পডকাস্টে এক দেখাতেই কীভাবে রাহুলে মুগ্ধ হন আশিস বিদ্যার্থী? bangla.aajtak.in-কে জানালেন

আশিস বলেন 'আমি ‘সহজ কথা’ শুনতাম, খুব ভালো লাগত। রাহুল খুব সহজভাবে গল্প করত। আমি নিজেই ওকে ফোন করে বলেছিলাম, আমি তোমার পডকাস্টে আসতে চাই। প্রায় এক-দু’মাস পর কলকাতায় গেলে ও আমার জন্য সময় বের করে। আমি ওর বাড়িতে যাই, ওর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করি। সেখানেই শুটিং হয়। ছোট্ট সেটআপ, পাঁচ-সাত ফুট জায়গায় আমরা দু’জনে বসে গল্প করেছিলাম। দারুণ একটা সময় কেটেছিল।'

Advertisement
পডকাস্টে এক দেখাতেই কীভাবে রাহুলে মুগ্ধ হন আশিস বিদ্যার্থী? bangla.aajtak.in-কে জানালেনগ্রাফিক্স: বাংলা ডট আজতক ডট ইন
হাইলাইটস
  • রবিবার সন্ধেয় হঠাৎই আসে দুঃসংবাদ।
  • দিঘায় ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

রবিবার সন্ধেয় হঠাৎই আসে দুঃসংবাদ। দিঘায় ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। সহকর্মী, বন্ধু ও অনুরাগীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এই প্রসঙ্গে বলিউড অভিনেতা আশিস বিদ্যার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও শোকপ্রকাশ করেন। তিনি রাহুলের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’-র একজন অতিথি ছিলেন।

bangla.aajtak.in-কে আশিস বলেন, 'আমার বন্ধু সুমন চট্টোপাধ্যায় গতকাল বিকেলে আমাকে একটি ভিডিও পাঠায়। এরপর আমি সুনন্দকে ফোন করি এবং জানতে চাই কী হয়েছে। তখনই দুর্ঘটনার কথা জানতে পারি।'

রাহুলের সঙ্গে পরিচয় কীভাবে? 
আশিস সাবলীল বাংলায় বলেন, 'আমি ‘সহজ কথা’ শুনতাম, খুব ভালো লাগত। রাহুল খুব সহজভাবে গল্প করত। আমি নিজেই ওকে ফোন করে বলেছিলাম, আমি তোমার পডকাস্টে আসতে চাই। প্রায় এক-দু’মাস পর কলকাতায় গেলে ও আমার জন্য সময় বের করে। আমি ওর বাড়িতে যাই, ওর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করি। সেখানেই শুটিং হয়। ছোট্ট সেটআপ, পাঁচ-সাত ফুট জায়গায় আমরা দু’জনে বসে গল্প করেছিলাম। দারুণ একটা সময় কেটেছিল।'

‘সহজ কথা’-তে আসার ইচ্ছে কেন হয়েছিল?
আশিসের কথায়, 'আমি যখন কোথাও যাই, ভালো মানুষের সঙ্গে গল্প করতে পারলে ভালো লাগে। রাহুল শুধু ভালো অভিনেতাই নয়, ভীষণ শিক্ষিত, থিয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা একজন মানুষ। আমি ওর কথা এতটাই বলেছিলাম আমার বন্ধু সুমন চট্টোপাধ্যায়কে। পরে আর দেখা হয়নি। কলকাতায় আমার ‘কাহানিবাজ’ শো-তে ওকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, কিন্তু শুটিংয়ের জন্য আসতে পারেনি। তবে একবার ফোনে কথা হয়েছিল। পডকাস্টে গিয়ে বুঝেছিলাম, রাহুল নিজের শর্তে বাঁচতে ভালোবাসত।'

তিনি আরও বলেন, 'কালই জানতে পারলাম ‘সহজ কথা’ নামের পেছনের কারণটা কী। সেটাও আমাকে ছুঁয়ে গেছে। আমি প্রিয়াঙ্কাকে এখনও মেসেজ করিনি। তবে ওর পরিবারকে বলতে চাই, রাহুল বিশেষ একজন মানুষ ছিলেন। আমি তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।'

Advertisement

‘সহজ কথা’-র যাত্রা ও অতিথিরা
রূপম ইসলামকে দিয়ে শুরু হওয়া রাহুলের ‘সহজ কথা’ পডকাস্টে একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হৃতিক চক্রবর্তী, সোহিনী সরকার, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ঋধিমা ঘোষ, অনির্বাণ চক্রবর্তী, রুকমা রায়, বরুণ চন্দ, কৌশিক সেন, ঋদ্ধি সেন ও গৌরব চক্রবর্তী। শুধু অভিনয় জগতই নয়, রাজনীতির অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরাও এই পডকাস্টে অংশ নিয়েছেন। তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক, সিপিএমের তরুণ মুখ দীপ্সিতা ধরও অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। সাম্প্রতিক একটি পর্বে অতিথি ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ও নিজের জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অনুষ্ঠানে। কয়েক সপ্তাহ আগে রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে রাহুলের পডকাস্ট বিশেষ সাড়া ফেলেছিল।

স্মৃতিতে রয়ে গেল তাঁর কাজ ও কণ্ঠ
রাহুলের ‘সহজ কথা’-তে এসে তাঁর প্রশংসা করেছিলেন মীর। মাসখানেক আগে অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়ও অতিথি হয়ে এসে রাহুলের কাজের প্রশংসা করেন। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্য়ায়ের ভিন্ন দিকও তুলে ধরেছিলেন তিনি। সংগীত জগতের শিলাজিৎ মজুমদার, চন্দ্রবিন্দুর উপল ও অনিন্দ্য চ্যাটার্জিরাও এই পডকাস্টে অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।

এক বছর ধরে ‘সহজ কথা’-র মাধ্যমে তৈরি হওয়া সেইসব পডকাস্ট, ভিডিও ও কনটেন্ট এখন স্মৃতির অংশ। রাহুল চলে গিয়েছেন, কিন্তু তাঁর কাজ, তাঁর কণ্ঠ, চিরকাল রয়ে যাবে মানুষের মনে।


 

POST A COMMENT
Advertisement