
সায়নী ঘোষ সাদা শাড়ি, সাদা চটি, চুলে খোঁপা, কপালে বড় টিপ, এই বেশেই গত কয়েক বছর দেখা যাচ্ছিল সায়নী ঘোষকে। কাট টু, সম্প্রতি কলকাতা বিমানবন্দরের চিত্র। মাস্ক দিয়ে ঢাকা মুখ এবং টুপির আড়ালেই বিমানবন্দর ছেড়েছিলেন। পরনে জিন্স ও টি শার্ট। আর এর পর থেকেই সাংসদ- অভিনেত্রীর স্টাইল স্টেটমেন্ট নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে।
শিরোনামে সায়নী ঘোষ। রবিবার, ফের দিল্লিতে 'বিদ্রোহী' ব্লকের বৈঠক ছিল। সেখানে অন্যদের সঙ্গে হাজির ছিলেন সায়নীও। সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। তবে কেন হঠাৎ এরকম সাজতেন সায়নী? এত দিন এর জন্য তাঁকে কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি। কেউ কেউ তাঁকে 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাইস' বলেও ট্রোল করেছেন। আবার কেউ বলছেন 'মমতার কপি ক্যাট'। এই নিয়ে এর আগে, বাংলা ডট আজতক ডট ইন-এর তরফে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে। সায়নীকে প্রশ্ন করা হয়, কারও থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এরকম সাজেন কিনা?

উত্তরে তিনি বলেন, "এটা সচেতনভাবে করা এবং সুবিধার জন্যেও করা। আমি যদি চুল কার্ল করে হিল পরে গ্রামে চলে যাই, তাহলে আমার কোনও কাজ হবে না। আমি যদি বুট বা লেদার জ্যাকেট পরে ঘুরে বেরাই, গ্রামে যে মহিলারা আমার সঙ্গে দুটো সুখ- দুঃখের কথা বলছে, তাঁরা আমার থেকে দূরে চলে যাবে।
সায়নী যোগ করেন, "আমি সব সময় একজন অভিনেতা এবং অভিনেতা হিসাবেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমায় ভাঙা যাবে, মোচড়ানো যাবে। যখন যে পাত্রে ঢালবে, সেই পাত্রের রূপ আমি ধারণ করে নেবো। সেটাই আমার নমনীয়তা।" সেসময় ইডির তরফ থেকে সায়নী ঘোষকে সমন পাঠানো হয়েছিল। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, "নিশ্চয় কিছু ঠিক করছি, নিশ্চয় সঠিক পথে রয়েছি। সেই জন্য এত মানুষের নজর পড়ছে আমার উপর। সকলের নিজস্ব লড়াই থাকে। আমিও আমার নিজের লড়াইটা লড়ব। আমি অভিনেত্রী হয়ে রাজনীতিতে ন্যাকামো করব বলে আসিনি। আমি রাজনীতিতে এসেছি, কারণ আমি রাজনীতি পছন্দ করছি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার হাতে ফ্ল্যাগ দিয়েছেন। এটা যারা বোঝে, তারা বোঝে, এটা কর বড় একটা দায়িত্ব। আমি আর্মচেয়ার পলিটিশিয়ান হিসাবে নিজেকে কখনও দেখাইনি। আমি দু'বছর ধরে গ্রাউন্ডে থেকে কাজ করেছি এবং আমি আজ যেখানে পৌঁছেছি, সেখানে আসার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। কে কী বলছে, না বলছে... তারা যা বলার বলবে, আমি আমার কাজ করে যাবো। কিচ্ছু যায় আসে না।" তিনি আরও জানান, "আমি জন্ম লগ্ন থেকে কনফিডেন্ট। আমি লড়ব। যারা আমায় ট্রোল করে বাজে কথা লিখছে তাঁদের জন্য নয়। আমি লড়াই করব, যারা আমায় বিশ্বাস করে তাঁদের জন্য।"

৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অন্ত হয়ে এরাজ্যে বিপুল জয় হয়েছে বিজেপি-র। আর তার পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে বড় বদল হয়েছে। রাজনীতিতে গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের হিড়িক গত কয়েক বছরের ট্রেন্ড। এত দিন যে তারকাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যেত বা মিছিলের সামনে সারিতে দেখা যেত, তাঁরা একে একে ছেড়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাত। সেসব তৃণমূলপন্থী তারকাদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভরেছে মিমে।

প্রসঙ্গত, দিল্লির রুদ্ধদ্বার সাক্ষাতের মাঝেই তৃণমূলের যুব সংগঠনেও এক নাটকীয় রদবদল করা হয়। রাজ্য যুব সভাপতির পদ থেকে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয় সায়নী ঘোষকে। তাঁকে যুব সংগঠনের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার পর সেই জায়গা পেয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার, নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে, ব্লক বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময়ে, ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন সায়নী ঘোষ। এদিন সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁকে দলবদল, NDA-কে সমর্থন করা এই সমস্ত কিছু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "সব জেনে যাবেন। যখন বলার সময় আসবে, সব বলে দেব। আপনাদের জবাব দেব না, শুধু নিজের ক্ষেত্রের লোকেদের কাছেই বলব। আমার আওয়াজ সবার কাছেই পৌঁছবে, সঠিক সময়ে।"