scorecardresearch
 
 

বাবা অফিসার, মা শিক্ষিকা, ছেলে ইংরেজিতে এম.এ, পেশা চুরি! তাজ্জব পুলিশ

একটি চুরির কিনারা করতে গিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল হাওড়ার সাঁকরাইল থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হল আসানসোলের বাসিন্দা ওই চুরিচক্রের মূল পান্ডা সৌমাল্য চৌধুরি-সহ মোট তিনজনকে।

চুরি, চোরাই মাল কেনার অভিযোগ ধৃত সৌমাল্য চৌধুরি, প্রকাশ শাসমল এবং মাধব সামন্ত। ছবি: হিমাদ্রী ঘোষ চুরি, চোরাই মাল কেনার অভিযোগ ধৃত সৌমাল্য চৌধুরি, প্রকাশ শাসমল এবং মাধব সামন্ত। ছবি: হিমাদ্রী ঘোষ
হাইলাইটস
  • বাবা সরকারি অফিসার ছিলেন
  • মা ছিলেন শিক্ষিকা
  • ছেলে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিল চুরিকে

বাবা সরকারি অফিসার ছিলেন। মা ছিলেন শিক্ষিকা। ছেলের কুকীর্তির কথা জানতে পেরে তিনি আত্মঘাতী হন। এতেও শোধরায়নি ছেলে। নিজে লেখাপড়া কম করেনি। ইংরেজি এমএ করেছেন। তবে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিল চুরিকে।

একটি চুরির কিনারা করতে গিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল হাওড়ার সাঁকরাইল থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হল আসানসোলের বাসিন্দা ওই চুরিচক্রের মূল পান্ডা সৌমাল্য চৌধুরি-সহ মোট তিনজনকে।

পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় দশ লক্ষ টাকা দামের সোনার গয়না। অনেক দিন ধরেই এই কারবার চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌমাল্য চৌধুরি ইংরেজিতে এমএ পাশ। কিন্তু চুরি করাই তার নেশা। এটাকে পেশা হিসেবেই বেছে নেয় সে। আসানসোল, হাওড়া, হুগলি জেলায় কমপক্ষে কুড়িটি চুরির ঘটনায় সে যুক্ত। এমনই অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সৌমাল্য চুরি করাকেই পেশা করে নেয়। একবার আসানসোল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কয়েকমাসের জন্য জেল খেটে ছাড়া পায় সে। তারপরও নিজের কাজ চালিয়ে গিয়েছে।

অভিযোগ, চলতি মাসের ৯ তারিখ হাওড়ার সাঁকরাইল থানার অন্তর্গত দুইলা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় দশ ভরি সোনার গয়না চুরি করে চম্পট দেয় সে। স্কুটি করে পালানোর সময় ফ্ল্যাটের এক আবাসিক স্কুটির নম্বর লিখে নেন।

এই নম্বরের সূত্র ধরেই পাঁশকুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় সৌমাল্য চৌধুরি ও তার এক শাগরেদ প্রকাশ শাসমলকে। এরপর পশ্চিম মেদিনীপুর এর দাসপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মাধব সামন্তকে।

এদিন হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি সাউথ প্রতীক্ষা ঝাকরিয়া জানান, মাধব সামন্তকে চুরির মাল বিক্রি করেছিল এরা। হাওড়াতে বিভিন্ন এলাকায় ন'টি চুরি করেছে অভিযুক্তরা।

এদের আজ, রবিবার হাওড়া আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। অনুমান বাকি চুরির ঘটনার কিনারা করা যাবে।

চোরের বাবা ছিলেন পূর্ত দফতরের প্রাক্তন অফিসার। চোর নিজে ইংরেজিতে এমএ। হাওড়া শহরে একের পর এক ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় প্রধান 'নায়ক'। যদিও শেষ রক্ষা আর হল না। ধরা পড়ল পুলিশের হাতে।