
নন্দনে চলবে অনীক দত্তর ছবি প্রয়াত অনীক দত্ত। বুধবার, পরিচালক তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধির হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন। দুর্ঘটনার পরে রক্তাক্ত অনীককে তড়িঘড়ি ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিচালক যেখান থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, সেই ছাদে তাঁর এক জোড়া চটি এবং একটি স্যুইসাইড নোট পাওয়া যায়। যেখানে লেখ, তাঁর মৃত্যুর জন্যে কেউ দায়ী নয়। কেন প্রাক্তন স্ত্রীয়ের বাড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি? কোন দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যু নিয়ে সকলের মনেই রয়েছে নানা প্রশ্ন।
এক সময়ে নন্দনে অনীক দত্তর ছবি ব্রাত্য ছিল। 'অপরাজিত' প্রদর্শনের অনুমতি না পেয়ে, আগের সরকারের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর, এই সরকারের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল পরিবারের সম্মতি থাকলে, শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য পরিচালকের মরদেহ কিছুক্ষণ রাখা হবে নন্দনে। বৃহস্পতিবার, সুইডেন থেকে ফেরেন পরিচালকের মেয়ে ঐশী। পরিচালকের পরিবারের তরফে প্রথমে জানানো হয়, শুক্রবার সকালে এক ঘণ্টা এনটি ১ স্টুডিওতে শায়িত থাকবে পরিচালকের মরদেহ। এরপর, রুদ্রনীল ঘোষ জানান প্রয়াত পরিচালকের মরদেহ জনসাধারণের সকাল এক ঘণ্টা নন্দনে শায়িত থাকবে। এরপর এনটি১ স্টুডিও ও সেখান থেকে বেরিয়ে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

একসময় যে নন্দন অনীককে ফিরিয়ে দিয়েছিল, সেই নন্দনেই এবার পরিচালকের সব ছবি দেখানো হবে। এমনটাই শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, "আগের সরকার যেভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি করে এসেছে, আমরা সবাই জানি। সে কারণেই ওঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের চারজন প্রতিনিধি- রুদ্রনীল, রূপাদি, পাপিয়াদি ও হিরণের নেতৃত্বে, আমরা অনীকদার একটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল করব নন্দনেই। যেখানে, অনীকদার দুর্দান্ত সব সিনেমা আমরা দেখাবো। উনি যে শুধু আমার পরিচিত একজন পরিচালক ছিলেন তা নয়। উনি আমার পরিবারের বন্ধু ছিলেন বহুদিনের। আমার বড় ছেলেকে বিজ্ঞাপনের নির্দেশনা উনিই দিয়েছিলেন এই এনটি১ স্টুডিওতেই।"
কাঁদতে কাঁদতেই রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "বারবার ওঁকে সরকারের তরফ থেকে অপমান করা হয়েছিল। ওঁর সিনেমাগুলোকে বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। সেই শোধটা তুলতাম...আমার ওঁর উপর রাগ হচ্ছে। কেন আমাদের সেই সুযোগটা দিল না। দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই অনীককে ভালোবাসি। আজ নন্দনে ওঁকে সম্মান জানানো হল। কিন্তু ওঁকে আমরা এভাবে নন্দনে সম্মান জানাতে চাইনি। ওঁর হাত ধরে নিয়ে গিয়ে নন্দনে ওঁর সিনেমা চালিয়ে, সম্মান জানাতে চেয়েছিলাম।"
প্রসঙ্গত, বিজ্ঞাপন জগতের মানুষ ছিলেন অনীক দত্ত। বানিয়েছেন বেশ কিছু ডকুমেন্টরি। ২০১২ সালের 'ভূতের ভবিষ্যৎ' ছবির মাধ্যমে টলিউডে হাতেখড়ি। এর পরে, 'মেঘনাদবধ রহস্য', 'আশ্চর্য প্রদীপ', 'ভবিষ্যতের ভূত', 'বরুণবাবুর বন্ধু' ছবিগুলির মাধ্যমে যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছেন অনীক দত্ত। এরপর তিনি সকলের মন জয় করেন, 'অপরাজিত' ছবির মাধ্যমে। পরিচালকের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি 'যত কাণ্ড কলকাতায়'। 'অপরাজিত ২' ছাড়াও, সলিল চৌধুরীর জীবনচিত্র তৈরির পরিকল্পনা ছিল পরিচালকের।