
জিৎ (ছবি: সংগৃহীত) 'খাকি দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার'-এ আইপিএস অর্জুন মৈত্রের চরিত্রে অভিনয় করে সকলের মন জেতার পর এবার নতুন রূপে সামনে আসতে চলেছেন সুপারস্টার জিৎ। এবার বিপ্লবী অনন্ত সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন জিৎ। ছবির নাম 'কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত'। পরিচালনায় পথিকৃৎ বসু। এই খবর প্রায় সকলেরই জানা। বৃহস্পতিবার সামনে এল ছবির মোশন পোস্টার। নানা জট কেটে, অবশেষে সামনে এল ছবি মুক্তির তারিখ।
ছবির গল্পটি অনন্তের জীবনের ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে উন্মোচন করে। মাস্টারদা সূর্য সেনের নির্দেশনায় একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর সম্পৃক্ততা প্রকাশ করে। স্বাধীনতার পর, সামাজিক দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের শোষণের দ্বারা হতাশ হয়ে, তিনি বঞ্চিতদের মধ্যে সম্পদ পুনর্বণ্টন করার জন্য ব্যাঙ্ক ডাকাতি এবং শক্তিশালী ব্যক্তিত্বদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ইন্সপেক্টর দেবী রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ যখন তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে, তখন অনন্তের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা এবং সামরিক দক্ষতা তাকে এগিয়ে রাখে ও পুলিশের কাজ কঠিন হয়ে পড়ে।

পথিকৃৎ বসু পরিচালিত এই ছবি কিংবদন্তি বিপ্লবী অনন্ত সিংহ-এর অসাধারণ জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। স্বাধীনতা সংগ্রামের এক সাহসী যোদ্ধা হিসেবে যেমন তিনি বহু মানুষের কাছে শ্রদ্ধেয়, তেমনই অন্যদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন ডাকাত হিসেবে। এই দ্বৈত পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক জটিল, সাহসী ও সংগ্রামী মানুষের কাহিনিই উঠে এসেছে এই ছবিতে।
নন্দি মুভিজ এবং জিৎজ ফিল্মওয়ার্কস-এর প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত সুরকার শান্তনু মৈত্র। তাঁর সুর ছবির আবেগ, ইতিহাস ও নাটকীয়তাকে আরও গভীরতা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ছবিতে জিৎ ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন টোটা রায়চৌধুরী, চন্দন সেন, লোকনাথ দে, রজতাভ দত্ত, প্রিয়াঙ্কা সরকার, দেবত্তমা সাহা, সৃজলা গুহ, দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়, দুর্বার শর্মা, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, সুপ্রভাত দাস, শুভ্রজিতের মতো শিল্পীরা। এবছর স্বাধীনতা দিবসের আগে, ১৪ অগাস্ট মুক্তি পাবে 'কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত'।

কীভাবে এগোবে গল্প? ষাটের দশকের কলকাতা। শহর জুড়ে একের পর এক পরিকল্পিত ডাকাতি, যার নিশানায় শুধুই ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক রহস্যময় বৃদ্ধ—অনন্ত। কারও কাছে তিনি অপরাধী, আবার কারও কাছে গরিবের ত্রাতা। এদিকে ইন্সপেক্টর দুর্গা প্রসাদ রায় তাঁকে ধরতে নিরলস অভিযান চালাতে থাকেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়- তিনি কি শুধুই একজন ডাকাত, নাকি নতুন রূপে ফিরে আসা এক বিপ্লবী? অতীত ও বর্তমানের সমান্তরাল বয়ানে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় অনন্তর জীবন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে এক নিবেদিতপ্রাণ বিপ্লবী থেকে স্বাধীনতার পর দুর্নীতি, লোভ ও আদর্শের অবক্ষয়ে হতাশ এক মানুষে পরিণত হন তিনি। দেশের স্বপ্নভঙ্গ মেনে নিতে না পেরে অনন্ত নিজের যুদ্ধের পথ বেছে নেন। অসাধারণ যুদ্ধকৌশল ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তাকে হাতিয়ার করে তিনি শুরু করেন এক নতুন লড়াই—এবার শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের জন্য। অতীত ও বর্তমানের সংঘাতে জন্ম নেয় মুক্তি, বিদ্রোহ এবং ন্যায়বিচারের মূল্য নিয়ে গল্প।

পথিকৃৎ বসু জানালেন, "ভাল জিনিস তৈরি হতে সময় লাগে, আর একটি অনন্য সৃষ্টি গড়ে তুলতে লাগে ধৈর্য। আমাদের আসতে একটু দেরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভাগ্য আমাদের জন্য বেছে নিয়েছে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে অনন্ত সিংহের কিংবদন্তি কাহিনি বড় পর্দায় তুলে ধরতে পারা আমাদের কাছে গভীর গর্বের। কারণ যে যাত্রার পরিণতি সাফল্যে শেষ হয়, সেই যাত্রার জন্য অপেক্ষা করাই সার্থক।"
পরিচালক আরও বলেন, 'কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত, আমার কাছে শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি ভালোবাসা, নিষ্ঠা এবং ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে তৈরি এক স্বপ্নের প্রকল্প। বাংলার বিপ্লবী ইতিহাসের এক জটিল ও বিস্ময়কর চরিত্র অনন্ত সিংহকে বড় পর্দায় জীবন্ত করে তোলা ছিল অত্যন্ত দায়িত্বের কাজ। অবশেষে এই বৃহৎ ক্যানভাস দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে পেরে আমি একই সঙ্গে আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। এই বিলম্ব কোনও বাধা ছিল না, বরং ভাগ্যেরই পরিকল্পনা ছিল। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশাত্মবোধের এই গল্প দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল আমাদের স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি, এই অপেক্ষার মূল্য দর্শকরা অবশ্যই অনুভব করবেন।"