scorecardresearch
 
 

COVID-এর বিরুদ্ধে লড়াই! নব নালন্দার প্রাক্তনীরা টাস্ক ফোর্স গড়লেন

তাদের স্কুলের আশপাশে রয়েছেন বেশ কিছু প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ। এমন হয়েছে, তাঁদের কারও কারও উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তবে পরীক্ষা করতে রাজি নন। এর একটা কারণ যেমন অর্থের অভাব, দ্বিতীয় কারণ সামাজিক।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজোট হয়েছেন কলকাতার নব নালন্দা স্কুলের প্রাক্তনীরা করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজোট হয়েছেন কলকাতার নব নালন্দা স্কুলের প্রাক্তনীরা
হাইলাইটস
  • কোভিড মোকাবিলায় স্কুলের প্রাক্তনীরা মিলে তৈরি করেছেন টাস্ক ফোর্স
  • পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার, ওষুধ থেকে শুরু করে অক্সিজেন
  • কলকাতার নব নালন্দা স্কুলের প্রাক্তনীরা

কোভিড মোকাবিলায় স্কুলের প্রাক্তনীরা মিলে তৈরি করেছেন টাস্ক ফোর্স। পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার, ওষুধ থেকে শুরু করে অক্সিজেন। কোথায় কোন পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছেন, বাতলাচ্ছেন তা-ও। কলকাতার নব নালন্দা স্কুলের প্রাক্তনীরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

ওই স্কুলের প্রাক্তনীদের সংগঠন 'নব নালন্দা অ্য়ালামনি অ্য়াসোসিয়েশন'। তারা কোভিড মোকাবিলায় একজোট হয়েছে। তৈরি করেছেন 'কোভিড ভলান্টিয়ার টাস্ক ফোর্স জি'। ইংরেজি শব্দ ইউ মানে আমরা থেকে জি। দেখে নেওয়া যাক তাঁরা কী কী সাহায্য করছেন।

করোনার পরীক্ষা
মানুষকে কোভিড পরীক্ষার জন্য সাহায্য করা হচ্ছে। কোথায় হচ্ছে, কোন পরীক্ষাগারে করা হচ্ছে, সে ব্য়াপারে জানানো হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে এসে নমুনা নয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা, তা-ও জানানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।

তাদের স্কুলের আশপাশে রয়েছেন বেশ কিছু প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ। এমন হয়েছে, তাঁদের কারও কারও উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তবে পরীক্ষা করতে রাজি নন। এর একটা কারণ যেমন অর্থের অভাব, দ্বিতীয় কারণ সামাজিক। একঘরে হয়ে থাকতে হবে যেন! তাঁদের বুঝিয়ে রাজি করানো হয়েছে।

খাবার
খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছেন তাঁরা। রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন, কোথাও দু'বেলা, আবার কোথাও তিন বেলা। আংশিক লকডাউনের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন।

অক্সিজেন এবং প্লাজমা
অক্সিজেনের জন্য অনেক সংস্থার সঙ্গে কথা বলা। অক্সিজেনের সিলিন্ডার, কনসেনট্রেটর জোগাড় করা হয়েছে। প্রাক্তনীদের মধ্যে অনেক চিকিৎসক রয়েছেন। তাই কাজ আরও জোর কদমে হচ্ছে। 

ব্লাড ব্য়াঙ্কর সঙ্গে কথা বলে রাখা ছিল যদি কারও প্লাজমা দরকার পড়ে। তবে প্লাজমার সাহায্যে চিকিৎসা এখন আর মান্যতা পাচ্ছে না।

কোন কোন এলাকায় পরিষেবা দিচ্ছেন
মূলত স্কুলের আশপাশের এলাকায়। ওই স্কুল সাদার্ন অ্যাভিনিউ এলাকায়। সেখানে তো বটেই, এর পাশাপাশি ঢাকুরিয়া, রাসবিহারী, ভবানীপুর এলাকায় পরিষেবা।

টিকা
টিকার ব্য়াপার মানুষকে জানানোর কাজও করছেন। অনেক প্রবীণ মানুষ টিকার নেওয়ার সময় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়েছেন। তাঁরা মোবাইল ব্যবহারে সড়গড় নন। তাঁদের নাম নথিভুক্তি করার কাজে হাত লাগিয়েছেন।

শুরু কোথা থেকে
স্কুলেরই এক প্রাক্তনী ধৃতিমান সেনগুপ্ত। তিনি স্কুলের পাশেই থাকেন। বেসরকারি সংস্থার কর্মী। একদিন পাড়ায় তাঁরা গল্প করছিলেন। তখন তাঁর কাছে ফোন আসে করোনা আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসার জন্য সাহায্য দরকার। তখন তাঁর মাথায় আসে, এমন সমস্যায় তো আরও অনেকে পড়তে পারেন। তাই বন্ধুবান্ধব-সিনিয়র-জুনিয়র মিলে শুরু করে দিয়েছেন কাজ।

এই কাজে যুক্ত ৫০০-র বেশি মানুষ। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ- দু'ভাবেই। স্কুলের প্রাক্তনীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন দুনিয়ার নানা প্রান্তে। ভিন রাজ্য, বিদেশ থেকে সাহায্য পাঠাচ্ছেন। যে যার মতো করে এগিয়ে আসছেন।

আরও 
আমফানের পর কলকাতায় গাছ লাগানোর কাজ শুরু করেছিলেন তাঁরা। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-এর পর সুন্দরবনে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন।