Bollywood Intimacy Shooting: বলিউডে কীভাবে ঘনিষ্ঠ চুম্বনের দৃশ্যের শ্যুটিং হয়? জানালেন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর

Intimacy Shooting: বেশ কিছু 'বোল্ড' বা সাহসী শো-তে অভিনয় করার সময় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের নেপথ্য কাহিনি এবার প্রকাশ করেছেন নেহাল। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর কীভাবে কাজ করেন, তাদের দায়িত্ব কী এবং কীভাবে তারা অভিনেতাদের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করাতে সাহায্য করেন।

Advertisement
বলিউডে কীভাবে ঘনিষ্ঠ চুম্বনের দৃশ্যের শ্যুটিং হয়? জানালেন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরনেহাল ভাদোলিয়া

বলিউড অভিনেত্রী নেহাল ভাদোলিয়া বর্তমানে একজন 'ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর' অর্থাৎ ঘনিষ্ঠ দৃশ্য সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন। বেশ কিছু 'বোল্ড' বা সাহসী শো-তে অভিনয় করার সময় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের নেপথ্য কাহিনি এবার প্রকাশ করেছেন নেহাল। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর কীভাবে কাজ করেন, তাদের দায়িত্ব কী এবং কীভাবে তারা অভিনেতাদের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করাতে সাহায্য করেন।

নেহাল জানান যে, একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। তিনি বলেন, "পরিচালকদেরও ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের প্রয়োজন হয়। দৃশ্যগুলো আমরা যতটা ভাল বুঝতে পারি, পরিচালকরা হয়তো ততটা পারেন না। একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের সহায়তায় দৃশ্যটির প্রকৃত অনুভূতি বুঝতে সুবিধা হয়। অভিনেতারা অনেক সময় পরিচালকদের সঙ্গে নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা থেকে সরাসরি কথা বলতে পারেন না। পরিচালক চাইলেই নির্দেশ দিতে পারেন না যে, অভিনেতাকে কী রঙের অন্তর্বাস পরতে হবে কিংবা শরীরের কতটা অংশ অনাবৃত রাখতে হবে। ঠিক এই জায়গাতেই আমাদের প্রয়োজন পড়ে। অভিনেত্রীরা আমাদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারেন।" 

নেহাল জানান, পরিচালকরা তাঁকে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের চিত্রনাট্য পাঠিয়ে দেন। এরপর ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর পরিচালককে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি অভিনেতাদের দিয়ে দৃশ্যগুলো সঠিকভাবে করিয়ে নেবেন। নেহাল ব্যাখ্যা করেন যে, প্রতিটি চ্যানেলেরই নিজস্ব কিছু শর্তাবলি থাকে-যেমন দৃশ্যে কতটা ঘনিষ্ঠতা বা শরীরের কতটা অংশ প্রদর্শন করা যাবে। একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী একা একা কোনও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে পারেন না। তাদের অবশ্যই চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তাবলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। শ্যুটিং ফ্লোরে নামার আগেই ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরকে নারী ও পুরুষ—উভয় অভিনেতার সামনেই দৃশ্যগুলো অভিনয় করে বা বুঝিয়ে দেখাতে হয়। এছাড়া শ্যুটিং চলাকালীন সেটে অভিনেতাদের স্বাচ্ছন্দ্যের মাত্রা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয় এবং তাঁদের দুশ্চিন্তামুক্ত ও সহজ করে তোলার চেষ্টা করা হয়। 

নেহাল জানান যে, তাঁর কাজের সময়সীমা সাধারণত চার ঘণ্টা। সেটে একজন ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের অনুপস্থিতিতে শ্যুটিংয়ের কাজ একদিন পিছিয়ে যেতে পারে, যার ফলে নির্মাতাদের প্রযোজনা ব্যয়ও বেড়ে যায়। নেহালের মতে, পরিচালকরা কাজের কলাকৌশল শেখালেও অনেক সময় তাঁদের নিজস্ব বা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িয়ে থাকে। তিনি যখন একজন অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করতেন, তখন কেউ তাঁর কাছে কোনও অযৌক্তিক দাবি বা আবদার করেননি। কিন্তু ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর হওয়ার পর, উল্টো তাঁর কাছেই বিভিন্ন ধরনের দাবি পেশ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, "একজন পরিচালক আমাকে কাজের খুঁটিনাটি শিখিয়েছিলেন। তিনি আমাকে পরিচালকের চেয়ারে বসিয়েছিলেন এবং এরপর, শ্যুটিং ইউনিট চলে যাওয়ার পর তিনি আমাকে বলেন, 'তুমি তো ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর; সব দৃশ্য সম্পর্কে তোমার খুব ভাল ধারণা থাকার কথা। মনে হচ্ছে বাস্তব জীবনেও তুমি বেশ পারদর্শী। নিশ্চয় তুমি প্রায়ই হোটেলে যাতায়াত করো?'অন্য আরেকজন পরিচালক, সব কাজ শেষ হওয়ার পর আমাকে আড়ালে ডেকে বলেছিলেন, 'তুমি দারুণ কাজ করেছ। তোমাকে বেশ অভিজ্ঞ মনে হল। পরের বারও আমি তোমাকে ডাকব।' তিনি আমার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল দেখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি কোনও বয়ফ্রেন্ড আছে?' আমি না বললাম। কিন্তু তিনি বললেন, 'আমরা বরং চেষ্টা করে দেখতে পারি। তোমার শরীরটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।" 

Advertisement

নেহাল যোগ করেন, "এরপর তিনি আমাকে একপাশ থেকে জড়িয়ে ধরে বলেন, 'না, আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড হতে পারব না। তবে তোমাকে একপাশ থেকে জড়িয়ে ধরে আমি তোমার স্পর্শটা অনুভব করে নিলাম।" নেহা ওই পরিচালকের প্রযোজনা সংস্থার কাছে এবিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। নেহাল জানান যে, অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের আগে অভিনেতাদের সম্মতির একটি ভিডিও করা হয়। অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর সাধারণত সেই ফুটেজগুলো মুছে ফেলা হয় না। কেবল তখনই মুছে ফেলা হয়, যদি কোনও জনপ্রিয় বা মুখ্য অভিনেতা তা মুছে ফেলার অনুরোধ জানান।" 

নেহাল আরও জানান যে, অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের আগে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, অভিনেতারা আমিষ খাবার, পেঁয়াজ বা রসুন খেতে পারবেন না; তাঁদের স্নান করে আসতে হবে এবং সুগন্ধি বা মাউথ ফ্রেশনার ব্যবহার করতে হবে। চুম্বনের দৃশ্যের নিয়মকানুন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নেহাল বলেন, "চুম্বনের সময় জিহ্বা দিয়ে স্পর্শ করা যাবে না। চুম্বনের স্থান কেবল ঠোঁটের আশেপাশেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে; গভীর বা তীব্রভাবে চুমু খাওয়া যাবে না এবং কামড় দেওয়াও চলবে না। কিছু ক্ষেত্রে ক্যামেরার নির্দিষ্ট কোণ বা কৌশলের সাহায্যে 'চিট কিস' বা কৃত্রিম চুম্বনের দৃশ্যগুলো করা হয়। বাস্তবে অভিনেতারা একে অপরকে চুমু খান না।"

 

POST A COMMENT
Advertisement