কলকাতার ১১ আসনে জয়ের ব্যবধানকেও ছাপিয়ে গেল বাদ পড়া নাম, তৃণমূল-বিজেপি দু’পক্ষই চাপে 

নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, চৌরঙ্গী কেন্দ্রেই ৮০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া আরও তিনটি আসনে ৭০ হাজারের বেশি, একটি আসনে ৬০ হাজারের বেশি, দুটি আসনে ৫০ হাজারের বেশি এবং বাকি চারটি আসনে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। সবচেয়ে কম সংখ্যা মানিকতলায়, সেখানেও বাদ পড়েছেন ৪২,৬০৩ জন।

Advertisement
কলকাতার ১১ আসনে জয়ের ব্যবধানকেও ছাপিয়ে গেল বাদ পড়া নাম, তৃণমূল-বিজেপি দু’পক্ষই চাপে 
হাইলাইটস
  • কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।
  • প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ১১টি আসনের প্রতিটিতেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল বা বিজেপির জয়ের ব্যবধানকেও অনেকটাই ছাড়িয়ে গিয়েছে।

কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ১১টি আসনের প্রতিটিতেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল বা বিজেপির জয়ের ব্যবধানকেও অনেকটাই ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে, শহরের একাধিক ‘নিরাপদ’ আসনই এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ১১টি আসনের মধ্যে ৯টিতে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ছিল, আর ২টিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। কিন্তু সাম্প্রতিক সংশোধনে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ায় সেই ফলাফলের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের। 

নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, চৌরঙ্গী কেন্দ্রেই ৮০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া আরও তিনটি আসনে ৭০ হাজারের বেশি, একটি আসনে ৬০ হাজারের বেশি, দুটি আসনে ৫০ হাজারের বেশি এবং বাকি চারটি আসনে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। সবচেয়ে কম সংখ্যা মানিকতলায়, সেখানেও বাদ পড়েছেন ৪২,৬০৩ জন।

বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ভবানীপুর কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কেন্দ্র থেকে ২০২৪ সালে তৃণমূল ৮,২৯৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। অথচ সেখানে এবার ৪৮,৬৮০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই কেন্দ্রে বিজেপির হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনাও তুঙ্গে।

এছাড়া কলকাতা পোর্ট, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ, চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, মানিকতলা ও কাশীপুর-বেলগাছিয়া—এই সব কেন্দ্রেও তৃণমূল এগিয়ে ছিল। এর মধ্যে রাসবিহারী (১,৬৯১ ভোট), ভবানীপুর (৮,২৯৭), মানিকতলা (৩,৫৭৫) এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া (৭,২৬৮), এই চারটি আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজারের কম। চৌরঙ্গীতে ব্যবধান ছিল ১৪,৬৪৫ ভোট। ফলে এই আসনগুলো এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশই মুসলিম, নারী এবং আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির, যাঁরা সাধারণত তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত। তাই এই ঘটনায় শাসক দলের একাধিক শক্ত ঘাঁটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

Advertisement

তবে এই পরিস্থিতি যে শুধু তৃণমূলের জন্যই উদ্বেগের, তা নয়। বিজেপির ক্ষেত্রেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে শ্যামপুকুরে বিজেপি ১,৫৯৯ ভোটে এবং জোড়াসাঁকোতে ৭,৪০১ ভোটে এগিয়ে ছিল। অথচ এই দুই কেন্দ্রে যথাক্রমে ৪৪,৬৯৩ এবং ৭৬,৫২৪ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। জানা যাচ্ছে, এখানে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যায় হিন্দিভাষী হিন্দু ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, যাঁদের বড় অংশ বিজেপির সমর্থক বলে মনে করা হয়।

এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কথায়, 'এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত দুই দলের জন্যই বুমেরাং হতে পারে। তাই কোনও পক্ষেরই এখন নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই।'

 

POST A COMMENT
Advertisement