Swastika Mukherjee EXCLUSIVE: গড়িয়াহাটে শপিং প্রিয়, তারকা সুলভ আচরণ না-পসন্দ! মনখোলা আড্ডায় স্বস্তিকা

একেবারে সাধারণ জীবনযাপন করতেই পছন্দ করেন স্বস্তিকা। তারকা হয়েও তারকা সুলভ আচরণ তাঁর না- পসন্দ। গড়িয়াহাটের নাইটি, ব্লাউজ কেনাকাটা হোক কিংবা দেশপ্রিয় পার্কের থেকে হেঁটে বাড়ি ফেরা।

Advertisement
গড়িয়াহাটে শপিং প্রিয়, তারকা সুলভ আচরণ না-পসন্দ! মনখোলা আড্ডায় স্বস্তিকা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (ছবি: ফেসবুক)

দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতায় সকলের মন জয় করছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। একাধিক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের মাধ্যমে বারবার দর্শকদের মন ছুঁয়েছেন। বড়পর্দা থেকে শুরু করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম- টলিউডের পাশাপাশি বলিউডেও দাপিয়ে কাজ করছেন অভিনেত্রী। মনের কথা অকপটেই বলে ফেলেন নায়িকা। একেবারে সাধারণ জীবনযাপন করতেই পছন্দ করেন স্বস্তিকা। তারকা হয়েও তারকা সুলভ আচরণ তাঁর না- পসন্দ। গড়িয়াহাটের নাইটি, ব্লাউজ কেনাকাটা হোক কিংবা দেশপ্রিয় পার্কের থেকে হেঁটে বাড়ি ফেরা। এমনকী, মাঝে মধ্যে কেনাকাটা করে রিক্সা করেও বাড়ি ফেরেন নায়িকা। নিজেকে এভাবেই রাখতে ভালোবাসেন তিনি। নায়িকা মনে করেন,  নিজের মতো করে বাঁচা একজন মহিলার জন্য জরুরি। নিজের 'সিম্পল লাইফস্টাইল' নিয়ে আজতক বাংলার (বাংলা ডট আজতক ডট ইন) সঙ্গে মনখোলা আড্ডা দিয়েছেন স্বস্তিকা।  

 

Swastika Mukherjee

স্বস্তিকা বলেন, "এটা খুবই প্রয়োজনীয় একটা কাজ। আর আমি সবসময়ই খুব সহজ জীবনযাপন করেছি। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য হয়তো মানুষ এখন বেশি জানতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া না থাকলে হয়তো জানা যেত না, বা কী হত আমি জানি না। আমি আমার মতো করেই বাঁচি। আমার যেটা করতে ভাল লাগে সেটা করি। যেটাতে মনে হয় আমি ভাল থাকব, আমি সেই পথেই হাঁটি। খুবই ভাল লাগে রাস্তায় হাঁটতে। বোম্বেতে যেহেতু আমি অনেকটা সময় থাকি সেখানে এই চাপটা নেই। সেজন্যে আমি বোম্বেতে প্রচুর হাঁটাহাঁটি করি, বাজারে যাই, দোকানে যাই, সিনেমা দেখতে যাই। হাঁটা পথের দূরত্ব হলে তো অবশ্যই হাঁটি। কলকাতায় এটা এর আগে খুব একটা করতাম না। তারপর দেখলাম, কলকাতাতেও এতটা সময় আছি, তাই আমার যেটা করতে ইচ্ছে করছে আমি সেটা করতে চাই। খুব একটা যে অসুবিধে হয় তা কিন্তু নয়।" 

 

Swastika Mukherjee

তারকাদের রাস্তায় দেখলে সাধারণ মানুষ উৎসাহিত হয়ে পড়েন। একটা সময় ছিল যখন অটোগ্রাফ চাইতেন। যদিও সে যুগ পাল্টেছে। এখন বেশীরভাগ অনুগামীর আবদার থাকে সেলফির। স্বস্তিকা কতটা সমস্যায় পড়েন? এপ্রশ্নের উত্তরে স্বস্তিকা বলেন, "লোকজনকে যদি আমি জানান দিই যে আমি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, তাহলে নিশ্চয়ই মানুষ জানতে পারবে বা খেয়াল করবে, কিংবা মানুষ এসে বিরক্ত করবে। কিছু ক্ষেত্রে বিরক্ত করে, তবে সেটা যে সবসময়ই করে তা নয়। আমি থাকি গলফ গার্ডেনে। দেশপ্রিয় পার্ক থেকে আমার বাড়ি অনেকটা রাস্তা। আমি তো সেদিন হেঁটে চলে এলাম। আশেপাশে অনেক মানুষও ছিল। তাঁরাও হেঁটে নিজেদের গন্তব্যস্থলে যাচ্ছিলেন, আমিও তাঁদের মতো করেই হেঁটে বাড়ি চলে এলাম, খুব একটা কিছু অসুবিধে হয়নি।" 

Advertisement

 

Swastika Mukherjee

স্বস্তিকা যোগ করেন, "আমার জীবনটা আমি এভাবেই বাঁচতে চাই। এটাতেই আমার মনে হয় আমি ভাল থাকব। আমার বাবা আমাকে এই শিক্ষাটাই দিয়ে গিয়েছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বা গ্ল্যামার জগতের সঙ্গে আমি যুক্ত আছি বলেই যে আমায় সারাক্ষণ বোঝাতে হবে মানুষকে যে আমি  কেউ একটা, তা নয়। আড়ম্বরহীন হয়ে বাঁচাটা আমার বাবা আমাকে শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। কারণ আমি যদি না জানতাম যে বাবা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একজন, আমি তাঁর জীবনযাপন দিয়ে কোনও দিনও বুঝতে পারতাম না সেটা। বাবা ভীষণই সিম্পল মানুষ ছিলেন। খুবই সিম্পলভাবে জীবনযাপন করেছেন এবং আমি ছোট থেকে আমার বাবার কলিগ, বন্ধু-বান্ধব যাদেরকে দেখেছি, তাঁরা তো খুবই বড় বড় নাম- তরুণ কুমার, সমিত ভঞ্জ, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাদের বাড়িতে ওঁদের প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহেই যাতায়াত লেগে থাকত। এত বড় বড় মানুষ, এত সব লেজেন্ডারি ফিগার,আমি অনেক বড় বয়সে এসে বুঝেছি যে ওঁরা কারা। তরুণ কুমার তো এত বড় লেজেন্ড। শুধু উত্তম কুমারের ভাই বলে নয়, উনি নিজেও নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে যে জায়গাটা তৈরি করেছিলেন। উনি কিন্তু ট্রামে করে আমাদের বাড়ি আসতেন।" 

 

Swastika Mukherjee

স্বস্তিকা আরও ভাগ করেন, "ট্রামে করে, বাসে করে উনি আমাদের বাড়িতে আসতেন রবিবার দিন লুচি- মাংস খেতে। আমার মায়ের হাতের রান্না ওঁর খুবই প্রিয় ছিল। একটা ঢোলা পাজামা- পাঞ্জাবি পরে এসে মাকে জিজ্ঞেস করত, আজ কী খাওয়াচ্ছো? তরুণ কুমার যদি বাসে- ট্রামে করে আসতে পারে, তাহলে সেটা আমি কেন করতে পারব না? আমি তো ওঁর চেয়ে বড় নই। আমি এদেরকে দেখে বড় হয়েছি। সেজন্য এখন আড়ম্বর মানে, তারকাসুলভ জীবনের সঙ্গে আমি খুব একটা রিলেট করতে পারি না। এজন্যে এই জীবনটা বাঁচলে, অসুবিধে হয় না। এবার আমি যদি একটা মেদিনীপুরে শো করতে যাই, যেখানে মানুষ টিকিট কেটে আমায় দেখতে আসছে, সেখানে নিশ্চয়ই বাউন্সার নিয়ে সিকিউরিটি নিয়েই যেতে হবে। কারণ ওখানে ১৫-২০ হাজার মানুষ যারা আমাকেই দেখতে আসছে। সেখানে আমার সিকিউরিটিটা দরকার। কিন্তু মেট্রো করে নিউ মার্কেটে গিয়ে শপিং করতে যাওয়ার জন্য আমার ১০ জন লোক নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। সেখানে আমার সিকিউরিটি দরকার নেই কারণ সবাই শপিং করতে এসেছে আর আমিও শপিং করতে গিয়েছি।" 

Swastika Mukherjee

প্রসঙ্গত, ১০ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে অর্জুন দত্ত পরিচালিত, নন্দী মুভিজ প্রযোজিত, নতুন ছবি 'বিবি পায়রা'। এই ছবিতে শিউলি চরিত্রে ধরা দিয়েছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ছবির গান, ট্রেলার আগেই মন ছুঁয়েছিল। মুক্তির পরে ছবিটি নিয়েও বেশ ইতিবাচক রিভিউ দিচ্ছে দর্শক। 

 

POST A COMMENT
Advertisement