উত্তর শহরতলির বেহাল দশা।-ফাইল ছবিবরানগর ও কামারহাটির প্রায় সব রাস্তাঘাট, ড্রেন ও ফুটপাতের বেহাল দশা। ন্যুনতম নাগরিক পরিষেবাও শিকেয়। জনজীবন দুর্বিষহ। বিগত বছরগুলি চরম ভোগান্তিতে কাটছে স্থানীয়দের। এমনটাই অভিযোগ বাসিন্দাদের একাংশের। ভোটের মুখে দু'দিন আগে কামারহাটির কিছু রাস্তায় পিচ লাগানোর কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি সেই কাজে জল ঢেলেছে। পরিস্থিতি এখনও আরও খারাপ। বেলঘরিয়া এলাকার অবস্থা আরও খারাপ। প্রায় প্রতিটি রাস্তাই খানা-খন্দে ভরা, অভিযোগ করছেন অটোচালক থেকে সাধরণ মানুষ। এবার প্রচারে সেই বেহাল দশাই তুলে ধরছেন বিরোধীরা।
রাতের এক পশলা বৃষ্টি থামতেই উত্তর শহরতলির একাধিক এলাকায় জল জমে নাজেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই জলমগ্ন রাস্তাতেই নেমে পড়েন বিরোধী প্রার্থীরা। কোথাও হ্যান্ডমাইক হাতে হাঁটতে দেখা যায়, কোথাও আবার ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হয় নিকাশি ব্যবস্থার দুরবস্থা। এই সমস্ত দৃশ্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, আর তা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও রাজনৈতিক তরজা।
বরানগর, পানিহাটি ও উত্তর দমদম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমার সমস্যা নতুন নয়। স্থানীয়দের মতে, বাম আমলে বহু জায়গায় জল জমলেও খোলা জমি ও পুকুর থাকায় তা দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ফলে সেই সব জলাধার ভরাট হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন সামান্য বৃষ্টিতেই জল নামার পথ বন্ধ হয়ে পড়ে, আর ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ।
সোম ও মঙ্গলবার রাতের ঝড়বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়। সেই রাতেই বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বরানগর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে নেমে প্রচার করেন। নিয়োগীপাড়া-ডোমবাগান এলাকায় জমা জলের মধ্যেই তিনি প্রচার চালিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করেন। তাঁর কথায়, 'আপনাদের বিধায়ক বলেছেন বরানগর গামলার মতো, সেটা কেমন, দেখতে এসেছি। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে পরিবর্তন দরকার।'
অন্যদিকে, পানিহাটিতে সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তও বৃষ্টির মধ্যেই প্রচারে নামেন। ছাতা মাথায় জলভরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি এলাকার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন এবং সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে শহরের অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে, জমা জল, আবর্জনা ও ভাঙাচোরা রাস্তা এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।
বরানগরের সিপিএম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্রও একই সুরে বলেন, এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই যখন এই অবস্থা, তখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। তাঁর কথায়, 'যে শহরকে ‘গামলা’ বলা হচ্ছে, সেখানে নাগরিক পরিষেবার এই হাল সত্যিই চিন্তার বিষয়।'
এরইমধ্যে বেলঘরিয়ার কিছু রাস্তায় জোড়াতালি লাগানোর কাজ চলছে। তা নিয়েও এলাকাবাসীর ক্ষোভ। একজন বললেন, '৫ বছর এভাবে কাটালাম। পুজো, উৎসব সব চলে গেল এভাবে। এখন ভোটের দুদিন আগে রাস্তা সারাই করে মানুষকে বোকা বানাচ্ছে।'
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এক পশলা বৃষ্টি যেন উত্তর শহরতলির বাস্তব চিত্রটাই সামনে এনে দিল, যেখানে উন্নয়নের দাবির মাঝেই জলমগ্ন রাস্তায় ভাসছে মানুষের ক্ষোভ ও দুর্ভোগ।