কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনপশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আর এবারের ভোটে কোনও ধরনের আশান্তি চায় না কমিশন। তারা সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়েছে। সেই মতো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়ে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে পারে কমিশন। অন্তত এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল।
সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়টা নিয়ে মন্তব্য করেন আগরওয়াল। তিনি জানান, দুই দফায় ভোট হতে চলেছে বাংলায়। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
তাঁর কথায়, 'আমাদের একমাত্র লক্ষ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে হয়, সেটা নিশ্চিত করা। ভোটের প্রতিটি পর্যায়ে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে।'
মাথায় রাখতে হবে, একটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোম্পানিতে সাধারণত ১০০ থেকে ১৩৫ জন কর্মী থাকেন। আর পশ্চিমবঙ্গের এক এক দফার ভোটে ২০০০ থেকে ২৫০০ কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতে পারে।
তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ। এক্ষেত্রে বুথে বা এলাকায় কোনও অশান্তি হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভোটকেন্দ্রে কোনও গন্ডগোল হলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। শুধু তাই নয়, কোনও অনৈতিক কাজকর্ম দেখলেও তারা সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে।'
ভুল ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করে যে কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী দেয় ঠিকই। কিন্তু তা ঠিক মতো ব্যবহার করা হয় না। যদিও এবার সেই বিষয়টাও মাথায় রাখছে কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না।
এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, 'কেন্দ্রীয় বাহিনী আইন মেনেই কাজ করবে। কোনও অবহেলা বা অপব্যবহার প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এ দিকে ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলা আরও জোরদার করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে বৃহস্পতিবারের মধ্যে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে প্রতিটি থানার ওসিকে। এই সময় কমিশন প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তা করবে। প্রয়োজন মতো আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনও করা হবে।'
হিংসাতেও কড়া ব্যবস্থা
ভোটে হিংসা নিয়েও কড়া দাবি করেছেন অগরওয়াল। তিনি বলেন, 'কমিশনের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরপরও কোনও এলাকায় হিংসা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'