বাঁ দিক থেকে মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, সজল ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্ত, বিকাশ ভট্টাচার্যনির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন পেশ করতে গিয়ে হলফনামায় বড় বড় করে লিখতে হচ্ছে সম্পত্তির পরিমাণ, দিতে হচ্ছে গাড়ি-বাড়ি-গয়না, এমনকী আয়ের উৎস বা মামলা-মোকদ্দমার বিস্তারিত বিবরণও। আর এই হিসেব-নিকেশের দাঁড়িপাল্লায়, লাল-সবুজ-গেরুয়া, কোন দলের কোন পুরুষ প্রার্থীরা এগিয়ে? সম্পত্তির নিরিখে পিছিয়ে কারা?
সজল ঘোষ (BJP): বরানগরের BJP প্রার্থীর হাতে রয়েছে নগদ ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৬৩ টাকা। ব্যাঙ্কে জমা রয়েছে ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার ১৪৫ টাকা। গাড়ি নেই সজলের। গয়না রয়েছে ৩০৭.৯০০ গ্রামের। মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৬ লক্ষ ৪৬ হাজার ১৬১ টাকা। একটি বাসভবন সজলের। যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৮৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩৩৪।
সুজিত বসু (TMC): বিধাননগরের প্রার্থীর হাতে রয়েছে নগদ ২ লক্ষ ৭ হাজার ৯৩২ টাকা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১ কোটি ২০ লক্ষ ১১ হাজার ৭০১ টাকা। ছেলে মেয়ের থেকে ১ কোটিরও বেশি ঋণ নিয়েছেন সুজিত বসু। ২৩ লাখি স্করপিও এবং ৯ লক্ষ টাকার বেশি গয়না রয়েছে তাঁর। মোট অস্থাবর সম্পত্তি ১ কোটি ৯২ লক্ষ ৪১ হাজার ১৯৮ টাকা। ১০ হাজার স্কোয়্যার ফুটের ২টি বাড়ি রয়েছে তাঁর। যার মোট বাজারদল ১ কোটি ৮০ লক্ষ ১৬ হাজার ৪৫৪ টাকা।
মদন মিত্র (TMC): কামারহাটির প্রার্থীর হাতে রয়েছে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা। ১ কোটি ১১ লক্ষ ৯ হাজার ৫৫০ টাকা রয়েছে মদন মিত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ১২ লাখি একটি গাড়ি রয়েছে তাঁর। গয়না রয়েছে ১০ লক্ষাধিক টাকার। মোট অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৪৬ টাকার। মদন মিত্রের ২টি বাড়ি রয়েছে ৫৪ লক্ষ ৫০ হাজারের।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (CPIM): আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে যাদবপুরের বাম প্রার্থী তথা আইনজীবীর। বিকাশের হাতে ক্যাশ রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৯১ টাকা। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ২৩ হাজার। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে কলকাতায় একাধিক আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
ফিরহাদ হাকিম (TMC): গত পাঁচ বছরে ফিরহাদের বার্ষিক আয় ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিরহাদের নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই। তাঁর কাছে ৭ কোটি ২৭ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা। সোনা, রুপো এবং মূল্যবান পাথরের গয়নাও রয়েছে ফিরহাদের। সেগুলির দাম ১৭ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা। তবে ফিরহাদের হলফনামায় উল্লেখযোগ্য ED এবং CBI-এর মামলা।
স্বপন দাশগুপ্ত (BJP): রাসবিহারী কেন্দ্রের BJP প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের রয়েছে ৫ কোটি টাকা দামের একটি বাড়ি, এবং ৩টি গাড়ি। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন স্বপন। তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ১০ হাজার টাকা। স্বপন ৫০ গ্রাম সোনার মালিক। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৭ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। স্বপনের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৫৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা। নয়াদিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে একটি বাড়ি রয়েছে স্বপন এবং তাঁর স্ত্রীর নামে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় (CPIM): মহেশতলার প্রার্থীর হাতে রয়েছে ৫ হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। একটি সেকেন্ড হ্যান্ড এবং একটি XUV গাড়ি রয়েছে সায়নের। সোনাদানা নেই। মোট অস্থাবর সম্পত্তি রেয়ছে ৬২ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৬৬। সায়নের রয়েছে ২৩ লক্ষ টাকার একটি পৈতৃক জমি।
কুণাল ঘোষ (TMC): নিজের আয়ের উৎস হিসাবে বেতন, বই বিক্রির আয়ের অংশ, অভিনয় ও পরামর্শদাতা হিসাবে প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের কথা উল্লেখ করেছেন কুণাল ঘোষ। ৫৮ বছরের কুণাল হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর কাছে নগদ ২১ হাজার টাকা রয়েছে। কুণালের নামে অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ১১৬ টাকা, ৪৯ হাজার ৭০১ এবং ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তাঁর নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই। তাঁর কাছে ৫ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭২ লক্ষ ৮০ হাজার ৯১৩ টাকা। কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই।
কলতান দাশগুপ্ত (CPIM): পানিহাটির এই বাম প্রার্থীর হাতে নাগদ রয়েছে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর ব্যক্তিগত আয় নেই। অর্থবর্ষে তাঁর আয় শূন্য। দলীয় ভাতার উপরই নির্ভরশীল হোলটাইমার কলতান। স্ত্রীর রোজগারেই চলে সংসার। অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২.৯ লক্ষ টাকা।