
অপরাজিতা- ঐশী (ছবি: ফেসবুক)শিরোনামে বাংলা সিনে দুনিয়া। বন্ধ হয়ে যেতে পারে একাধিক মেগা সিরিয়াল। শেষ হয়েছে 'ভোলেবাবা পার করেগা'। আপাতত বন্ধ আছে 'চিরসখা' ও 'কনে দেখা আলো'-র শ্যুটিং। এই দুই মেগার ভবিষ্যৎ কী, সত্যিই শেষ হবে কিনা এই নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে সকলের মনে। দুই ধারাবাহিকের কিছু শিল্পী প্রশ্ন তুলেছেন, কোন দোষে তাঁদের কাজ হারাতে হল? যার জেরে বুধবার, টেকনিসিয়ান্স স্টুডিওতে এসব ধারাবাহিকের শিল্পী- কলাকুশলীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টায় রয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম। যার ফলে, কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন সকলে। যেসব বাংলা মেগার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, সেগুলোর গল্প এখন কোন দিকে এগোচ্ছে, কীভাবে হঠাৎ ইতি টানা সম্ভব, তা নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন।
শোনা যাচ্ছে রবিবারই শেষ সম্প্রচার হবে 'চিরসখা'-র পর্ব। আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে রাত ১০টায়, 'চিরসখা'-র স্লটে সম্প্রচারিত হবে নতুন মেগা 'সংসার সংকীর্তন'। এই সময় সম্প্রচারিত হত। 'চিরসখা'-র ট্র্যাকে চলছে, মিঠি, কৃষানুর বাড়িতে ফিরেছে এবং দু'জনের বৌভাত ভাল মতো সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে পরিবারে খুশির হাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বর্ষামা হতে চলেছে। এই নিয়ে বুব্লাই ছাড়াও কমলীনি, সৌজন্য হহ সকলে দারুণ খুশি। বর্ষা চরিত্রটা এখানে ধূসর। তবে বর্ষার মধ্যেও সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে। এবার দেখার, যদি সত্যিই রবিবার 'চিরসখা'-র শেষ পর্ব হয়, তাহলে কীভাবে শেষ হয়।

এখনও পর্যন্ত 'চিরসখা' শেষ হওয়া নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি বা ঘোষণা করেনি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। তবে সেই ইঙ্গিতই মিলছে। এবার একটি আবেগঘন পোস্ট করলেন 'চিরসখা' মিঠি, অভিনেত্রী ঐশী ভট্টাচার্য। ধারাবাহিকের এত দিনের জার্নির বেশ কিছু ঝলক শেয়ার করে অভিনেত্রী লেখেন, "কত কী যে লিখতে ইচ্ছে করছে তার কোনও ঠিক নেই। তবে আমি তো লেখিকা নই তাই যা কিছু অনুভব করছি তা ভাষায় সঠিক প্রকাশ করতে পারব না। সেই জন্যই বেশী লিখব না, লিখব কিছু অল্প কথা চিরসখার দর্শকদের জন্য, নিজের জন্য আর চিরসখার জন্য।"

ঐশী আরও লেখেন, "আমি মনে মনে জানতাম, যেদিন শেষ হবে আমাদের চিরসখা, বড্ড কষ্ট হবে। সব কাজের পরেই খারাপ লাগা থাকে, তবে এবার কষ্টের তীব্রতা বেশী হবেই। জানেন চিরসখাতে যাদের সঙ্গে কাজ করলাম তাদের প্রায় সকলের সঙ্গেই আমার এটাই প্রথম কাজ। প্রথম কিছুদিন কতজনের সাথে কথাই বলা হয়নি। তারপর একদিন বন্ধু হয়ে গেলাম। কাজের জায়গায় এমন বন্ধুত্ব কষ্টদায়ক জানেন তো! এখন বুঝতে পারলাম। জানি চিরসখা সময়ের নিয়মে একসময় শেষ হতই। তবে শেষ দিনটা জানতাম। শেষদিনটায় হয়তো আর একটু বেশি করে ফ্লোরের জিনিসগুলো ছুঁয়ে থাকতাম, আর একবার প্রথম থেকে পুরোটা সবাই টুকরো টুকরো করে মনে করে নিতাম। ধীরে ধীরে সাজানো সব জিনিস নিজেই হাতে করে খুলে রাখতাম। যদি জানতাম….আপনারা মিঠিকে খুব ভালোবেসেছেন। জানেন, আমিও মিঠিকে বড় বেশিই ভালোবেসে ফেলেছিলাম…।" অভিনেত্রীর পোস্টে, ধারবাহিক শেষ হওয়া নিয়ে নিজেদের মন খারাপের কথা জানিয়েছেন বহু দর্শক- নেটিজেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ, রবিবারের পর থেকে তোলপাড় টলিউড। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে এখনও শোকস্তব্ধ সকলে। শোকের ছায়া বাংলা বিনোদন জগতে। এই মৃত্যু ঘিরে রয়েছে নানা ধোঁয়াশা। ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সকলেই তুলছেন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। সেই সঙ্গে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছেন প্রায় সকলেই। প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আর্টিস্ট ফোরাম ও প্রিয়াঙ্কা সরকার অভিযোগ দায়ের করেছেন। ৭ এপ্রিল থেকে নিজেদের সুরক্ষার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল টলিপাড়া। মঙ্গলবার, টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় দিনভর দফায় দফায় বৈঠক হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেন রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তরা।
টলিপাড়ার বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছেন তাঁরা। ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স বা ওই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে কোনও কাজ আপাতত করবেন না শিল্পী বা টেকনিশিয়ানরা। ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কড়া করতে, আগামী পনেরো থেকে তিরিশ দিনের মধ্যে তৈরি করা হবে আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (এসওপি)। এছাড়া শিল্পী এবং কলাকুশলীদের জন্য তৈরি হবে বীমা। যত দিন না সেই বীমা তৈরি হচ্ছে, তত দিন ঝুঁকি নিয়ে এমন কোনও জায়গায় শ্যুটিং করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, সর্বভারতীয় স্তরেও যাতে ওই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কেউ কাজ না করেন, সেই আবেদনও করা হয়। সংবাদমাধ্যমকে প্রসেনজিৎ জানান, "রাহুলের মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বিচার’ চেয়ে অজস্র প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। কথা নয়, আমরা কাজের মাধ্যমে উত্তর দিলাম। আপাতত বাংলায় তাঁর কাজ বন্ধ হল। আগামী দিনে আর কী করতে চলেছে আর্টিস্ট ফোরাম, তার জন্য সবাই আর কয়েকটি দিন অপেক্ষা করুন।"