scorecardresearch
 
 

Newtown Encounter: 'কানে এখনও গুলির শব্দ বাজছে', হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী

পেশায় কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী অভিজিৎবাবু বললেন, 'বি১৭০-২০১--এ থাকি আমি। ঘটনাটা ঘটেছে বি১৫৩-২০১-এ। তখন বিকেল চারটে বা চারটে পনেরো হবে। আমি লাঞ্চ করে ল্যাপটপ নিয়ে কাজে বসেছি। তখনই আবাসনেরই একজন আমাকে ফোন করলেন। বললেন, বাইরে এসে দেখো কী হচ্ছে! গুলি চলছে! বিপজ্জনক অবস্থা। একথা শুনেই আমি জানালা খুলি। দেখি ছুটোছুটি শুরু হয়ে গিয়েছে।'

নিউটাউন এনকাউন্টার নিউটাউন এনকাউন্টার
হাইলাইটস
  • সাপুরজি আবাসনে কাল ঠিক কী হয়েছিল?
  • অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সেই আবাসনের বাসিন্দা অভিজিৎ রায়

গতকাল সাপুরজি আবাসনে দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে এনকাউন্টারে খতম করেছে রাজ্য পুলিসের STF। পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত দুই দুষ্কৃতীর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, গুলি। নিহত দুইজন জয়পাল ভুল্লার ও জসপ্রিৎ সিং ওরফে জসসি খারার আদতে পঞ্জাবের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার।

গতকাল এই এনকাউন্টারের পর থেকে খবরের শিরোনামে রয়েছে এই ঘটনা। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? aajtak-indiatoday-কে জানালেন সাপুরজি আবাসনের বাসিন্দা অভিজিৎ রায়। 

পেশায় কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী অভিজিৎবাবু বললেন, 'বি১৭০-২০১--এ থাকি আমি। ঘটনাটা ঘটেছে বি১৫৩-২০১-এ। তখন বিকেল চারটে বা চারটে পনেরো হবে। আমি লাঞ্চ করে ল্যাপটপ নিয়ে কাজে বসেছি। তখনই আবাসনেরই একজন আমাকে ফোন করলেন। বললেন, বাইরে এসে দেখো কী হচ্ছে! গুলি চলছে! বিপজ্জনক অবস্থা। একথা শুনেই আমি জানালা খুলি। দেখি ছুটোছুটি শুরু হয়ে গিয়েছে। ততক্ষণে এনকাউন্টার খতম। তবে ছুটোছুটি থামেনি। আমরা তো সবাই ভয়ে ঘরের বাইরে বেরোতেই পারছিলাম না। আমি নিজের চোখে গোটা ঘটনা দেখিনি। তবে আবাসনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে যা জানতে পারলাম, যেখানে ওই দুই গ্যাংস্টার ছিল সেই বি১৫৩-২০১-তে এসটিএফ গিয়েছিল ব্রোকারকে সঙ্গে নিয়ে। মানে যারা এই আবাসনের ফ্ল্যাট ভাড়া দেয় আর কী। তারপরই শুটআউট। ঘরের ভিতরেই দুজন মারা যায়। তবে বাইরেও গুলি চলেছে। কেন সেটা বলতে পারব না। শুনলান ২০ রাউন্ডেরও বেশি গুলি চলেছে।' 

অভিজিৎ রায় সাপুরজি আবাসনের বাসিন্দা
অভিজিৎ রায় সাপুরজি আবাসনের বাসিন্দা

অভিজিৎবাবু বলে চলেন, 'আমি জানলা থেকে মুখ বাড়িয়েই দেখতে পেলাম, আমাদের আবাসন চত্বরে পুলিশের ভিড় বাড়তে শুরু করল। ঘন ঘন পুলিশের গাড়ি আসছিল। একাধিক আধিকারিক। মহিলা ও সাদা পোশাকের পুলিশ ঘিরে ফেলল গোটা এলাকা। এসটিএফ তো আগে থেকেই ছিল। তখন তো আমরা জানতাম না, দুজন গ্যাংস্টারকে মারা হয়েছে। তবে অত পুলিশ দেখে বুঝতে বাকি রইল না, বড় কিছু হয়েছে। কিছুক্ষণ পর দেখলাম সিআইডি আধিকারিকরা এলেন। সন্ধের দিকে এল বোম স্ক্যয়াড। তখন আরও একপ্রস্থ আতঙ্কিত হওয়ার পালা। বোম-টোম নেই তো? অজানা ভয় মনের মধ্যে কাজ করছিল। একসময় বোম স্ক্যয়াডও বেরিয়ে গেল। একটু নিশ্চিন্ত হলাম।' 

'পুলিশের গতিবিধি, পরিবেশ দেখে বুঝলাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তখন আমরা অনেকেই নিচে গেলাম। তবে যে ফ্ল্যাটে শুটআউট হয়েছিল, সেখানে কাউকে ঘেঁষতে দেয়নি পুলিশ। এভাবে উদ্বেগ ও  উত্তেজনায় সময় কেটে যাচ্ছিল। তারপর রাত একটা নাগাদ দুটো বডি সেখান থেকে নিয়ে গেল পুলিশ। তবে তারপরও গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছিল। আজ সকালেও দেখলাম পুলিশ রয়েছে আবাসন চত্বরে।' 

আবাসনের বাইরে এখনও পুলিশি নিরাপত্তা
আবাসনের বাইরে এখনও পুলিশি নিরাপত্তা

সাপুরজি আবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে অভিজিৎবাবু বললেন, 'আসলে এটা বিশাল একটা জায়গা। কয়েক হাজার মানুষ এখানে বাস করে। শুধু যে বাঙালি থাকে তা নয়। বিদেশিরাও থাকে। তাই কে কখন এল, গেল সেটা আমরা বুঝতে পারি না। মূল গেটে নিরাপত্তারক্ষী আছে কিন্তু, তারপরও তো এসব হচ্ছে। আমরা চাইব এই এলাকার নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হোক।' 

আপনারা কতটা আতঙ্কিত? প্রশ্নের উত্তরে অভিজিৎবাবু জানালেন, 'আমাদের নাকের নিচে এমন হবে তা তো কোনওদিন ভাবিনি। আর আতঙ্কিত থাকাটাই স্বাভাবিক। প্রত্যেকের পরিবার-পরিজন রয়েছে। মেয়েরাও আতঙ্কিত। তারা এখনও কালকের আতঙ্কের রেশ কাটিয়ে  উঠতে পারেনি। আমাদেরও ভয় রয়েছে। প্রাণের ভয় কার না থাকে বলুন? আর কে গ্যাংস্টার, কে নয়, সেটা তো মুখ দেখে চেনা যায় না! গতকালকের অভিজ্ঞতা জীবনে একটা শিক্ষা হয়ে থেকে গেল। যতদিন বেঁচে থাকব মনে রাখব। এরকম ঘটনা তো আগে দেখিনি। আগে ভাবতাম, সিনেমাতেই এসব সম্ভব। এখন দেখছি, বাস্তবেও হয়ে থাকে। যাক বাবা, আর যেন এমন না হয়।'