Rudranil Ghosh: কীর্তন শিল্পীদের অনুদানেরও কোটি কোটি টাকা পকেটে? গুরুতর দাবি MLA রুদ্রনীলের

Rudranil Ghosh: নিজের পুরনো স্টাইলে বিধানসভায় কবিতা পাঠ করলেন অভিনেতা- বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

Advertisement
কীর্তন শিল্পীদের অনুদানেরও কোটি কোটি টাকা পকেটে? গুরুতর দাবি MLA রুদ্রনীলেররুদ্রনীল ঘোষ

এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে শিবপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি-র হয়ে দাঁড়িয়ে, জয়ী হয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। জয়ী হয়ে টালিগঞ্জের বাড়িতে ফিরতেই, সেখানে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয়েছিলেন বহু অনুগামী সহ ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুরা। নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বড় দায়িত্ব পেয়েছেন রুদ্রনীল। ইন্ডাস্ট্রির হাল ফেরাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রক। তৈরি হইয়েছে উপদেষ্টামণ্ডলী। যেখানে রয়েছেন ১৯ জন সদস্য। যার মধেও রয়েছে তাঁর নাম। 

বৃহস্পতিবার, বিধানসভায় ভাষণ দেন রুদ্রনীল। নিজের পুরনো স্টাইলে বিধানসভায় কবিতা পাঠ করলেন অভিনেতা- বিধায়ক। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি নিজের পেজেও শেয়ার করেছেন তিনি। কথা বলেছেন ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে। সেই সঙ্গে খোঁচা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রুডি, মমতার কবিতার ছন্দ ধার করলেন তাঁর 'এপাং ওপাং ঝপাং' কবিতা থেকে। 

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং সেই সঙ্গে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এদিন কটাক্ষ করেছেন রুদ্রনীল। সেই সঙ্গে তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে 'ডিম থেরাপি'-র কথা। বিধানসভায় তিনি শোনালেন, "রানি আছেন টেনশনে। তাল কেটেছে সব গানে। সরানি আছেন টেনশনে। তাল কেটেছে সব গানে। এপাং ওপাং ঝপাং সবাই। কোথায় কে যাবে ভাই? কে জানে? রানি আছেন টেনশনে। রাস্তাঘাটে উড়ছে ডিম। মুরগি ছানা আসমানে, ভবিষ্যতের গল্প খারাপ, তাই রানি আছেন টেনশনে,ডিম উড়ছে আসমানে।" বিধানসভার অধিবেশনে রুদ্রনীলের এই ছড়া শোনাতেই, বেশ শোরগোল পড়ে যায়। 

কবিতা ছাড়াও রুদ্রনীল বলেন, "আমরা জানি যে শ্যাওলা পড়া বাড়িতে নতুন রং করতে গেলে যেমন রং লাগাবার আগে ঘষে ঘষে দেওয়াল থেকে ওই শ্যাওলাগুলো তুলতে হয়, ঠিক তেমনই শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রে উন্নতি করতে গেলে এই বিষাক্ত শ্যাওলাগুলোকে নির্মূল করতে হবে। না হলে ২০২৬-২০২৭-এ এই বাজেটে আপাতত বরাদ্দ ৮১৫ কোটি টাকার প্রতিটি টাকাই নষ্ট হবে। শুধুমাত্র সিনেমা, থিয়েটার, যাত্রা, সঙ্গীত, নৃত্য, চারুকলা বা লোকশিল্প নয়, শিল্প মাধ্যমের সবকটি ক্ষেত্রেই তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের এবং এই সরকারের কড়া নজরদারির মাধ্যমে অর্থ খরচ প্রয়োজন বলে বিশেষভাবে মনে করি। অবশ্যই প্রতিটি শিল্পক্ষেত্রে শিল্পীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বীমার নতুন সরকার পরিকল্পনা করবে। নিশ্চয়ই নতুন সরকার তাবেদারি নয়। কেবলমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এবং ক্ষেত্রে শিল্পীদের যোগ্যতা এবং গুণের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নজরদারি করবে এই আমাদের সবার বিশ্বাস। যে অত্যাচার টলিউড পাড়ায় চলেছে, সঙ্গীত জগতে চলেছে তা শিল্প সংস্কৃতির সবকটি ক্ষেত্রেই ঘটেছে।" 

Advertisement

রাজ্যের আগের সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রুদ্রনীল আরও বলেন, "অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিল্পীদের বা শিল্প গোষ্ঠীকে অনুদান বা সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার নামে ভুয়োদের তালিকা দিয়ে লুট হয়েছে কোটি কোটি টাকা। ঠিক যেমন আবাস যোজনা সমেত নানা যোজনায় লুট হয়েছে। একটা উদাহরণ দিই। বাংলায় প্রায় দশ লক্ষ কীর্তন শিল্পী রয়েছে । সবাই একটু মন দিয়ে শুনুন। বাংলার প্রায় দশ লক্ষ কীর্তন শিল্পী আছে ছোট -বড়। তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ লক্ষ শিল্পীকে দিয়ে ২০১৬ সাল থেকে মাসে ৪০০০ করে একটা অনুদান দেওয়া হত। তাদের কাজ ছিল আগের সরকার এবং আগের মুখ্যমন্ত্রীর গুণগান করা পথেঘাটে ঘুরে। মজার কথা, এই পাঁচ লাখের মধ্যে আড়াই লাখ শিল্পীই ছিল ভুয়ো শিল্পী এবং তারা ছিল এর আগের সরকারের তৃণমূল কর্মী। যারা শিল্পী নয় তারাও এই সরকারের টাকা খেয়েছে।" 

রুদ্রনীল যোগ করেন, "আমি জানি না এখানে সেই শিল্পীদের মধ্যে কেউ তো বসে আছেন কিনা। হিসেবটা দিই কত টাকা চুরি হয়েছে। জলে গিয়েছে আড়াই লাখ গুণ করে এক মাসে যদি চার হাজার করে হয়, তাহলে দশ কোটি টাকা মাসে মানে, একশো কুড়ি কোটি টাকা বছরে। আর ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালে যদি এই চুরি ধরা হয় তাহলে বারোশো কোটি টাকা, ভুয়ো শিল্পীর নাম করে শুধুমাত্র কীর্তন শিল্পীদের কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে। এবার ভেবে নিন শিল্পক্ষেত্রে এই রাজ্য সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে শিল্পীদের সহায়তার নামে বা যে গোষ্ঠীদের সহায়তার নামে যে টাকাটা দেয় ওই আবাস যোজনার টাকার মতো সেগুলো ভুয়ো। তাই আমাদের নতুন সরকারকে, সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রীকে এবং সংস্কৃতি দপ্তরকে এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন তাঁকে অনুরোধ করব যে এই বিষয়ে নজরদারি করতে।”

 

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে। তবে জিততে পারেননি। পরাজিত হয়েও, রুদ্রনীল বিজেপি  ছাড়েননি। এবার দেখার শুধু বিধায়ক হিসেবেই তিনি কাজ করবেন, নাকি আরও কোনও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁর কাঁধে। সেই সঙ্গে অনেকেই আশাবাদী, এবার ফের বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে পারবেন রুদ্রনীল এবং তাঁর হাত ধরেই অনেক পরিবর্তন আসবে ও সমস্যা মিটবে।  
  

POST A COMMENT
Advertisement