
দিল্লির রোহিণী আদালতে শুটআউটDelhi Rohini Court Shootout: দিল্লির রোহিণী আদালতে গোলাগুলি! দুষ্কৃতীদের মধ্যে গুলির লড়াই। গ্যাংস্টার জিতেন্দ্র ওরফে গোগীকে মারার জন্য হামলা চালানো হয়। তাঁকে খুন করা হয়েছে। মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে দেশে।
স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো ঘটনা
একের পর এক গুলি চলছে। আওয়াজে কেঁপে উঠছে আদালত চত্ত্বর। কোনও সিনেমার শুটিং হচ্ছে না। এটা ছিল শুক্রবার দুপুরের রোহিণী আদালত। তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এদিন জিতেন্দ্র ওরফে গোগীকে আদালতে পেশ করা হয়েছিল। আর তখনই চলে হামলা। এই ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: The National Flag of India : জাতীয় পতাকায় পরিবর্তন চেয়েছিলেন সত্যজিৎ, কারণ জানেন?
গোগীর মাথার দাম
কুখ্যাত দুষ্কৃতী জিতেন্দ্র ওরফে গোগী। দিল্লি পুলিশ তার মাথার দাম ধরেছে ৪ লক্ষ টাকা এবং হরিয়ানা পুলিশ ২ লক্ষ। হরিয়ানার গায়িকা-নর্তকী হর্ষিতা খুনের মামলায় গোগীর নাম রয়েছে। এর আগে তার কাছ থেকে ৬টি অটোমেটিক বদেশি পিস্তল, ৭০-র বেশি কার্তুজ, পশ্চিম বিহার থেকে লুঠ হওয়া একটি গাড়ি উদ্ধার হয়েছিল।
আইনজীবীর পোশাকে
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাক পরে এসেছিল। তারা দু'জন ছিল। সেখানে তারা গ্যাংস্টার গোগীর ওপরে হামলা চালায়। স্পেশাল সেলের টিম তাকে কোর্ট রুমে নিয়ে গিয়েছিল। আর সেখানেই ওই ঘটনা ঘটেছে।
বলা হচ্ছে, দিল্লির টিল্লু গ্য়াং জিতেন্দ্রকে খুন করেছে। যে দু'জন মারা গিয়েছে তার মধ্যে একজনের নাম রাহুল। তার মাথার দাম ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় জনও দুষ্কৃতী ছিল।
এক আইনজীবী জানান, ওই দুষ্কৃতীর ওপর হামলা হয়। তারপর পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। আদলতে বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।
২০২০ সালে গ্রেফতার নিহত গ্য়াংস্টার
জিতেন্দ্র গোগীকে গুরুগ্রাম থেকে ২০২০২ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার সঙ্গে কুলদীপ ফজ্জাকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে পরে সে পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়। সে সময় ফজ্জা ভর্তি ছিল জিটিবি হাসপাতালে।

পরে তার এনকাউন্টার হয়। ফজ্জা দিল্লির অন্যতম সেরা কলেজ থেকে লেখাপড়া করেছিল। সে কিরোড়ীমল কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে অনার্সে সেরা হয়েছিল। তবে জীবন তার জন্য অন্য কিছু নিয়ে হাজির ছিল।

মামুলি ঝগড়া বদলে দিল জীবন
সেটা ২০১৩ সালের ঘটনা। তার গ্রামে এক ছোট ঝামেলা হয়। সে জড়িয়ে পড়ে সেখানে। সেটাই যেন শুরু। তারপর থেকে পুলিশের সঙ্গে দৌঁড় যেন লেগেই ছিল। ওই ঝগড়ার পর অপরাধ জগতের সঙ্গী হয়ে ওঠে সে। আর পেন চলেনি। তার বন্দুক কথা বলছিল। আর তারপর তারি বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা যুক্ত হয়। খুন, লুঠপাট-সহ আরও বিভিন্ন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ যা জানাচ্ছে
দিল্লির পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্থানা জানান, দুষ্কৃতীরা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করেছে। দু'জন আইনজীবীর পোশাকে এসেছিল। পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ৩ জন মারা গিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। পুলিশ সতর্ক ছিল।