সুমনা চক্রবর্তীসুমনা চক্রবর্তী 'দ্য কপিল শর্মা শো'-তে কমেডিয়ান কপিল শর্মার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। এই শো-এর মাধ্যমে তিনি প্রতিটি ঘরে ঘরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসা পেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কপিলের শো-তে সুমনাকে দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া তিনি হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ভক্তরা তাঁর ফেরার অপেক্ষায় ধৈর্য ধরে ছিলেন। অবশেষে জানা গেল তাঁর দীর্ঘ সময় পর্দার আড়ালে থাকার কারণ। আসলে শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন সুমনা। তবে এখন তিনি সুমনা ফিরেছেন।
কোথায় ছিলেন সুমনা?
রবিবার, ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন সুমনা চক্রবর্তী, যেখানে নিজের বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis) রোগে ভুগছিলেন। গত দুই মাস ধরে তিনি এই রোগের চিকিৎসা করাচ্ছিলেন এবং এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দীর্ঘ সময় নেটদুনিয়া থেকে দূরে থাকার কারণ ছিল নিজের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতির দিকে মনোযোগ দেওয়া।
৩৮ বছর বয়সী সুমনা জানিয়েছেন যে তিনি এখন ভাল আছেন এবং চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যারা তাঁর সঠিক চিকিৎসা করেছেন। তিনি এমন এক পরিবর্তনের কথা বলেছেন যা জীবন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। অভিনেত্রী জানান, একটা সময় তিনি ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট ফেলার কথাও ভেবেছিলেন, কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি সমস্যার সমাধান নয়।
অভিনেত্রী বলেন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ধরন বদলে ফেলেছেন। কখনওই 'লাইক' বা 'ফলোয়ার'-এর পেছনে ছোটেননি। সুমনা জানান, এখন তিনি সোশ্যাল মিডিয়াকে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চান যেখানে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পেরি-মেনোপজ (perimenopause), এন্ডোমেট্রিওসিস, সাধারণ স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, বই, গাছপালা এবং কুকুর-বিড়ালের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যায়—যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ।
বডি শেমিংয়ের শিকার সুমনা
সোশ্যাল মিডিয়ায় 'বডি শেমিং'এবং অশ্লীল মন্তব্যের শিকার হওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন সুমনা। তিনি জানান, তাঁর পোস্টের নিচে করা মন্তব্যগুলোতে প্রায়ই তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে উপহাস করা হয় অথবা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের মন্তব্য সবসময় পুরুষরাই করে থাকেন। তবে তিনি এও বলেন যে, অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন যারা তাঁর পোস্ট পড়েন, পছন্দ করেন, ব্যক্তিগত মেসেজ পাঠান এবং এরপর নিজেদের কাজে ফিরে যান।
এত দীর্ঘ একটি পোস্ট লেখার কারণও জানিয়েছেন সুমনা। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন, ব্যস্ত জীবনের মাঝেও কতজন মানুষ এটি পড়ার জন্য এবং ক্ষণিকের জন্য থমকে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সময় বের করতে ইচ্ছুক। নিজের পোস্টটির জন্য সুমনা চক্রবর্তী অনেকের ভালোবাসা পেয়েছেন। নিজের কষ্ট ও অনুভূতি এত খোলামেলাভাবে প্রকাশ করার জন্য সবাই তাঁর ওপর গর্বিত।