দেব ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অন্ত হয়ে এরাজ্যে বিপুল জয় হয়েছে বিজেপি-র। রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, এই প্রশ্ন এখন সকলের মনে। রাজনীতিতে গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের হিড়িক গত কয়েক বছরের ট্রেন্ড। এত দিন যে তারকাদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যেত বা মিছিলের সামনে সারিতে দেখা যেত, সেসব তৃণমূলপন্থী তারকাদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভরেছে মিমে। নেটিজেনরা কটাক্ষ করছে, 'এবার আবার কি তাঁরা পাল্টি খাবেন', এই প্রশ্ন তুলে।
এতদিন তিনি চুপ ছিলেন। রাজ্যের নির্বাচনী ফল ঘোষণার দু'দিন পরে এবার মুখ খুললেন দেব। বিজেপির বিধায়কদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশেষ আবেদন করলেন অভিনেতা- প্রযোজক তথা তৃণমূল- কংগ্রেস সাংসদ। ফেসবুকে তিনি লেখেন, "বাংলায় নতুন সরকার গঠনের জনরায়ের জন্য বিজেপি-কে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আমি একান্তভাবে আশা করি যে, এই সরকার আমাদের রাজ্যের অগ্রগতি, শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে এবং নিশ্চিত করবে যেন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর যথাযথভাবে শোনা হয়।"
দেব আরও বলেন, "জনজীবন এবং চলচ্চিত্র জগৎ- উভয়ের সঙ্গেই গভীরভাবে যুক্ত একজন ব্যক্তি হিসেবে, আমি নতুন সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই যেন তারা ঐক্য ও শৈল্পিক স্বাধীনতার চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখেন। এর জন্য প্রয়োজন, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের অভ্যন্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও বিভাজনের যে সংস্কৃতি বিদ্যমান, তাকে চিরতরে অতীতের বিষয়বস্তুতে পরিণত করা। সিনেমা হল বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচয়। আর এর প্রকৃত বিকাশ কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান এবং সম্মিলিত অগ্রগতির মাধ্যমেই সম্ভব।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এছাড়াও, 'ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা আমি অধীর আগ্রহে প্রত্যাশা করছি—যা ঘাটালবাসীর কাছে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং এক অপরিহার্য প্রয়োজন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেখলে, এটি মূলত মানুষের জীবন রক্ষা, জীবিকা সুনিশ্চিত করা এবং ঘাটালবাসীকে তাদের প্রাপ্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে।"
দেবের এই পোস্ট দেখে বহু নেটিজেন তাঁকে কটাক্ষ শুরু করেছেন। অনেকে লিখেছেন, 'পাল্টি খাচ্ছেন'। অন্যদিকে দেবের অনুগামীরা তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। অতীতেও বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য, প্রশ্ন উঠেছিল দেব কি তৃণমূল- কংগ্রেস ছাড়ছেন? এমনকি, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভোটে দাঁড়াতে চাননি, দেব। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে বৈঠক করে রাজি করান।
প্রসঙ্গত, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের নানা সমস্যা নিয়ে বারবার হয়েছেন দেব। এমনকি ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে দেবের কাজিয়া বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। ইন্ডাস্ট্রির 'ব্যান কালচার' নিয়ে নিয়ে সরব হয়েছেন। এবার দেখার, ভবিষ্যতে তিনি কি তৃণমূল- কংগ্রেসেই থাকেন, নাকি 'দিদি' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে নাম লেখান গেরুয়া শিবিরে।