ভারতে এমন ভিন্ন ধারার ইংরাজি ছবি যে এত লোক দেখবেন, তা বোধ হয় নির্মাতারও ভাবেননি। এখনও ভারতীয়দের মধ্যে মাইকেল জ্যাকসনের (Michael Jackson) জনপ্রিয়তা অটুট। সেটাই প্রমাণ করল তাঁর বায়োপিক ‘মাইকেল’। শুক্রবার মুক্তির পরই ছবিটি বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাড়া পেল হলিউডের সিনেমা। ভারতে এমন ভিন্ন ধারার ইংরাজি ছবি যে এত লোক দেখবেন, তা বোধ হয় নির্মাতারও ভাবেননি।
এমনিতেই গায়কের তুলনায় ডান্সার মাইকেলই ভারতে তুমুল জনপ্রিয়। বর্ধমানের গ্রামের মাচা শো থেকে শহরের রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চ, মাইকেল জ্যাকসনের ‘মুনওয়াক’ আজও বেশ জনপ্রিয়। সামনে হাঁটার ভঙ্গিতে পিছিয়ে যাওয়ার সেই ভঙ্গি অনুকরণ করেন অসংখ্য মানুষ। ফলে তাঁর জীবন নিয়ে এই ছবিতে যে সবার আগ্রহ থাকবে, তা আগেই আন্দাজ করা হয়েছিল। কিন্তু এত বেশি বক্স অফিস কালেকশন কেউ এক্সপেক্ট করেননি।
দুর্দান্ত ওপেনিং কালেকশন
রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির আগের দিন পেইড প্রিভিউ থেকেই প্রায় ১.৭০ কোটি টাকার নেট আয় করে ‘মাইকেল’।
শুক্রবার মুক্তির দিন ছবিটি ভারতে প্রায় ৩.৮০ কোটি টাকার নেট কালেকশন করেছে। এ বছর এখনও অবধি রিলিজ হওয়া হলিউড ছবিগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ।
মজার বিষয় হল, এই একই সময়ে হলে আরও বেশ কয়েকটি ছবি চলছে। ‘ধুরন্ধর ২’, ‘ভূত বাংলো’ এবং হলিউডেরই ‘প্রোজেক্ট হেল মেরি’। তুলনামূলক কম শো পেয়েছে ‘মাইকেল’। তাতেও দর্শকদের মধ্যে মাইকেল নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে।
কম শো, তবুও ভাল কালেকশন
শুক্রবার গোটা ভারতে প্রায় ৩ হাজার স্ক্রিনে ‘মাইকেল’ চলেছে।
অন্যদিকে ‘ভূত বাংলা’ ৮৫০০-র বেশি শো পেয়েও প্রায় ৬ কোটি টাকার কাছাকাছি আয় করেছে।
ফলে, এর থেকেই স্পষ্ট যে, সীমিত শো-তেই দর্শকদের বিপুল সাড়া পেয়েছে ‘মাইকেল’। অক্ষয় কুমারের হিন্দি সিনেমা ছেড়েও লোকে ইংরাজি, ভিন্নধারার সিনেমা দেখছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা ভারতীয় দর্শকদের রুচিবোধে পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত বলা যায়।
কেন সফল হল ‘মাইকেল’?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের পিছনে স্মার্ট রিলিজ স্ট্র্যাটেজিও রয়েছে ।
বড় হলিউড স্টুডিয়োগুলি এখন আর অযথা বেশি স্ক্রিনে রিলিজ করে না। বরং তারা এমন শহর ও হল বেছে নেয়, যেখানে এমনিতেই ইংরেজি ছবির দর্শক রয়েছে।
দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদের মতো শহরগুলিই মূল টার্গেট থাকে। বড় মাল্টিপ্লেক্স। এই স্ট্র্যাটেজি ‘মাইকেল’-এর ক্ষেত্রেও কাজে দিয়েছে।
২০২৬-এ হলিউডের দাপট
২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই ভারতে হলিউড ছবির দাপট চোখে পড়ার মতো।
‘প্রোজেক্ট হেল মেরি’ ইতিমধ্যেই ৬০ কোটির বেশি আয় করে ব্লকবাস্টার।
‘দ্য মমি’ মাত্র ৮ দিনে প্রায় ১৯ কোটি টাকার কালেকশন করেছে।