বিহার থেকে মিনারেল ওয়াটারের ছদ্মবেশে আসত ‘বিষ’। উদ্ধার হল প্রায় ২ কোটি টাকার নিষিদ্ধ অক্সিটোসিন ইনজেকশন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লখনউতে অভিযান চালায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (UP STF)। এই ঘটনায় ৪ জন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় বিহারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
STF সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফর খেলড়া এলাকার একটি সরকারি স্কুলের কাছেই চলছিল এই অবৈধ কারখানা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালায় STF এর টিম। উদ্ধার হয় ২০ গ্যালন (এক গ্যালন মানে ৫ লিটার) অক্সিটোসিন ইনজেকশন। পুরো ঘাঁটি জুড়ে ছড়িয়ে প্যাকিং মেশিন, খালি বোতল, ক্যাপ, মোবাইল ফোন এমনকি ক্যাশ টাকাও।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বাজারমূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা। তদন্তে উঠে এসেছে, বিহার থেকে মিনারেল ওয়াটারের নামে হাই ডেনসিটি অক্সিটোসিনের ড্রাম আনত এই চক্র। পরে এই বিপজ্জনক ইনজেকশন লখনউ সহ আশপাশের জেলাগুলিতে পাচার হত।
এই ইঞ্জেকশন দিয়ে ঠিক কী করা হয়?
সাধারণত গবাদি পশুর দুধের পরিমাণ বাড়াতে, এমনকি কৃষিক্ষেতে সবজি ও ফল দ্রুত বাড়াতেও এই ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয়। যদিও তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ইঞ্জেনকশন জাত খাবার খেলে মানুষের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসরা।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এই অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, একাধিক রাজ্যে এই চক্রের জাল ছড়িয়ে থাকতে পারে।
২০০১ সাল থেকেই অক্সিটোসিন ইনজেকশন বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, কেবল ব্লিস্টার প্যাকে এই ওষুধের লেনদেন বৈধ। কিন্তু এই চক্র মিনারেল ওয়াটারের বোতলে ভরে বাজারে অক্সিটোসিন ছড়াচ্ছিল।
বাজেয়াপ্ত ইনজেকশনগুলির স্যাম্পল ল্যাব টেস্টিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। দ্রুত রিপোর্ট আসবে বলে জানিয়েছেন কর্তারা।
STF জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাচারচক্রের গোটা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, দিনের পর দিন এত বড়সড় কারখানা চালু ছিল অথচ কেউ জানতে পারেনি। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া চক্রের সঙ্গে একাধিক রাজ্যের পাচার নেটওয়ার্ক যুক্ত থাকতে পারে।