যোগীর বুলডোজার নীতি কি দাবি মমতার?উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের 'বুলডোজার নীতি' সারা ভারতে চর্চিত। রবিবার বাংলায় এসেও এই নীতির পক্ষেই সওয়াল করেন যোগী। আর সোমবার যোগীর বুলডোজারের পাল্টা হিসেবে মানব ধর্মের পক্ষে সওয়াল করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ সিউড়ির ইরিগেশন কলোনির মাঠের জনসভায় এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কালকেই বলে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মহাশয়, আমি সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম যে, উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও বুলডোজার চলবে। মানেটা কী? আমি বুলডোজারে বিশ্বাস করি না। আমি মনুষত্বে বিশ্বাস করি। ভালোবাসায় বিশ্বাস করি। মানবিকতায় বিশ্বাস করি। আমার ধর্মের নাম মানব ধর্ম। আমি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করি না।'
অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট, তৃণমূল সরকারে এলে বাংলায় বুলডোজার চলবে না। বরং সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই তৃণমূল সরকার চলবে।
আর এ দিন শুধু যোগী নয়, পাশাপাশি মোদীকেও নিশানা করেন মমতা। তাঁর দাবি, মোদী বাংলায় বহিরাগত। তিনি কোনওভাবেই বাংলার ২৯৪টা আসনে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন না। এটা করতে হলে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের জন্য লড়াই করতে হবে। এখানেই শেষ না করে তিনি দাবি করেন, 'মন কি বাত' বলে যেই অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী করেন, তার মাধ্যমে 'ছোটদের মাথা খাচ্ছেন'।
একা লড়ছেন...
এ দিন মমতা দাবি করেন, রেলে করে লোক নিয়ে আসছে বিজেপি। এমনকী বাসে করে লোক আসছে। দেশের ১৯টা রাজ্য আর কেন্দ্রীয় সররকার সব মিলে একজায়গায় জড় হয়েছে। আর অপরদিকে তিনি বাংলার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করছেন।
আজও SIR-এর নাম বাদ নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম লিস্ট থেকে কেটেছিল। তিনি লড়াই করে গিয়েছেন। তাঁর লড়াইয়ের জন্য ৩২ লক্ষ ভোটারের নাম ফের লিস্টে জুড়ে গিয়েছে। আগামী দিনে এই সব ডিলিটেড ভোটারদের জন্যও তিনি কাজ করবেন।
রেলের প্রোজেক্ট নিয়েও আজ বড় দাবি করলেন মমতা। তাঁর মতে, বিজেপি সরকার আসার পর থেকে বাংলা রেলের নতুন কোনও প্রোজেক্ট পায়নি। যেই সকল প্রোজেক্ট তিনি রেলমন্ত্রী থাকার সময় চালু করেছিলেন, সেগুলিই চলছে। এটা বাংলার প্রতি বঞ্চনার সমান।
পাশাপাশি বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলা এবং বাঙালির সুরক্ষার বিষয়টাও আরও একবার তুলে ধরে বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা। তাঁর দাবি, বাঙালি বাইরের রাজ্যে গিয়ে মার খাচ্ছে। ওড়িশা, রাজস্থান, দিল্লির মতো রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হচ্ছে আক্রমণ। কিন্তু তখন কেন্দ্রীয় সরকার চুপ থাকছে। বিজেপি মুখ খুলছে না। শুধু নির্বাচনের সময় বাঙালির ভোট চাইছে। তাই বাংলার মানুষকে বিজেপিকে একটি ভোট দিতেও বারণ করলেন তিনি।