ময়নাগুড়িতে মমতার হুঁশিয়ারিভোটপ্রচার শুরু করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ দিয়েই প্রচার শুরু করলেন তৃণমূলনেত্রী। ময়নাগুড়ির টাউন ক্লাব মাঠে বুধবার প্রথম জনসভা করেন নেত্রী। এ বার ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে রামমোহন রায়কে। তাঁর সমর্থনেই প্রথম জনসভা করলেন তৃণমূল নেত্রী। ময়নাগুড়ির সভা থেকেও একযোগে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগেন মমতা।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পেট্রলের দাম বাড়ছে। কিন্তু এখন আমার কিছু করার নেই। আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। তবে আমার কাছে মানুষ আছে।’ মমতার আরও বক্তব্য, ‘বিজেপি আসলে ভ্যানিশ পার্টি। কখনও শুনেছেন নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বিজেপির চিহ্ন? সেন্ট্রাল ফোর্স বিজেপির ফ্ল্যাগ নিয়ে যাচ্ছে। লজ্জা করে না? বিজেপির গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত। এই লজ্জা কোথায় ঢাকবেন?’
মধ্যরাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করা নিয়েও তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মধ্যরাতে বিজেপি তাণ্ডব চালায় বলে এ দিন ফের তোপ দাগেন মমতা। বলেন, ‘মধ্যরাত স্বাধীনতা এনেছিল, আমরা গর্ব করি। আজ সে সব ভুলে গণতন্ত্র মানছে না, ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। কাল বলবে এনআরসি করবে, ডিটেনশন ক্যাম্প করবে। আমি বেঁচে থাকতে এ সব হবে না। আমার পরে আমার জেনারেশনও সে সব অ্যালাও করবে না।’
একই সঙ্গে আলু চাষীদের ক্ষতি ও কৃষি বিমা নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলুচাষিদের আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, চিন্তার কারণ নেই। শস্যবিমা আছে। সকলে ক্ষতিপূরণ পাবেন। আগে থেকেই তা করা আছে। শস্যবিমার টাকা কৃষকদের দিতে হয় না। মেয়েদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চিরদিন চলবে বলেও আশ্বাস দেন মমতা। বলেন, ‘আমরা করে দেখাই। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৬০ বছরের পরেও চলবে। স্বাস্থ্যসাথীতে ৯ কোটি মানুষ পরিষেবা পান। এরা বলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। বিহারে ভোটের আগে ৮ হাজার। তার পরেই বুলডোজ়ার। অন্য রাজ্যে আমাদের প্রকল্প টুকলিও করতে পারেনি ঠিকমতো।’
গ্যাস নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘নোটবন্দি, আধার কার্ড, SIR সব কিছুতেই লাইনে দাঁড় করিয়ে মানুষকে হেনস্থা করছে বিজেপি।' দুটি গ্যাসের বুকিংয়ের সময়সীমা নিয়ে তোপ দেগে বলেন, দুটো গ্যাস বুক করতে চাইলে ৩৫ দিন লাগবে। গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেরিয়ে গিয়েছে। মানুষ খেতে পাবে না, আবার পুরোনো দিনে ফিরে যেতে হবে।’ মমতা বলেন, ‘৪ তারিখে কাউন্টিং হবে। ১-২-৩-৪, বিজেপির হবে হার। ১-২-৩-৪ তৃণমূল জিতবে আবার।’
বিজেপিকে অ্যান্টি বেঙ্গল বলেও তোপ দাগেন মমতা। মমতা বলেন, বিজেপি নেতারা ভয় দেখাচ্ছে , গাছে বেঁধে পেটাবে, গাছ বেঁধে পেটানোর জন্য নয়। ছায়া দেওয়ার জন্য। ভোটের পর পোস্টার দিয়ে বলতে হবে 'আমি বিজেপি করি না।' ময়নাগুড়ির সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও বার্তা দেন মমতা। বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করি। কিন্তু মনে রাখবেন, জনগণের শক্তিই আসল শক্তি। দিল্লি এখন দিল্লিতে ক্ষমতায় আছে, পাল্টে যাবে। আপনারা আপনাদের (কেন্দ্রীয় বাহিনী) কাজ সম্মানের সঙ্গে করুন।’ তার পরেই তোপ দাগেন, ‘যদি ভোটের সময় আপনারা বিজেপির পোলিং এজেন্ট হয়ে গেলে, আমাদের মা-বোনেরা আছেন, তাঁরা দেখে নেবেন। আমরা কিছু করব না।’