দেব, স্বরূপ বিশ্বাস (ছবি:ফেসবুক)ফের চর্চায় টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। একদিকে বাংলা ছবির কম ব্যবসা, সিনেমা হল বন্ধ, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের অশান্তি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেব বনাম স্বরূপ বিশ্বাসের তর্জা তুঙ্গে। স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক থেকে শুরু করে, সম্প্রতি টলিউডের টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে ঘিরে দু'জনের ঠান্ডা লড়াই এখন প্রকাশ্যে। চলছে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পর্ব। শনিবার, টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বরূপকে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন টলিউড সুপারস্টার। এবার আজতক বাংলাকে (বাংলা ডট আজতক ডট ইন) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে, দেবকে একহাত নিলেন ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (FCTWEI)-র সভাপতি।
টলিপাড়ায় 'থ্রেট কালচার'
স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টেকনিশিয়ানদের 'হুমকি' দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দেব। এই প্রসঙ্গে তিনি বললেন, "দেব যেটা বলেছেন সেটা অনভিপ্রেত। না জেনেই এধরণের মন্তব্য করেছেন। উনি আমাদের একজন স্বনামধন্য শিল্পী, ওঁর মতো একজনের কাছে এসব মন্তব্য সত্যিই অনভিপ্রেত। না জেনে উনি নিজের মতো কথা বলছেন। আমি কাউকে থ্রেট দিইনি। উল্টে উনিই হয়তো কাউকে থ্রেট দিচ্ছেন। সেটা উনিই বলতে পারবেন। টেকনিশিয়ানদের কাছে এই ধরণের মন্তব্য খুবই অনভিপ্রেত। আমি চাই না কাদা ছোড়াছুড়ি করতে। তবে এই বিষয়টা টেকনিশিয়ানরা ভালভাবে নেয়নি।"
স্বাস্থ্যসাথী ইস্যু
ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নাকি সমস্ত গিল্ড-এর সদস্যদের নিজে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নাম নথিভুক্তকরণ প্রকল্পে যোগ না-দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এমনকি, টেকনিশিয়ানদের নাকি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যাঁরা যাবেন তাঁদের কাজ কেড়ে নেওয়া হতে পারে। স্বরূপ সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, "আগের স্বাস্থ্যবিমায় বেশি সুযোগ-সুবিধা ছিল।" শনিবার, একথার জবাব দেন দেব। তিনি বলেন, "স্বরূপ বিশ্বাস বলছেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটা অতটা ভাল নয়, অন্য প্রকল্প বেশি ভাল। এর উত্তর আমার মনে হয় সবচেয়ে ভাল দিতে পারবেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি গত ১৩-১৪ বছর ধরে আমাদের রাজ্যের মন্ত্রী। তিনি সমানে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের হয়ে প্রচার করেছেন। ওঁর ছোট ভাই যদি প্রশ্ন তোলে যে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটা অতটা ভাল না, তাহলে এর উত্তর তাঁরই বড় দাদার দেওয়া উচিত।"
দেব আরও বলেন, "স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার কত মানুষ যে স্বাস্থ্যের পরিষেবা পেয়েছে সেটা কারও অজানা নয়। আমরা এটাও দেখেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প দেখে, অন্য রাজ্যের সরকার নাম বদল করে ব্যবহার করেছে। সেই প্রকল্পের নিয়ে, স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে যদি স্বরূপ বিশ্বাসের মনে প্রশ্ন থাকে, তাহলে আমারও প্রশ্ন অরূপদাকে যে, স্বরূপদা বলছে যে স্বাস্থ্যসাথী ভাল নয়, মুখ্যমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটা টেকনিশিয়ানদের জন্য অতটা ভাল না।"
এপ্রসঙ্গে স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, "দেব অধিকারীকে আমি বলব, উনি হয়তো জানেন না দুয়ারে সরকার বলে সরকারের একটি প্রকল্প আছে। দেববাবু নিশ্চয় দুয়ারে সরকার নিয়ে মানুষের বাড়িতে-বাড়িতে যাননি। কিংবা সরকারের অন্য যে সব প্রকল্প আছে, তা নিয়ে বাড়িতে-বাড়িতে কি মানুষকে বুঝিয়েছেন? আমার জানা নেই। আমরা মানুষের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী ও লক্ষ্মীর ভান্ডার করিয়েছি। ওঁর হয়তো সেই অভিজ্ঞতা নেই। আমরা একটা জায়গায় দায়িত্বে আছি তো! স্বাস্থ্যসাথীর কী উপকারিতা সেটা নিশ্চয় আমি দেববাবুর থেকে জানব না। এটা আমায় বোঝানোর জন্য অরূপ বিশ্বাসেরও প্রয়োজন পড়বে না।"
টলিপাড়ার কতটা ক্ষতি হচ্ছে?
দেব বনাম স্বরূপ বিশ্বাস! এই পরিস্থিতিতে আখেরে কতটা ক্ষতি হচ্ছে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির? স্বরূপের উত্তর, "এটা শুরু করেছেন দেববাবু। উনিই ভাল বলতে পারবেন। ওঁর কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা তো আমরা জানি না। হয়তো স্ক্রিনিং কমিটিতে যে সমস্যা হয়েছে, সেই বিষয়টা এখানে উনি টেনে আনছেন। স্ক্রিনিং কমিটির প্রেসিডেন্টকে নিয়ে অনেক বাজে বাজে কথা বলা হয়েছে। সেই সমস্যার সঙ্গেই হয়তো আমাকেও জড়িয়ে ফেলেছেন। সেই রাগবশত হয়তো এটা করেছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে।"
দেবের সঙ্গে সমস্যা মিটবে?
দেবের সঙ্গে এই সমস্যা মেটাতে ইচ্ছুক স্বরূপ। তাঁর কথায়, "আমার সঙ্গে দেববাবুর কখনও সম্পর্ক খারাপ ছিল না বা হয়নি। উনি আমার ছোট ভাইয়ের মতো বা বন্ধুর মতোই হবেন। আমাদের যেখানেই দেখা হয়, খুব ভাল করে কথা হয়। হঠাৎ কেন এরকম করলেন, সেটা উনিই বলতে পারবেন। এবিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।" তিনি যোগ করেন, "উনি এসব বলার আগে যদি আমায় একবার ফোন করতেন তাহলে বিষয়টা আলাদা হত। এখন আর কথা বলার জায়গা নেই। তবে উনি আমাদের স্বনামধন্য শিল্পী। কখনও যদি কথা বলতে চান, আমি নিশ্চয় কথা বলব। কেন বলব না?"
দেব- স্বরূপের কাজিয়ার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে?
টলিপাড়ার এই অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রভাব আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পড়বে বলে মনে করেন না স্বরূপ বিশ্বাস। তিনি জানান, "আমাদের ভোট নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই মানুষ দেন। তাঁদের উন্নয়নের কাজ, তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার লড়াই, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য যে লড়াই,সেটা দেখে দেন। বাদ বাকি আর কোনও ইস্যু না।