scorecardresearch
 

Exclusive: মরাল পুলিশিং থেকে ডিজিটাল সেন্সরশিপ! আজতক বাংলায় অকপট অপর্ণা সেন

সম্প্রতি ডিজিটাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে নিয়ে আসা হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীনে। গত ১১ নভেম্বর এবিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক (Ministry Of Information And Broadcasting)। যদিও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম এবং ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম সেন্সরশিপের আওতায় আসবে কিনা সে বিষয় এখনও পরিষ্কার নয় । তবে শোনা যাচ্ছে সেন্সরশিপের আওতায় আনার নতুন করে নীতি প্রণয়ন করতে পারে কেন্দ্রী। এবার সেন্সরশিপ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন (Aparna Sen)। 

আজতক বাংলায় অকপট অপর্ণা সেন আজতক বাংলায় অকপট অপর্ণা সেন
হাইলাইটস
  • ডিজিটাল সেন্সরশিপ নিয়ে অকপট অপর্ণা সেন।
  • "সরকার মরাল পুলিশিং করে",বললেন তিনি।
  • ভাগ করে নিলেন মেয়ে কঙ্কনাকে নিয়ে অনেক গল্পও।


সম্প্রতি ডিজিটাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে নিয়ে আসা হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীনে। গত ১১ নভেম্বর এবিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক (Ministry Of Information And Broadcasting)। যদিও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম এবং ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম সেন্সরশিপের আওতায় আসবে কিনা সে বিষয় এখনও পরিষ্কার নয় । তবে শোনা যাচ্ছে সেন্সরশিপের আওতায় আনার নতুন করে নীতি প্রণয়ন করতে পারে কেন্দ্রী। এবার সেন্সরশিপ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন (Aparna Sen)। 

ডিজিটাল কনটেন্টের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ লাগু হবে কিনা জানা না গেলেও, ইতিমধ্যে সে নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের। বিগত কয়েকদিনের পরিস্থিতি ও ট্রেন্ড অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে ওয়েব সিরিজ ছাড়াও ছবি মুক্তি পাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমকেই সামনে রেখে বর্তমানে বহু চিত্র পরিচালক নিজেদের শিল্পকর্ম তৈরি। তবে যদি এই প্ল্যাটফর্মের ওপর সেন্সরশিপ লাগু হয়, কোথাও গিয়ে একটি সীমাবদ্ধতা কাজ করবে বলেই মনে করছেন তাবড় সিনেমাপ্রেমীরা।


এই প্রসঙ্গে আজতাক বাংলা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অপর্ণা সেন বলেন, "আমি সেন্সরশিপ বিষয়টাই পছন্দ করি না। আমার মনে হয় এটা উঠে গেলে ভালো হয়। আমার মেয়েরা ছোট থেকে বড় হয়েছে সেন্সর না হওয়া ছবি দেখে। কারণ ফিল্ম সোসাইটির অনেক শো দেখেছে তাঁরা আমার সঙ্গে। তাঁদের কোনো ক্ষতি হয়েছে বলে আমি জানি না। বরং আমার মনে হয় আড়াল করে দেওয়াটা ক্ষতিকারক। তবে উগ্র কিংবা হিংসাত্মক কোনো দৃশ্য বাচ্চাদের না দেখালেই ভালো। হিংসাত্মক‌ কিছু বাচ্চাদের খুব ক্ষতি করে।"

সেন বলেন, "সেন্সরশিপ আমাদের দেশে খুব বুদ্ধিদীপ্ত হয়না। বরঞ্চ 'মরাল পুলিশিং' বেশি হয়। অনেক ছবিতে হিংসাত্মক দৃশ্য প্রচুর থাকে। কিন্তু অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে সেটাকে কেটে ছেঁটে একটা 'এ' (A) লাগিয়ে দেওয়া হয়। কোনো ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বাচ্চাদের খুব একটা ক্ষতি করে বলে আমার মনে হয় না। কারণ যখন কঙ্কনার ১০ বছর বয়স ছিল, মস্কোতে আমার জ্যুরি হিসেবে কাজ ছিল। আমি ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম আমার সঙ্গে। যেই ছবিতে ও দেখতো বেশি ঘনিষ্ঠ কোনো সিন, ওর একঘেয়ে লাগতো এবং অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে ঘুমিয়ে পড়তো। এই বিষয়গুলো বেশি লুকোতে গেলে বাচ্চাদের উল্টে কৌতূহল বেড়ে যায়।" 

তাহলে কি ভারতে ডিজিটাল ছবির ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ আসবে? এ প্রশ্নের উত্তরে অপর্ণা সেন বললেন, "সেন্সরশিপ আসতেই পারে, যেহেতু দেশের সরকার 'মরাল পুলিশিং' বেশি করে। আমি যখন '৩৬ চৌরঙ্গী লেন'-ছবিতে চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় করেছিলাম ১৯৮১ সালে, তখন অন্য কোনো ছবিতে এই রকম সিনের কথা কেউ ভাবতেই পারত না । সেটা কিন্তু সেই সময়ে কোনো অসুবিধা হয়নি। আর এখন সমস্ত ছবিতেই চুম্বনের দৃশ্য থাকে। বলতে গেলে বেড সিন প্রায় সব ছবিতেই দেখা যায়। আমাদের সমাজ যেভাবে বদলায়, আমরা কোনটা গ্রহণ করব আর করব না সেটাও স্থির হয়। যখন 'পরমা' হয়েছিল, ছবিটা প্রায় উঠিয়ে দেওয়ার অবস্থা হয়েছিল। এখন তো সিরিয়ালে পর্যন্ত এই সমস্ত জিনিস দেখানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত তাও কিছুটা ছাড় রয়েছে। তবে যেহেতু আমরা সারা পৃথিবীর ছবি দেখতে পাচ্ছি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এবং সেখানে কোনো সেন্সরশিপ থাকছে না। অত্যাধিক লিমিটেশন আনলে যেমন সেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অসুবিধা, তেমন চিত্র পরিচালকদেরও সমস্যা। এর থেকে যদি একটা গাইডলাইন দিয়ে দেওয়া হয়, যে সমস্ত সিরিজ বা ছবিতে নগ্নতা বা হিংস্রতা রয়েছে সেই সমস্ত বাবা মায়েরা তাঁদের ছেলে মেয়েদের সেই ছবি দেখানোর আগে ভেবে চিন্তে দেখাবেন। আমার মনে হয় এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাবা-মায়েদের উপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো। 

প্রসঙ্গত,ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধিনে আনার জন্যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন শশাঙ্ক শেখর ঝা নামে এক আইনজীবী। তার জেরেই গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট, সরকারের কাছ থেকে জবাব তলব করে। ফলস্বরূপ, গত ১১ নভেম্বর থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম তথ্য মন্ত্রকের অধীনে আনা হয়েছে।