অভিযেক বন্দ্যোপাধ্যায়তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার তৃণমূলের সব প্রার্থী এবং কর্মীদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত কর্মীদের 'ইগো' (অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ইগো বলতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথাই বুঝিয়েছেন তিনি) ভুলে একত্রিত হয়ে কাজ করার বার্তা দেন।
অভিষেকের এই মেগা মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন ৩০ হাজারেরও বেশি কর্মী। ছিলেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সব প্রার্থী, সাংসদ, সংগঠনের নেতা, মুখপাত্র, বুথ লেভেল এজেন্ট, জেলা পরিষদের সদস্য ও পুর কাউন্সিলররা।
এদিনের সভায় ভোটের সময় একতার বার্তা দেন অভিষেক। পাশাপাশি গত ছয় মাসের পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। ইগো পাশে সরিয়ে সবাইকে আগামী ১৫ দিন একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।' অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে এখন একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দলকে জেতাতে হবে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ৬০ লক্ষ নাম বাদ দিলেও তৃণমূলকে হারানো যাবে না। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি কিছু সমীক্ষার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, 'বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ১ কোটি নাম বাদ গেলেও তৃণমূল আবার ক্ষমতায় ফিরবে। ২০২১ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। আমি রেকর্ডে রাখছি, তৃণমূলের ভোট শতাংশ ২০২১-এর রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।'
যদিও এই কথা বলার পরও আত্মতুষ্ট না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, 'কে কত কাজ করছে দল সব নজরে রাখছে। যাঁরা ভালো কাজ করবে, তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে। যাঁরা শুধু দেখানোর জন্য কাজ করবে, তাঁদেরও দল দেখছে।'
এই দিনের সভায় আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের ইডি গ্রেফতার প্রসঙ্গে মুখ খোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে ভয় দেখাতে চাইছে। কিন্তু তাতে কাজ হবে না। বরং দল এতে আরও শক্তিশালী হবে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি অসমের এনআরসি-এর তুলনা করেন। তাঁর কথায়, 'প্রথম পর্যায়ে যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, তার অধিকাংশই বাঙালি হিন্দুদের।'
পাশাপাশি মালদা-মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে ভোটারদের বোঝানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, 'কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া। ওই সময় এনআরসি নিয়ে কংগ্রেস, AIMIM বা ISF কেউ প্রতিবাদ করেনি। কংগ্রেস জিতলে পরে টাকা নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেবে।'
এখানেই শেষ না করে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও সুর চড়ান অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, 'বিজেপি কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। তারা একটা ওয়েভ তৈরি করার চেষ্টা করছে যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু মাটিতে তাদের কোনও কাজ নেই। তারা শুধু মিডিয়া ও এজেন্সির উপর নির্ভর করছে।'