scorecardresearch
 

Exclusive: হীরক-গুগাবাবা অতুলনীয়, এর সঙ্গে হবু-গবুর তুলনা টানা উচিত নয়: অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়

প্রায় দেড় বছর অপেক্ষা করে ছিলেন। বোম্বাগড়ের অন্দরে রাজা হবুচন্দ্রের পাশে থেকেছেন দুঃখে-সুখে। রাজপাট সামলাতে সাহায্য করেছেন রানি কুসুমকলি ওরফে অভিনেত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় (Arpita Chatterjee)। তবে শেষমেশ তাঁদের কাহিনি যে সিনেমা হলে পৌঁছেছে তার জন্য তিনি বেজায় খুশি। আজতক বাংলার সঙ্গে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ছবি (Hobu Chandra Raja Gobu Chandra Mantri) নিয়ে নানা জানা অজানা কাহিনি ভাগ করে নিলেন অর্পিতা।

রানি কুসুমকলির বেশে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় রানি কুসুমকলির বেশে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়
হাইলাইটস
  • শুধুমাত্র শিশু-কিশোর জন্য তৈরি ছবি হিসাবে মনে করলে কিন্তু একটু ভুল হবে
  • এমন একজনের সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে যিনি অতুলনীয়। তাঁর কোনও তুলনা হয় না
  • কতটা মিল বা অমিল তা বিচার করার ভারও তাঁদের উপরই থাক

প্রায় দেড় বছর অপেক্ষা করে ছিলেন। বোম্বাগড়ের অন্দরে রাজা হবুচন্দ্রের পাশে থেকেছেন দুঃখে-সুখে। রাজপাট সামলাতে সাহায্য করেছেন রানি কুসুমকলি ওরফে অভিনেত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় (Arpita Chatterjee)। তবে শেষমেশ তাঁদের কাহিনি যে সিনেমা হলে পৌঁছেছে তার জন্য তিনি বেজায় খুশি। আজতক বাংলার সঙ্গে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ছবি (Hobu Chandra Raja Gobu Chandra Mantri) নিয়ে নানা জানা অজানা কাহিনি ভাগ করে নিলেন অর্পিতা।


প্রশ্ন: শিশু-কিশোর জন্য ছবিতে অভিনয় করা বা তৈরি করার সুযোগ সকলের ক্ষেত্রে ঘটে না। এমন একটি প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে কেমন লাগছে?

অর্পিতা: প্রথমত বলি এটা শুধুমাত্র শিশু-কিশোর জন্য তৈরি ছবি হিসাবে মনে করলে কিন্তু একটু ভুল হবে। এই ছবির নানা অ্যাসপেক্ট রয়েছে, নানা মোচড় রয়েছে, যা আমার মনে হয় সকল বয়সের মানুষের মনের খোরাক জোগাবে। এটা কিন্তু পলিটিকাল স্যাটায়ার জঁরের ছবি। তবে শিশুরা দেখে খুব আনন্দ পাবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এ ক্ষেত্রে কিন্তু আমাদের পথ দেখিয়েছে হীরক রাজার দেশে এবং গুগাবাবা। সেই ছবি যে কোনও বয়সের মানুষ দেখুন তাঁরা আলাদা আলাদা মানে খুঁজে পাবেন। আলাদা ভাবে তার স্বাদ নেবেন। সেই ছবিগুলি যেমন বাচ্চাদের ভীষণ ভালো লাগে, তেমনই বুদ্ধিজীবী বাঙালিকেও সমান আকর্ষণ করেছে।


প্রশ্ন: সঙ্গেত কারণেই পরের প্রশ্নে হীরক রাজা এবং গুগাবাবর প্রসঙ্গ চলে আসে। ট্রেলারের শুরুর দিকটা দেখে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন ছবিটি শিশুদের জন্য তৈরি। কিন্তু মন্ত্রী মশাই স্ক্রিনে ঢোকার পর থেকে সব কিছু পাল্টে যাচ্ছে। অনেকেই সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) সৃষ্টির সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সত্যিই কতটা মিল রয়েছে?

অর্পিতা: ছবির শেষ অংশটি আমার দেখার সুযোগ হয়নি। তাই কতটা মিল বা অমিল রয়েছে তা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করব না। দ্বিতীয় আমার যেটা মনে হয় এই তুলনাটা একেবারেই ঠিক হচ্ছে না। এটা একদিক থেকে দেখলে একটা গুড কমপ্লিমেন্ট। কিন্তু অন্য দিক থেকে দেখলে একটা প্রবল চাপ। ভীষণ প্রত্যাশার চাপ। এমন একজনের সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে যিনি অতুলনীয়। তাঁর কোনও তুলনা হয় না। রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায়ের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনও কিছুর তুলনা টানা উচিত নয় বলে মনে করি। এঁরা লেজেন্ড, আমার কাছে তো তারও ঊর্ধ্বে। ফলে এই তুলনাটা নিঃসন্দেহে আলাদা চাপ তৈরি করবে। একটা কথা বলতে পারি, এই ছবিটা বাচ্চা, তাদের বাবা-মা এবং তাঁদের দাদু-ঠাকুরমারাও সমান ভাবে উপভোগ করবেন। তিনটে প্রজন্মকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা রয়েছে হবু-গবুর। আর কতটা মিল বা অমিল তা বিচার করার ভারও দর্শকদের উপরই থাক।


প্রশ্ন: ছবিটা এক কথায় ম্যাগনাম ওপাস। অসাধারণ সমস্ত অভিনেতা রয়েছেন। সংগীত পরিচালনা করেছেন কবীর সুমন (Kabir Suman)। ভয়েস ওভার দিয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee)। কোথাও গিয়ে কি একটু চাপ অনুভব করেছিলেন?

অর্পিতা: সত্যি বলতে একেবারেই কোনও চাপ ছিল না। ইউনিটের বহু মানুষের সঙ্গে আমার দশকের পর দশক ধরে পরিচয় রয়েছে। সহশিল্পী, সহকর্মী ছাড়াও তাঁরা পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছেন। তাই আলাদা করে কোনও চাপ অনুভব করিনি। এঁদের সঙ্গে কাজ করার কমফোর্ট জোনটা আমার সাংঘাতিক ভালো। ভীষণ আনন্দ পেয়েছি কাজ করে। এত ভালো ইউনিট, এত ভালো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করতে সব সময়ই ভালো লাগে। অপুর (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) কথাই যদি বলা হয়, ওঁর সঙ্গে আমার প্রথম ছবি। প্রভাত রায়ের পরিচালনায় তুমি এলে তাই ছবিতে অপু আমার হিরো ছিলেন। ফলে এঁদের সঙ্গে কাজ করতে চাপ তো অনুভব করিই না, উল্টে একটা পরিবারের মতো অনুভব হয়। আরও একটা বিষয় রয়েছে, আমার সামনে যদি আমার চেয়ে একশো গুণ বেশি শক্তিশালী অভিনেতা বা অভিনেত্রী থাকেন, সে ক্ষেত্রে আমারও কোথাও গিয়ে মনে হয়, আমাকেও সমান ভাবে তাঁদের সাপোর্ট দিতে হবে। তাই পারফর্ম্যান্স আরও ভালো হয়ে যায়। ভালো করার একটা আলাদা তাগিদ কাজ করে। একই ফ্রেম শেয়ার করছি যখন আমাকেও ভালো করতে হবে।


প্রশ্ন: দর্শকদের একটা অনুযোগ রয়েছে, তাঁরা অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়কে অনেক দিন পর পর পর্দায় দেখতে পান। ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম ভার্সেটাইল এবং শক্তিশালী অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও আপনাকে বেশি দেখা যায় না কেন?

অর্পিতা: এটা নিয়ে আমার কোনও মতামত নেই। প্রত্যেক মাসে একটা বা বছরে পাঁচটা ছবি রিলিজ হতেই হবে এমন শর্ত নিয়ে আমি কোনও দিন কাজ করিনি। যখন ভালো স্ক্রিপ্ট পাই, যখন মনে হয় এই স্ক্রিপ্টের প্রতি, অভিনয়ের প্রতি এবং সিনেমার প্রতি সত্যিই সুবিচার করতে পারব আমি তখনই কোনও ছবিতে বা কোনও প্রোজেক্টে কাজ করতে রাজি হই। তবে অভিনয় ছাড়াও আমার আরও বেশ কয়েকটি ভূমিকা রয়েছে। যাতে বেশ খানিকটা সময় দিতে হয়। দিল্লিতে আমার সংস্থার কাজ দেখাশোনা করতে হয়। তবে দিনের শেষে আমি একজন অভিনেত্রী, একজন শিল্পী। তাই শিল্প ছাড়া তো আমার অস্তিত্বই নেই। সেই টানেই গওহর জান করা। তবে যখনই কোনও ভালো স্ক্রিপ্ট এসেছে আমি সব সময় হ্যাঁ বলেছি। দর্শকদের যদি এই অনুযোগ থাকে, তাহলে আমি খুব দুঃখিত। আগামী দিনে আমার পর পর বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কয়েকটি ছবির শুটিং শেষ করেছি। ফলে আশা করি তাঁরা আর অনুযোগ করবেন না।


প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন, ছবি মুক্তির আগে কোনও বিশেষ ইচ্ছে আছে?

অর্পিতা: একটাই ইচ্ছে, মুক্তির আগে যেন সিনেমা হলে ১০০ শতাংশ আসনে দর্শকরা বসতে পারেন, তার ছাড়পত্র দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। চাই না করোনা নতুন করে বাড়ুক, চাই না এই মহামারীতে আর একজনও প্রাণ হারান। পুজোর আনন্দে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে যেন সকলে সুস্থ থাকেন, ভালো থাকেন আর আমাদের ছবিটা খুব এনজয় করেন।