রূপা গঙ্গোপাধ্যায়রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। টলিপাড়ায় বদল হতে শুরু করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, টলিউডের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের দায়িত্বভার দিয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের উপর। বলা চলে, টলিউডের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন 'বিশ্বাস ব্রাদার্স' অরূপ এবং স্বরূপ বিশ্বাস। ব্যান কালচার, ফেডারেশনের 'দাদাগিরি' সব বন্ধ হবে, শিল্পী- কলাকুশলীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন এবং বাকি সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন রূপা, রুদ্রনীলরা। এমনকি, বদল আসতে পারে ইন্ডাস্ট্রির একাধিক সংগঠনে। গত ১৫ বছরে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় 'একঘরে' হয়ে ছিলেন রূপা। ক্ষমতায় এসে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিধায়ক- অভিনেত্রী।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ তারকারা এতদিন অঘোষিত 'ব্যান' কালচারের তালিকাভুক্ত ছিলেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বহু বছর পরে রূপা ও রুদ্রনীলের ছবির প্রদর্শন হল নন্দনে। সমর্পণ সেনগুপ্ত পরিচালিত ছবি 'প্রত্যাবর্তন'-র প্রদর্শনের জন্য প্রায় দীর্ঘ ১০ বছর পরে নন্দনে পা রাখেন রূপা। ফলস্বরূপ কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। রূপা শেয়ার করেন, "এমন কোনও গলা টেপা বাধা ছিল না যে, সিনেমায় কোনও অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নেওয়া যাবে না। গলা টিপে ধরা বাধা ছিল না। যেটা ছিল, একটা চোরাগোপ্তা ভয়, যে রিলিজ করতে পারা যাবে না। রিলিজটায় আটকে যাবো আমি, সেই ভয়টা ছিল। গত ১০ বছর ধরে আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার। আমরা ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আমি যা দেখছি, বহু বছরের চেনা মানুষ, সর্বক্ষেত্রে... বহুদিন ধরে পরিচিত, হয়তো ৩০ বছরের চেনা আমার ৩৫ বছরের প্রফেশনাল কেরিয়ারের মধ্যে। সেখানে বহু বছরের পুরনো চেনা মানুষ, আইএএস অফিসার, আইপিএস অফিসার বা প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পপতি... তারা পাবলিকলি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি হতবাক হয়ে যেতাম! আগে যে বড় বড় হাউসগুলো ইনভাইট করত আমাদের সেই ছোট্টবেলা থেকে, তারা আমাদের ইনভাইট করতে ভয় পেত...হঠাৎ একটা রেজিম এল, সে রেজিমে আমাদের কোথাও যাওয়া নিষেধ! কেউ ডাকবে না, কেউ সামনে দেখলে কথা বলবে না, মুচকি দূর থেকে হাসবে, এরকম করে ইশারা মারবে— এগুলো ছিল। বাড়ি গিয়ে ফোন করে মেসেজ করবে, এতদিন পরে তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে ভাল লাগল। এই সমস্ত অশান্তি এবার শেষ।"
রূপা, রুদ্রনীল, পাপিয়া, হিরণ- এই চারজনের উপর টলিউডের দায়িত্ব এবং তাঁদের কাজ প্রসঙ্গে রূপা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যা বলবেন, সে ভাবেই কাজ করব আমরা। এই বিষয়ে এখনও কিছুই ঠিক হয়নি।" তিনি আরও বার্তা দেন, শুধু এই চার জন নন, ইন্ডাস্ট্রির সবাই এক হয়ে টলিউড সামলাবেন।
প্রসঙ্গত, টলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। আবার রাজনীতির ময়দানেও তিনি সফল। হিন্দি সিরিয়ালে কাজ করে জাতীয় স্তরে সকলের মন করেছিলেন। ছবির জন্য গান গেয়ে পেয়েছিলেন জাতীয় পুরষ্কার। বি আর চোপড়ার 'মহাভারত'-এ দ্রৌপদীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল রূপাকে। এই চরিত্রে তাঁর কাজ এতটাই মনোমুগ্ধকর ছিল যে, বহু বছর পরেও বি-টাউনে আলোচনায় থাকেন অভিনেত্রী। নিজের শক্তিশালী অভিনয় দিয়ে রূপা প্রতিটি দৃশ্যে প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। এই ধারাবাহিকে কাজ করেই তিনি রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন।