Pratikur Rahaman: একদা TMC-র মারে 'আধমরা' অবস্থা হয়েছিল, প্রতীক উরের উত্থান কীভাবে?

প্রতীক উর রহমান দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। জানাচ্ছেন, সেলিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। প্রশ্ন তুলছেন, তাঁর চিঠি ফাঁস হওয়া নিয়ে। সেই প্রতীক উর কি এবার তৃণমূলে যোগদান করবেন? ঘনিষ্ঠ মহল মানতে চাইছে না তরুণ এই নেতা জোড়াফুল শিবিরে যেতে পারেন। যে দলের কর্মীদের হাতে তিনি মার খেয়ে আধমরা হয়ে পড়েছিলেন। কেমন ছিল বাম তরুণের উত্থান?

Advertisement
একদা TMC-র মারে 'আধমরা' অবস্থা হয়েছিল, প্রতীক উরের উত্থান কীভাবে?প্রতীক উর রহমান
হাইলাইটস
  • তৃণমূলের হাতে মার খেয়ে আধমরা
  • সেই প্রতীক উর যাবেন তৃণমূলেই
  • কতটা রক্তক্ষরণ হবে CPIM-এর?

দলের নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে পাহাড় প্রমাণ ক্ষোভ। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একের পর এক সাক্ষাৎকারে দল ছাড়তে চাওয়া তরুণ বাম নেতা প্রতীক উরের বক্তব্যে সেই ক্ষোভ ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে। CPIM-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসুন, চাইছেন প্রতীক উর। তবে তাঁর 'বিচ্ছেদবার্তা' প্রকাশ্যে আসার পর থেকে এখনও পর্যন্ত সেই আলোচনার কোনও ইঙ্গিতও মেলেনি। তাঁর তৃণমূলে যোগদানের জল্পনাও এখন তুঙ্গে। আচমকা আলোড়ন ফেলে দেওয়া এই তরুণ বাম নেতার উত্থান কীভাবে? তাঁর দলত্যাগ কতটা প্রভাব ফেলবে আসন্ন নির্বাচনে? 

কীভাবে উত্থান প্রতীক উরের?
ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা প্রতীক উর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক পাশ করেন ফকির চাঁদ কলেজ থেকে। ২০০৬ সাল থেকে SFI করা শুরু প্রতীক উরের। ২০০৯ সালে কলেজের ছাত্র ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার দরিদ্র মুসলিম পরিবারের ছেলে তিনি। SFI-এর রাজ্য সভাপতি পদে ছিলেন ২টি টার্মে। বর্তমানে খেত মজুর অর্গানাইজেশনের কাজ সামলাচ্ছেন। ২০২১ সালে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার প্রার্থী ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভায় লড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তবে দু'টি নির্বাচনেই পরাজিত হন। এবারেও ওই কেন্দ্রেরই প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। 

Pratikur Rahaman
প্রতীক উর রহমান

২০১০-১১ সালে SFI করাকালীন তৃণমূল কর্মীদের হাতে বেধড়ক মার খেয়েছিলেন প্রতীক উর। একটি নদীর ধারে কার্যত 'আধমরা' অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। মৃত ভেবে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। 

বাবা-মা, দুই ভাই, স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে পরিবার। বর্তমানে পার্টির হোলটাইমার হওয়ার পাশাপাশি তিনি ওড়িশা থেকে আইন পড়ছেন। 

Pratikur Rahaman
প্রতীক উর রহমানের পরিবার

প্রতীক উরের দল ছাড়ায় কতটা ক্ষতি CPIM-এর?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র বলেন, 'কোন দলের কতটা লাভ বা ক্ষতি হবে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির। এটা তো সন্ধেবেলার টিভি সিরিয়াল নয়। দলবদল এবং তা-ও সত্যি মিথ্যা কি না, তা নিয়ে শুধুমাত্র আলোচনা হলে আসলে দলগুলি স্বাস্থ্য-শিক্ষা-শিল্প নিয়ে কী ভাবছে তা আর চর্চায় আসবে না। তবে CPIM কিছুটা চর্চায় আসবে হয়তো, এতে সামান্য লাভ হবে। মোটের উপর প্রতীক উর দল ছাড়লে CPIM-এরও তেমন একটা ক্ষতি হবে না কিংবা তৃণমূলে যোগ দিলে তাদেরও খুব একটা লাভ হবে না। প্রতীক উরের মতো অল্পবয়সী CPIM-এর নেতারা সুস্থ রাজনীতির পথ দেখাচ্ছেন বলেই মধ্যবিত্ত বাঙালিরা মনে করেন, সেই জায়গাটাতে আঘাত লাগবে।' তিনি আরও বলেন, 'CPIM-এর স্পষ্ট করে জানানো উচিত প্রতীক উরের চিঠি কীভাবে প্রকাশ্যে এল। এতে একটু ভাল থ্রিলারের মশলা রয়েছে। যে নীতি বা তত্ত্বের কারণে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা করা উচিত। কিন্তু মুড়ি-চানাচুরের আলোচনা হলে তা মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।'

Advertisement

বিস্ফোরক প্রতীক উর 
সংবাদমাধ্যমে CPIM-এর তরুণ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, 'আমি চিঠি দিয়েছি সেলিমদাকে। তাঁর তো উচিত ছিল যোগাযোগ করা। আমি রাজ্য কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চিঠি দিয়েছিলাম। আলিমুদ্দিনের বাড়ির খবর বাইরে বেরোচ্ছে কী করে? আমি পার্টির সঙ্গে বসতে রাজি। যদি না-করা হয়, বুঝব কোনও পেয়ারের লোক বা কোনও লালটুসকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।' তাঁর আরও বক্তব্য, 'মানুষ আত্মহত্যা করে কখন? যখন তার সামনে কোনও উপায় থাকে না আমি দলকে ডিভোর্স দিতে চাইনি। দল আমায় তিন তালাক দিচ্ছে।'

 

POST A COMMENT
Advertisement