অনীক দত্তশোকের ছায়া টলিউডে। প্রয়াত অনীক দত্ত। বুধবার, পরিচালক তাঁর স্ত্রীয়ের হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন পরিচালক। তড়িঘড়ি ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। অনীক দত্ত থাকতেন গড়িয়াহাট থানার কাছের বাড়িতে। কেন স্ত্রীয়ের বাড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি? কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যু ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য।
ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে চাপ চাপ রক্ত। হিন্দুস্তান পার্কের সেই বাড়িতে ইতিমধ্যে পৌঁছেছে লালবাজারের হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট। জানা যাচ্ছে, রক্তাক্ত অবস্থাত যখন পরিচালককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অনীকের মেয়ে মুম্বইতে থাকেন। তিনি এলেই, বাকি সিদ্ধান্ত হবে। তবে বুধবার, ময়নাতদন্ত হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘ দিন ধরেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ও সিওপিডির অসুখে ভুগছিলেন পরিচালক। তার আগে হৃদরোগ জনিত সমস্যার কারণেও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন 'অপরাজিত ২' ছবির। বিভিন্ন সময়ে ছবি মুক্তি নিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বাম মনস্ক অনীক। স্ত্রী সন্ধ্যার সঙ্গেই প্রায় ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে ভাঙন ধরেছিল তাঁর। ২০২৫ সালে বিচ্ছেদ চেয়ে আইনের পথে হেঁটেছিলেন পরিচালক।
বিজ্ঞাপন জগতের মানুষ ছিলেন অনীক দত্ত। বানিয়েছেন বেশ কিছু ডকুমেন্টরি। ২০১২ সালের 'ভূতের ভবিষ্যৎ' ছবির মাধ্যমে টলিউডে হাতেখড়ি। এর পরে, 'মেঘনাদবধ রহস্য', 'আশ্চর্য প্রদীপ', 'ভবিষ্যতের ভূত', 'বরুণবাবুর বন্ধু' ছবিগুলির মাধ্যমে যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছেন অনীক দত্ত। এরপর তিনি সকলের মন জয় করেন, 'অপরাজিত' ছবির মাধ্যমে। পরিচালকের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি 'যত কাণ্ড কলকাতায়'।
অনীক দত্তের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউডে। এই খবর শুনে, হাসপাতালে পৌঁছেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, জিতু কমল, ফিরদৌসুল হাসান, সৃজন ভট্টাচার্য সহ আরও অনেকে।