scorecardresearch
 

Raima Islam Shimu Murder Update: একটা সুতোই খুলে দিল শিমুর খুনের জট, উঠল পর্দা! কীভাবে ?

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু মরদেহ উদ্ধারের পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গ্রেফতার করা হয় শিমুর স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭)। শিমুর দেহ বস্তায় ভরার পর যে সুতো দিয়ে বস্তা বাঁধা হয়েছিল, সেই প্লাস্টিকের সুতোর সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

বস্তার সুতোর সূত্রে মিলল শিমুর খুনি বস্তার সুতোর সূত্রে মিলল শিমুর খুনি
হাইলাইটস
  • বস্তার সুতোর সূত্রে মিলল শিমুর খুনি
  • কেন খুন হলেন শিমু?
  • কীভাবে হত্যা করা হয় অভিনেত্রীকে?

বাংলাদেশী  অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর  বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায়  তার স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার  বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদের তিনদিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ধৃতদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চুন্নু মিয়া। শুনানি শেষে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম তাদের তিন দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু বিরুদ্ধে মামলা করেন শিমুর ভাই হারুনুর রশীদ। এছাড়া মামলায় বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

 

রাইমা ইসলাম শিমু
রাইমা ইসলাম শিমু

বস্তার সুতোর সূত্রে মিলল শিমুর খুনি
অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু মরদেহ উদ্ধারের পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গ্রেফতার করা হয় শিমুর স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭)। শিমুর দেহ বস্তায় ভরার পর যে সুতো দিয়ে বস্তা বাঁধা হয়েছিল, সেই প্লাস্টিকের সুতোর সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী শিমুকে হত্যা করেন নোবেল। অথচ গত রবিবারই কলাবাগান থানায় স্ত্রীর নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার দেহ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নিহত মহিলার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে এবং অভিনেত্রী শিমুর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময়ই একটি প্লাস্টিকের সুতোর সূত্র ধরে সামনে আসে হত্যার মূল রহস্য। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিমুর দেহ গুম করতে দুটো বস্তা যে প্লাস্টিকের সুতো দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল, সেই সুতোরই হুবহু এক বান্ডিল শিমুর স্বামী নোবেলের গাড়িতে পাওয়া যায়। গাড়িটি ধোয়া অবস্থায় ছিল এবং দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছেটানো ছিল। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোবেলকে আটক করে পুলিশ।

 

স্বামীর সঙ্গে শিমু
স্বামীর সঙ্গে শিমু

 

যেভাবে হত্যা করা হয় অভিনেত্রীকে
কেরানীগঞ্জ মডেল থানা হেফাজতে  জিজ্ঞাসাবাদের পর নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। শিমুর স্বামী নোবেলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে নোবেল শিমুকে হত্যা করেছেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রিববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা-৮টার দিকে তিনি শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন। এরপর ফরহাদকে মোবাইলে কল করে ডেকে নেন। পরে ফরহাদ ও নোবেল পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে বস্তা এনে শিমুর দেহ লম্বালম্বিভাবে দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের সুতো দিয়ে সেলাই করেন। এরপর বাড়ির দারোয়ানকে ব্রেকফাস্ট আনতে বাইরে পাঠিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে শিমুর দেহ বস্তাবন্দি করে বেরিয়ে যান।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি নায়িকার বস্তাবন্দি দেহ, ধৃত স্বামী

শিমুর দেহ নিয়ে ফের বাড়িতে ফেরেন নোবেল
প্রথমে নোবেল ও ফরহাদ মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে দেহ গুমের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা আবার বাড়িতে ফেরেন। রবিবার সন্ধ্যায় আবার তারা দেহ লুকিয়ে  ফেলতে ঢাকার মোহাম্মদপুর, বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে যান। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টায় মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ দূরে রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর দেহটি ফেলে পালিয়ে যান তারা।

 

নোবেল ও তার বন্ধু
নোবেল ও তার বন্ধু

 

 খন্দকার শাখাওয়াত আলী নোবেলের বক্তব্য
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিমুকে হত্যার দায় শিকার করেন তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল। নোবেল জবানবন্দিতে জানান, গত শনিবার রাতে গ্রিন রোডের বাড়িতে শ্বাসরোধে হত্যার পর দিন বাল্যবন্ধু ফরহাদকে নিয়ে কেরানীগঞ্জে গিয়ে মরদেহ ফেলে দিয়ে আসেন। ফিরে এসে কলাবাগান থানায় স্ত্রী নিখোঁজের ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার শাহাবুদ্দিন কবির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর সারারাত মরদেহের সঙ্গেই থাকেন নোবেল। পর দিন সকালে বন্ধু ফরহাদকে বাড়িতে ডাকেন। সকালে তারা বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে ব্রেকাফাস্ট আনতে বাইরে পাঠিয়ে একটি বস্তায় করে মরদেহটি গাড়িতে তোলেন। এর পর মরদেহ ফেলার জায়গা খুঁজতে তারা সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর বেড়িবাঁধের দিকে যান। কিন্তু সেখানে সুবিধা করতে না পেরে বিকেলে আবার দেহ নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। তারা রাত অবধি অপেক্ষা করে আবার দেহ নিয়ে গাড়িতে করে বেরিয়ে পড়েন এবং কেরানীগঞ্জের আলিয়াপুর মরদেহ ফেলে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে কলহ থাকায় শিমুকে হত্যা করেছেন বলে জানায় নোবেল।

আরও পড়ুন:আবারো বিয়ের পিঁড়িতে, ২ ফেব্রুয়ারি প্রিন্সের গলায় মালা দেবেন তিশা

অভিনেত্রী শিমু সপরিবারে ঢাকার কলাবাগান থানাধীন গ্রিন রোড এলাকায় থাকতেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার হযরতপুর ইউনিয়নের আলীপুর ব্রিজ এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর থেকে শিমুর বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য কলহের কারণে চিত্রনায়িকা ও মডেল রাইমা ইসলাম শিমুকে (৩৫) হত্যা করেছেন তার স্বামী শাখাওয়াত আলী নোবেল। এরপর শিমুর দেহ  টুকরো করে বস্তায় ভরে গুম করতে সহায়তা করেছেন নোবেলের বন্ধু ফরহাদ। ঘটনাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মডেল শিমুর স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেফতার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেফতার দুজনই মাদকাসক্ত ও বেকার বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, অভিনেত্রী শিমুর ১৯৯৮ সালে ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক হয়। তিনি প্রায় ২৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া তিনি একটি টিভি চ্যানেলের মার্কিটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শিমু চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী সমিতির সদস্যপদ হারানো ১৮৪ জনের মধ্যে একজন। তিনি ভোটাধিকার ফিরে পেতে আন্দোলন করছিলেন।