
ককরোচদের ডাকা যন্তর মন্তর অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি। শনিবার সকাল থেকেই অ্যাকশন মোডে দিল্লি পুলিশ। দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২০০০ জন প্রতিবাদীকে আটক করেছে তারা। তালিকায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, AISA নেত্রী নেহা বোরা যেমন রয়েছেন। তেমনই রয়েছেন ৩ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। এদিন সকালে মুম্বই থেকে দিল্লিতে ফ্লাইট ল্যান্ড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ফ্লাইটে ঢুকে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

AISF, SFI এবং CPIM কর্মীরা মিছিল করে কনট প্লেস হয়ে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ব্যারিকেড পেরিয়ে যায়। আটক করে পুলিশ। দিল্লিতে CPIM-এর একে গোপলন ভবনের বাইরেও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আটক করা হয় CPIM-এর সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, প্রাক্তন মন্ত্রী কেকে শৈলজা, CPIM-এর পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাট, রাজ্যের বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়দের।

দিল্লিতে যন্তর মন্তর অভিযানে প্রথমসারিতে ছিল SFI শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রতিবাদে নেমে আটক হন SFI-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ।

জায়গা বদলে যন্তর মন্তরের বদলে দিল্লি হাটে বিক্ষোভে নামেন AISA নেত্রী নেহা বোরা। সেখানে তাঁর সঙ্গে মিছিলে হাঁটেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব। কিন্তু সেই মিছিলও থামিয়ে পুলিশ তাঁদের সকলকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

অভিজিৎ দীপকে জানিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, সংগঠনের তিন শীর্ষ নেতা আটক হলে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্ডে। তিনি পথে নেমেই বলেন, 'পুলিশ আমাদের যেখানে আটকাবে, সেটাই হয়ে উঠবে আমাদের যন্তর মন্তর।'

১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থার চেয়েও দেশের পরিস্থিতি খারাপ বলে অভিযোগ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিজিৎ বলেন, ‘জরুরি অবস্থার সময়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও এমন করেননি।’

যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে আটক হয়েছিলেন আইনজীবীরা। কিছুক্ষণ আটক থাকার পরে অবশেষে মুক্তি পেলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। আটক হওয়া আইনজীবীদের ছাড়াতে হস্তক্ষেপ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

মুম্বইয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয় মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকেও। CJP-র সমর্থনে অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। তার আগেই তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় ডিএন নগর থানায়।

আন্দোলন শুরুর প্রথমেই এদিন সকালে গুরুগ্রামে বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে।

দিল্লিতে সাউথ অ্যাভিনিউতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে আটক হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রতিবাদে তিনি মুখে ব্যান্ড-এইড আটকে নেন। বলেন, 'ঠিক যেন কিডন্যাপিং করার মতো আমাদের তুলে নিয়ে এল।' তাঁর সঙ্গে আটক ডেরেক ও'ব্রায়েন, দোলা সেনরাও। এদিকে, CPIM-এর সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবিকেও টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ।

কাউকে টেনে হিঁচড়ে, কারও জামা ধরে তুলে প্রিজন ভ্যানে ভরা হয়। দিল্লি পুলিশের অ্যাকশনে ছত্রভঙ্গ হয় আন্দোলনকারী 'ককরোচরা'।