
শিল্পী চণ্ডীদাস মাল প্রয়াত বাংলা সঙ্গীত জগতের দিকপাল শিল্পী চণ্ডীদাস মাল (Chandidas Mal)। বুধবার সকালে বালির বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। প্রধানত পুরাতনী বাংলা গান, শ্যামা সঙ্গীত, টপ্পা, আগমনী গান ইত্যাদি বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন তিনি।
১৯২৯ সালে বালিতে জন্মগ্রহণ করেন চণ্ডীদাস মাল। মাত্র ছয় বছর বয়সেই সারা বাংলা সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পেয়ে নজর কাড়েন তিনি। ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে এবং পরবর্তীকালে দূরদর্শনেও সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বেশ কয়েকটি বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি প্লেব্যাকও করেন।

পরবর্তীকালে রবীন্দ্রভারতী এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতনি বাংলা গানের শিক্ষকতাও করেছেন। পেয়েছিলেন একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গীয় সঙ্গীত পরিষদের 'বিভাকর'-র মতো সম্মান। ২০১৯ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে গিরিজাশঙ্কর পুরস্কার পান।
আরও পড়ুন: একই সময় মুক্তি টলিপাড়ার একাধিক ছবি! ইন্ডাস্ট্রির একজোট হওয়ার অভাবই কারণ?
তাঁর বহু কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে আছেন - অজয় চক্রবর্তী, ড. উৎপলা গোস্বামী, তিমিরবরণ ঘোষ, চন্দ্রবলী রুদ্র দত্ত, লোপামুদ্রা, ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখেরা। তাঁর কণ্ঠে ৭৫ টি গান, রামকৃষ্ণ মিশনের বেলুড়মঠের আর্কাইভে এবং ১০০ টি টপ্পা, ঠুমরি, পুরাতনী, শ্যামাসঙ্গীত, দাশরথি রায় আর মহেন্দ্রলাল তর্কালঙ্কারের আগমনী সঙ্গীত নাটক আকাদেমির আর্কাইভে সংরক্ষিত।
তবে জীবনে যোগ্য সম্মান পাননি বলে আক্ষেপ ছিল চিরকাল। শিল্পী চণ্ডীদাস মাল প্রয়াণে বাংলা সঙ্গীত জগতে একটা যুগের অবসান হল। যা নিঃসন্দেহে এক অপূরণীয় ক্ষতি। শিল্পীর মৃত্যু খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র শিল্পীমহলে।