২০১৩ সালে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছিল প্রদীপ ঝার। তিনি একসময় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক ও রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের ঠিক দু'দিন আগেই হাড়হিম হত্যাকাণ্ড উত্তর ২৪ পরগনায়। মধ্যমগ্রামে আততায়ীদের গুলিতে নিহত চন্দ্রনাথ রথ। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করা হয়েছে। রাত ১০টা থেকে ১০টা ১৫-এর মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তারপর ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে সিট গঠন করে তদন্তও শুরু হয়েছে। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর থেকে কী কী ঘটল এখনও পর্যন্ত চলুন জেনে নেওয়া যাক।
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা দুষ্কৃতীরা কারা? কারা খুন করে পালালো? খুনের পিছনে কী কারণ? তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনায় সিট গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বারাসাত হাসপাতালে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি বলেন, ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে। পারে না এমন কোনও কাজ নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রথ মধ্যমগ্রাম এলাকা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল তাঁকে ধাওয়া করতে শুরু করে। জানা গেছে, ধাওয়াকারী গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়িকে ওভারটেক করে, যার ফলে তিনি গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হন। এরই মধ্যে, বাইকে আসা হামলাকারীরা খুব কাছে এসে প্রায় চার রাউন্ড গুলি চালায়। চন্দ্রনাথ রথের বুকে, পেটে ও মাথায় গুলি লাগে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হামলায় গাড়ির চালকও আহত হন এবং কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় আততায়ীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হন শুভেন্দু অধিকারীর আত্মসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর বুকের বাঁ দিকে দুটো গুলি লেগেছে।। ফলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্বাভাবিকভাবেই চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে চন্দ্রনাথের পাড়ায়। যদিও ছেলের আততায়ীদের ফাঁসির দাবি করছেন না চন্দ্রের মা হাসিরানি রথ। তিনি বলেন, 'আমি চাই দোষীদের শাস্তি হোক। আমি একজন মা, আমি চাই না তাদের ফাঁসি হোক। আমি তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই।
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন। এই ঘটনা মনে করাচ্ছে অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনা। অর্জুন সিংয়ের 'ডান হাত' বলা হত তাঁকে। তিনিও ঠিক একইভাবে খুন হন। যারা খুন করেন তারা গ্রেফতার হলেও কার অঙ্গুলিহেলনে এই খুন তা নিয়ে ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে।
Suvendu Adhikari on PA Murder: 'পরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথার খুন।' হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এমনটাই বললেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মধ্যমগ্রামে শুভেন্দুর PA চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত ভিভা সিটি হাসপাতাল চত্বর। রাত ২টো নাগাদ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
Suvendu Adhikari Aide Shot: মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্ত এবং স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরিকল্পনা করেই টার্গেট করা হয়েছিল শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে।
মধ্যমগ্রামে গুলিতে নিহত শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক(PA) চন্দ্রনাথ রথ। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে তাঁকে গুলি করা হয়। তিনি সেই সময় একটি স্করপিও গাড়িতে যাচ্ছিলেন।
ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে দিকে দিকে তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর, আগুন লাগানোর মতো ঘটনা ঘটছে। টুকরো টুকরো হিংসার ঘটনা উঠে আসছে। পিটিআই-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছে সোমবার দুপুর থেকে টালিগঞ্জ, বারুইপুর, কামারহাটি, বরাহনগর, বহরমপুর, হাওড়া ও কসবায় তৃণমূলের কার্যালয়গুলিতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এরই মধ্যে এক তৃণমূল কর্মীর দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রবিবার সকালে শহরের নেতাজিপল্লী এলাকায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের তিন যুবককে হাতেনাতে পাকড়াও করল স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত জনতা তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে গণধোলাই দেয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।