকাত বাহিনী? তৃণমূলের এত ভয় কেনে? আর BJP ওদের যমজ ভাই।'

Advertisement

ছোট আঙারিয়ায় কী হয়েছিল?
২০০১ সাল। বাম শাসনের সে সময়ে CPIM-এর আতঙ্কে ঘরছাড়া হয়েছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী ও তাঁদের পরিবার। তবে স্থানীয় CPIM নেতৃত্বের আশ্বাস পেয়েই আবার ফিরে এসেছিলেন তাঁদের একাংশ। এলাকারই তৃণমূল নেতা বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে ছিলেন কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে সেই বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুড়ে মৃত্যু হয়েছিল কয়েকজনের। যাঁরা প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের কুপিয়ে অথবা গুলি করে খুনেরও অভিযোগ ছিল। তৃণমূলের দাবি ছিল, এই সবটাই হয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সদস্য তপন ঘোষ ও CPIM জোনাল কমিটির সদস্য শুকুর আলির নেতৃত্বে। 

CPIM-এর হার্মাদ বাহিনীর হামলায় সেদিন মুক্তার খাঁ, রবিয়াল ভাঙ্গি, হায়দার মণ্ডল, জয়ন্ত পাত্র এবং মুক্ত পাত্র নামে ৫ নেতার মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করে তৃণমূল। অভিযোগ ছিল, তাঁদের ৫ কর্মীর মরদেহ লোপাট করে দেওয়া হয়েছিল এই তপন ঘোষ ও শুকুর আলির নেতৃত্বেই। যদিও সে দেহের কোনও হদিশ মেলেনি। সে সময়ে NDA জোটসঙ্গী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র নিন্দা করে ছোট আঙারিয়া দিবস পালন শুরু করেন। 

ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী বক্তার মণ্ডলের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ৭ বছর পর তপন ঘোষ ও শুকুর আলিকে গ্রেফতার করা হয়। ততক্ষণে তাঁদের নাম জড়িয়ে গিয়েছিল ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির মিছিলে হামলাতেও। ছোট আঙারিয়ার ঘটনায় CBI তদন্ত শুরু হয়। তবে বক্তার মণ্ডলের সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার এবং প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত তপন মণ্ডল এবং শুকুর আলি বেকসুর খালাস হন।

 

POST A COMMENT
Advertisement