হাসপাতালে ভর্তি আশা ভোঁসলেকিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক। ৯২ বছর বয়সী গায়িকা মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের এমার্জেন্সি মেডিক্যাল ইউনিটে চিকিৎসা চলছে তাঁর।
হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সামদানি জানান, আশাজি তাঁর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তবে এর চেয়ে বেশি বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি। প্রিয় গায়িকার অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন অনুরাগীরা।
জল্পনার মাঝেই মুখ খুলেছেন আশা ভোঁসলের নাতনি জনাই ভোঁসলে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন,'অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে দিদাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমি অনুরোধ করব, দয়া করে আমাদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন। ওঁর চিকিৎসা চলছে। আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা শীঘ্রই ইতিবাচক খবর আপনাদের জানাব'।
My grandmother, Asha Bhosle due to extreme exhaustion and suffering a chest infection has been admitted to hospital and we request you to value our privacy. Treatment is ongoing and hopefully everything will be well and we shall update you positively.
— Zanai Bhosle (@ZanaiBhosle) April 11, 2026
আশার সুরের সফর
পাঁচের দশক থেকে আজ পর্যন্ত ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য নাম আশা ভোঁসলে। দিদি লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় নয়, বরং নিজের স্বতন্ত্র গায়কিতে জায়গা করে নিয়েছিলেন আসমুদ্রহিমাচলের মনে। ১৯৫২ সালে 'সঙ্গদিল' ছবিতে সাজ্জাদ হোসেনের সুরে তাঁর গান প্রথম। এরপর বিমল রায়ের 'পরিণীতা' (১৯৫৩) এবং রাজ কাপুরের 'বুট পলিশ' (১৯৫৪) ছবিতে তাঁর কণ্ঠের জাদু।
আশা ভোঁসলের কেরিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ১৯৫৭ সালে বি আর চোপড়ার 'নয়া দৌড়' ছবির হাত ধরে। ও পি নাইয়ারের সুর আর মহম্মদ রফির সঙ্গে কালজয়ী গানগুলি আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ‘মাঙ্গ কে সাথ তুমহারা’ থেকে ‘উড়ে জব জব জুলফে তেরি’- সে গান আজও অমলিন।
ছয়ের দশকে ও পি নাইয়ার এবং পরে আর ডি বর্মনের সঙ্গে তাঁর জুটি আধুনিক ভারতীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গীতকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়। ‘তিসরি মঞ্জিল’-এর বিখ্যাত গান ‘আজা আজা’ গাওয়ার সময় আশা নাকি প্রথমে দ্বিধায় ছিলেন, ওয়েস্টার্ন টিউন ঠিকমতো তুলতে পারবেন কি না। কিন্তু দশ দিনের রেওয়াজের পর যখন তিনি রেকর্ড করলেন, ইতিহাস রচিত হল। এরপর ‘ও হাসিনা জুলফো ওয়ালি’, ‘পিয়া তু অব তো আজা’ বা ‘ইয়ে মেরা দিল’-এর মতো গান আশাকে দেয় নতুন উচ্চতা।
শুধু চটুল গান নয়, গজল এবং ধ্রুপদী গানে অনন্য আশা। গজল গেয়েই কেরিয়ারের প্রথম জাতীয় পুরস্কার। পরবর্তীকালে নয়ের দশকে ‘রঙ্গিলা’ বা ২০০০ সালের ‘লগান’ ছবিতেও সুরের দাপট। বয়স যে কেবলই একটা সংখ্যা, তা প্রমাণ করেছেন বারবার। ৯১ বছর বয়সেও দুবাইয়ের মঞ্চে দাপিয়ে শো করেছেন। এমনকি বর্তমান প্রজন্মের হার্টথ্রব করণ আউজলার ‘তৌবা তৌবা’ গেয়ে জয় করে নিয়েছিলেন নেটিজেনদের মন। আপাতত ‘আশা তাই’-এর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় প্রার্থনা করছেন তাঁর কোটি কোটি ভক্ত।\