
ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' আরও শক্তি বাড়াল। IMD-এর শেষ পাওয়া আপডেট অনুযায়ী, এই সাইক্লোনের সর্বোচ্চ স্পিড উঠতে পারে ১৫০ কিমি প্রতিঘণ্টা। আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্তও যা ছিল ১৪০ কিমি প্রতিঘণ্টা। অর্থাত্ দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে অর্ণব।

ইতিমধ্যেই ওড়িশায় উপকূলীয় এলাকায় ৪৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। ওড়িশা সরকারের স্পেশাল রিলিফ কমিশনার রাজেশ পি পাতিল জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরানো হয়েছে গজপতি ও নবরংপুরে। দুই জেলায় ১১ হাজার করে মানুষকে সরানো হয়েছে। এছাড়াও মালকানগিরি, গঞ্জম, কোরাপুট, কালাহান্ডি ও নুয়াপাড়াতেও উদ্ধারকাজ চলছে।

IMD-র সাইক্লোন ওয়ার্নিং সেন্টারের ডিরেক্টর পিএলএন মূর্তি জানিয়েছেন, ' বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম অংশে অবস্থানরত একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ঘণ্টায় ২৩ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। আজ রাত ২টো ৩০ মিনিটে সেটি আরও শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। প্রথমে এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই এটি ইয়ানমের কাছে বাপতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।'

মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এবং উপকূলের বিভিন্ন বন্দরে জারি করা সতর্কতা সম্পর্কে তিনি আরও জানান, মৎস্যজীবীদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে । ৩০ তারিখ সকাল পর্যন্ত তাঁরা যেন মাছ ধরতে সমুদ্রে না যান।

বন্দরের সতর্কতার ক্ষেত্রে কাকিনাড়া বন্দরে গ্রেট ডেঞ্জার ১০ (GD-10) সঙ্কেত জারি করা হয়েছে। একইভাবে বিশাখাপত্তনম ও গঙ্গাভরম বন্দরে GD-9 এবং মছলিপত্তনম ও নিজামপত্তনম বন্দরে গ্রেট ডেঞ্জার ৮ (GD-8) সঙ্কেত জারি করা হয়েছে। কলিঙ্গপত্তনম, কৃষ্ণপত্তনম ও ভদারেভু বন্দরে লোকাল কশনরি ৩ (LC-3) সতর্কতা জারি রয়েছে।

IMD-র আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি হতে পারে, যেখানে ল্যান্ডফল হবে, সেই জায়গা থেকে কম করে ১০০ কিমি দূর পর্যন্ত ধ্বংসলীলা চালাতে পারে। তাই সেই ভাবেই সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

ইতিমধ্যেই বিশাখাপত্তনম সহ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গেও। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া চলবে।

দক্ষিণবঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমানে ২৮ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এছাড়া কলকাতায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণব-এর ল্যান্ডফল হবে বিশাখাপত্তনম ও বাপতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে।

তাই ঝড়ের তাণ্ডবলীলা পশ্চিমবঙ্গে হবে না। অর্থাত্ পশ্চিমবঙ্গে শুধুই বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইবে। ২৮ অক্টোবর বেলার দিকে ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা প্রবল।